দুই মার্কিন নাগরিককে শাহজালাল থেকে ফেরত 

আগের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ডাকসুর শ্রদ্ধা নিবেদন

পরের সংবাদ

কোলকাতার রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু

হাসানুর রশীদ

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৭, ২০২০ , ১:৫৪ অপরাহ্ণ

রাজনীতিতে ছিলেন সর্বজন পরিচিত একটি উজ্জ্বল মুখ। তিনি কোলকাতায় লেখা-পড়ার উদ্দেশ্যে গমন করলেও একসময় সেখানে তিনি হয়ে ওঠেন ছাত্র ও যুব নেতা রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকা-ে নিবেদিত প্রাণ। ফলে দেখা যায়, কলেজের ছাত্রদের সুখ-সুবিধা-অধিকার প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ, দাঙ্গা প্রতিরোধসহ সমকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও ছাত্রনেতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অগ্রপথিক।

পঞ্চাশের দশকের শুরুর দিকে কোলকাতার রাজনীতি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিঘাত-উৎকণ্ঠায় তাড়িত ছিল। সে সময় জাপানের বোমার আঘাতে জর্জরিত হতে হয় কোলকাতাবাসীকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অগ্নিদাহ, ব্রিটিশ সরকারের বিপক্ষে আন্দোলন-বিপ্লব ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত কোলকাতার জনজীবনকে করে তুলেছিলো বিক্ষুব্ধ-বিপর্যস্ত। তার সাথে যুক্ত হয় ১৯৪৩ সালের ভয়াবহ খাদ্য সংকট দুর্ভিক্ষ। এই জটিল ও মানবেতর প্রেক্ষাপটে ভারতবর্ষে চলেছে রাজনীতির নির্মম খেলা। বাংলার মুসলিম লীগ সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রদেশের কংগ্রেস সরকার কূটকৌশল করেছে নিষ্ঠুরভাবে। কর্ডন আইনকে উপলক্ষ করে ভারতের অন্য প্রদেশ থেকে বাংলায় খাদ্য-আনয়ন কর্মকা-কে বাধাগ্রস্ত করেছে। ফলে খাদ্যাভাবে অসংখ্য মানুষকে প্রাণ দিতে হয়। এ সব ঘটনা বাঙালি-মুসলিম মানসে প্রবল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। এই অস্থিতিশীল ও জটিল সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোলকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন এবং রাজনীতির সাথে যুক্ত হন।
ত্রিশের দশক থেকেই মূলত বাংলার গ্রামীণ মধ্যবিত্ত সমাজে ব্যাপকভাবে রাজনৈতিক জাগরণ ঘটে। চল্লিশের দশকে সে জাগরণ ভিন্ন মাত্রা লাভ করে। এর মূলে ছিল ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন। এ আইনে নির্বাচনের ক্ষেত্রে শহরের চেয়ে কল্পনাতীত গুরুত্ব লাভ করে গ্রামীণ সমাজ। নির্বাচনী আসন মফস্বল কেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। ফলে রাজনৈতিক নেতাদের গ্রামের সাধারণ মানুষের দ্বারস্থ হতে হয়। কাজেই নির্বাচন ও ক্ষমতা কেন্দ্রিক সংগঠন মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ ১৯৪৬ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনকে সামনে রেখে সমগ্র বাংলার গ্রামীণ মুসলিম জনপদে নবজাগরণ সৃষ্টি করার অনমনীয় প্রত্যয়ে উঠে-পড়ে লেগেছিলেন। সে গণজাগরণ সৃষ্টির মূল কেন্দ্রে ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
এ সময় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিম সমগ্র বাংলায় মুসলিম সমাজের জাগরণ আনয়নে প্রায় আটশ সভা-জনসভা করেন। সে সময় মুসলিম লীগের প্রধান কার্যালয় ছিল কোলকাতার ওয়েলেসলি ফাস্ট লেনের ৩ নম্বর বাড়িতে। এ সময় বঙ্গবন্ধু মুসলিম লীগের প্রতি জনমত সৃষ্টিতে সোহরাওয়ার্দীর উদ্যোগের সাথে সার্বক্ষণিকভাবে যুক্ত হন। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুকে নির্দিষ্টভাবে তৎকালীন ফরিদপুর জেলায় প্রচারণা ও জনসংযোগ কর্মকা-ের দায়িত্ব দেয়া হয়। সিলেটে গণভোট চলাকালীন সময় তিনি পাঁচশত কর্মীর নেতা হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব সম্পন্ন করেন। প্রখর ধী-শক্তি সম্পন্ন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে তরুণ শেখ মুজিব সে সময়ই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর স্নেহ-সান্নিধ্য লাভ ও দৃষ্টি কেড়ে নিতে সমর্থ হন। ছাত্রনেতা থেকে অল্প সময়ের মধ্যে তিনি কোলকাতা কেন্দ্রিক মুসলিম লীগের রাজনীতিতে যুবনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
