ক্যান্টনমেন্ট দখল হলো না কেন?

আগের সংবাদ

হোম কোয়ারেন্টাইন চিহ্নিত করতে স্থায়ী সিল

পরের সংবাদ

স্মৃতির পাতায় বঙ্গবন্ধু ও আজকের বরিশাল

এম. মিরাজ হোসাইন, বরিশাল

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৭, ২০২০ , ৩:৪০ অপরাহ্ণ

বৃহত্তর বরিশাল ঘিরে স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ স্মৃতি রয়েছে। অনুসন্ধানে এ বিষয়ে বেরিয়ে এসেছে নানা অজানা তথ্য।

সূত্রমতে, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বরিশালে এসে সদর রোডের পাশের সরু গলিতে সঙ্গীদের নিয়ে হাঁটছিলেন। গলিটির নাম অনামী লেন। জগন্নাথ দেবের মন্দির থেকে সোজা উল্টো দিকে তিনি হেঁটে চলেন। গন্তব্য দক্ষিণে, যেখানে প্রয়াত কাজী মোতাহার হোসেনের বাড়ি। সেই বাড়িটি ছিল এক আইনজীবী রাজনীতিকের। বাড়িটিতে অবস্থান করছিলেন সীমান্ত গান্ধী গাফফার খান। বাড়িতে প্রবেশের খানিক আগে একটি বাড়ির সামনে গিয়ে থমকে দাঁড়ান বঙ্গবন্ধু। বাড়িটির অবয়ব এখনো কিছুটা রয়েছে। বাড়িটির সাইনবোর্ড দেখে বিস্ময়ে সঙ্গীদের দিকে তাকান তিনি। জানতে চান, হক কুটির! মানে হক সাহেবের (শেরেবাংলা) বাড়ি এটি? সঙ্গীরা না সূচক জবাব দিলে বঙ্গবন্ধু চলে যান সীমান্ত গান্ধীর উদ্দেশে।

১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবার বরিশালে আসেন। তখন সাধারণ নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে বঙ্গবন্ধু বরিশালে পাঁচদিনের সফরে এসেছিলেন। স্বাধীনতার আগে বঙ্গবন্ধু যতবার বরিশালে এসেছেন, ততবারই নগরীর কালীবাড়ি সড়কে বোন আমেনা খাতুনের অর্থাৎ সাবেক মন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়িতে অবস্থান করতেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের বর্ণনায় জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারে এসে নদী-নালার দেশ বরিশালের গ্রামগঞ্জে ঘুরে বেড়ান বঙ্গবন্ধু। বর্তমান সেটেলমেন্ট (জোনাল) অফিসের সামনে ছিল লঞ্চ টার্মিনাল। সেখান থেকে হাইস্পিড কোম্পানির দেয়া নৌযান ‘পাঁচগাও’তে চেঁপে বঙ্গবন্ধু ঘুরে বেড়িয়েছেন পাড়া-মহল্লায়। শহরে তিনি ঘুরতেন ব্যবসায়ী জালাল আহম্মেদের লাল রঙের একটি গাড়িতে।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে বরিশালে এসেছিলেন। ওই বছরের ১ জানুয়ারি বরিশালের একটি জনসভায় ভাষণ দেন। একইদিন তখনকার জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা স্থানীয় বেলস পার্ককে ‘বঙ্গবন্ধু উদ্যান’ হিসেবে নামকরণ করেন। সেই থেকে বেলস পার্ক ‘বঙ্গবন্ধু উদ্যান’ হিসেবে পরিচিত। একইদিন সকালে বরিশালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই ভিত্তিফলকেই প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেন শহরের বাংলাপ্রিয় মানুষ। বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন মাঠের মাঝে ছিল সেই ভিত্তিপ্রস্তরটি।

নগরীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজল ঘোষ বলেন, ধান-নদী ও খালের অবহেলিত বরিশালের উন্নয়ন নিয়ে সর্বদা স্বপ্ন দেখতেন বঙ্গবন্ধুর বোন জামাতা সাবেক মন্ত্রী ও কৃষকনেতা আবদুর রব সেরনিয়াবাত। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বঙ্গবন্ধু বরিশালবাসীর জন্য অসংখ্য উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ পরিবারের সদস্যরা ঘাতকদের বুলেটে শহীদ হন। এরপর দীর্ঘদিন আটকে ছিল বরিশালবাসীর ভাগ্যের চাকা। থেমে থাকে উন্নয়ন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এলাকার অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্পগুলো খুবই দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেন বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর জ্যেষ্ঠপুত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর নগরবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করছেন তিনি।

এমএইচ