১৯৪৬ সালের ২৪ মার্চ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ক্যাবিনেট মিশন দুই মাস ভারতের রাজনীতিবিদদের সাথে আলোচনা শেষে হিন্দু-মুসলমানের সহ-অবস্থান নিশ্চিত করার পরিকল্পনায় কংগ্রেস-মুসলিম লীগের অংশিদারিত্বে সহ-শাসনের একটি চূড়ান্ত প্রস্তাবনা পেশ করে। কিন্তু ক্যাবিনেট মিশনের সে প্রস্তাব কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ মেনে নেননি। এই প্রস্তাবনা নিয়ে দুটি দলের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিরোধ প্রকাশ্য হয়ে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে ১৯৪৬ সালের ২৪ আগস্ট দিল্লি থেকে একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করে ভাইসরয় ওয়াভেল কংগ্রেসকে একতরফাভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের আহ্বান জানান। কালবিলম্ব না করে জওহরলাল নেহরু সে আহ্বান গ্রহণ করেন। ভাইসরয় ওয়াভেলের এ সিদ্ধান্ত মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ মেনে নিতে পারেননি। কারণ ইতোপূর্বে মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ অনেক বার এককভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন। মুসলিম লীগের দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অথচ সেই অধিকারটি কংগ্রেসকে দেয়া হলো!
ব্রিটিশ সরকারের এই বিমাতাসুলভ আচরণে মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দের মতো ভারতের সাধারণ মুসলমানেরাও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দও বুঝলেন যে, কংগ্রেস অধিনস্ত ভারতে তাদের দাবি-দাওয়া-পরিকল্পনা চিরকাল কাগজেই থেকে যাবে। কাজেই রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় মুসলিম লীগের কঠোর না হবার বিকল্প ছিল না। তাই কংগ্রেসকে এককভাবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদে মুসলিম লীগ ভারতবর্ষ জুড়ে ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্টকে ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম’ দিবস ঘোষণা করে। সে সময় বাংলার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মুসলিম লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এই ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম’ দিবস উপলক্ষে তিনি সমগ্র প্রদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন।
মুসলিম সম্প্রদায়ের এই প্রতিবাদ হিন্দু সম্প্রদায়ের রক্ষণশীল লোকদের বিক্ষুব্ধ করে তোলে। বিশেষ করে কংগ্রেসকে ক্ষমতা দেবার প্রতিবাদে মুসলিম লীগ ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম’ দিবস ঘোষণা করায় বঙ্গীয় কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ বিষয়টিকে জটিল করে তোলে হিন্দু মহাসভা। মহাসভার নেতৃবৃন্দ ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম’ দিবসকে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে বসেন।
হিন্দু-মুসলমানের এই কঠোর অবস্থানের কারণে কোলকাতায় ‘প্রত্যক্ষ সংগ্রাম’ দিবসে ভয়ংকর দাঙ্গা শুরু হয়। দাঙ্গায় শতশত নিরীহ মানুষকে জীবন দিতে হয়। অসংখ্য মানুষকে সর্বস্ব হারাতে হয়। পরবর্তী সপ্তাহকাল ধরে চলতে থাকে সাম্প্রদায়িক নৃশংসতা। কোলকাতা থেকে সমগ্র ভারতে সে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। বিহার প্রদেশে হাজার হাজার নিরীহ মুসলমানকে কচুকাটা করা হয়, ধর্ষিত হয় শত-সহ¯্র মুসলিম নারী। এ হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে নোয়াখালীতে শুরু হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হিন্দু নিধন। সমস্ত ভারত সাম্প্রদায়িকতার আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে থাকে। এই ভয়াবহ ও নৃশংস দাঙ্গা নিরসনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সর্বাত্মক তৎপরতা প্রদর্শন করেন। তিনি ২১ আগস্ট কোলকাতায় সর্বদলীয় শান্তি মিছিল বের হয়। সে সময় তরুণ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাম্প্রদায়িক সংকট দূর করতে চেষ্টা করেন।
ইসলামিয়া কলেজে ভর্তির পর কোলকাতার ছাত্র ও যুব-রাজনীতিতে নিজের স্থান বঙ্গবন্ধু কর্ম ও ত্যাগ দিয়ে পোক্ত করে নিয়েছেন। তাঁর কিছু অসাধারণ গুণ ছিল। তিনি যথার্থভাবে মানুষের মন পড়তে পারতেন এবং বাগ্মিতায় মানুষকে খুশি করতে পারতেন। এ সব গুণের সাথে অন্যকে আকৃষ্ট করার মতো তাঁর অভাবিত দায়িত্ব-কর্তব্য-নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধ ছিল। আর প্রত্যেক সৃষ্টিশীল মানুষের মধ্যে প্রকৃতিগতভাবে একটি ঝোঁক থাকে। বঙ্গবন্ধুর ছিল সংগঠন প্রিয়তা। ফলে কখনোই তিনি কেবল একনিষ্ঠ ছাত্র হয়ে থাকতে পারেননি। ভেতরের তাগিদ থেকে তিনি সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মী হয়ে উঠেছেন। ফলে পঞ্চাশের দশকের কোলকাতার ছাত্ররাজনীতি, জনসেবা ও সামাজিক কাজ সর্বত্র সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থেকেছেন বঙ্গবন্ধু। আবার ছাত্রত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হননি। অর্জন করেছেন ইসলামিয়া কলেজের সর্বশেষ ডিগ্রি। তিনি কোলকাতাতেই হয়ে ওঠেন মুজিব ভাই। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন :
শেখ মুজিবুর রহমান কোলকাতার ছাত্রদের মধ্যে কাজ করলেও তিনি তাঁর জেলা ফরিদপুর, বিশেষত গোপালগঞ্জে মুসলিম লীগের সাংগঠনিক কাজ করতেন। কোলকাতা ও তাঁর জেলায় ছাত্র ও অন্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে তিনি সাহসের সঙ্গে সামনে থাকতেন। তিনি একজন ভালো সংগঠক ছিলেন। তাঁর ছিল অসাধারণ কা-জ্ঞান বা কমনসেন্স এবং দেশের জনগণ, তাদের চিন্তা-ভাবনার স্তর ইত্যাদি সম্পর্কে তাঁর ধারণা অনেক পরিষ্কার ছিল।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র ও উদীয়মান ছাত্রনেতা। সে সময় একদিন ভর্তি সংক্রান্ত পরামর্শ গ্রহণের জন্য খ্যাতিমান চিকিৎসক ও ভাষাসংগ্রামী ড. মির্জা মাজহারুল ইসলাম তাঁর সাথে দেখা করেন। তিনি সে সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন
অসম্ভব ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও নেতৃত্বসুলভ চেহারা। সেদিনের সেই ভরাট গলার দৃপ্ত উচ্চারণ আজও আমার কানে ভাসে। সাধারণ মানুষের সমস্যার সাথে তিনি কীভাবে একাত্ম হয়ে যেতেন এবং মানুষকে কাছে টেনে নেয়ার ও একান্ত আপন করে নেয়ার ক্ষমতা তিনি অর্জন করেছিলেন অবলীলায়।
… শেখ মুজিবুর রহমানের কলকাতার জীবন ছিল ঘটনাবহুল। ১৯৪২ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাস করে কোলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। তিনি তখন থাকতেন বেকার হোস্টেলে। ছাত্রাবস্থায়ই তিনি কলেজ এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। শুধু রাজনীতিই নয় কলকাতায় অবস্থানকালে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-েও জড়িয়ে পড়েন।
কোলকাতার রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর শক্ত অবস্থানের কথা একটি গোয়েন্দা রিপোর্টেও পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু পূর্ব পাকিস্তানে চলে আমার পর সরকার বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হন। পরবর্তীকালে তাঁকে গ্রেপ্তারসহ নানা রাষ্ট্রবিরোধী অভিযোগে দায়ী করা হয়। ফলে মামলা দাঁড় করাতে গোয়েন্দা সংস্থা বঙ্গবন্ধুর জীবনতথ্য সংগ্রহ করে। সে জীবন তথ্যে লেখা হয় :
দায়ী ব্যক্তি (শেখ মুজিবুর রহমান) দেশ ভাগের পূর্বে অলবেঙ্গল মুসলিম ছাত্রলীগের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মী এবং বিশিষ্ট নেতা ছিলেন।
শেখ মুজিবুর রহমান কোলকাতার ছাত্র ও জাতীয় রাজনীতিতে ছিলেন সর্বজন পরিচিত একটি উজ্জ্বল মুখ। তিনি কোলকাতায় লেখা-পড়ার উদ্দেশ্যে গমন করলেও একসময় সেখানে তিনি হয়ে ওঠেন ছাত্র ও যুব নেতা রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকা-ে নিবেদিত প্রাণ। ফলে দেখা যায়, কলেজের ছাত্রদের সুখ-সুবিধা-অধিকার প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে ১৯৪৩-এর দুর্ভিক্ষ, দাঙ্গা প্রতিরোধসহ সমকালীন সকল রাজনৈতিক কর্মকা-ে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও ছাত্রনেতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অগ্রপথিক। শুধু তাই নয়, কোলকাতায় সাংবাদিকতার সাথেও তিনি যুক্ত ছিলেন। আবুল হাশিম সম্পাদিত মিল্লাত পত্রিকা প্রকাশে তাঁর ছিল অগ্রণী ভূমিকা।

এসএইচ