দখলে-দূষণে-ভরাটে বিলীনের পথে সিলেটের নদীগুলো

আগের সংবাদ

রহস্যজনক কারণে ঝুলে আছে ত্বকী হত্যা তদন্ত

পরের সংবাদ

হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করতেন পাপিয়া-সুমন

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৪, ২০২০ , ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ

যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া-সুমন চৌধুরী দম্পতি বিদেশে বেশির ভাগ অর্থ পাচার করতেন হ্যান্ড লেনদেন বা হুন্ডির মাধ্যমে। তারা ব্যাংকের মাধ্যমে খুবই সামান্য পরিমাণ টাকা পাঠিয়েছেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। পাপিয়া দম্পতির অর্থ পাচার মামলাটি এখন সিআইডি অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধান করতে গিয়ে অর্থ পাচারের বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে সিআইডি, যা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।

সিআইডির উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ইমতিয়াজ আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, পাপিয়া দম্পতির অর্থ পাচার মামলার বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু আলামত হাতে এসেছে। তাতে এখন পর্যন্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমরা পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এখন পর্যন্ত পাপিয়ার সঙ্গে যাদের নাম এসেছে তাতে তার স্বামী সুমনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আরো কারা রয়েছে সে বিষয়ে তদন্ত শেষে বলা যাবে।

সিআইডি সূত্র জানায়, পাপিয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করতেও বলা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যমতে, ব্যাংক জানিয়েছে অ্যাকাউন্টে নগদ টাকা খুব বেশি নেই। বেশির ভাগ টাকাই হাতে হাতে লেনদেন হয়েছে। তার মানে হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে। পাপিয়া-সুমন চৌধুরী দম্পতি বিদেশে টাকা পাচারের জন্য অন্য কোনো মাধ্যমের কাছে সরাসরি টাকা পরিশোধ করেছেন।

হুন্ডির মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়েছে এর আইনগত ভিত্তি কীভাবে প্রমাণ করবেন জানতে চাইলে সিআইডির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এরই মধ্যে যাদের কাছে টাকা পরিশোধ করেছেন তাদের বেশ কয়েকজনের নাম এসেছে। ওই সব তথ্য প্রমাণ তদন্তের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

পাপিয়া এর আগে থাইল্যান্ডে রাশিয়ান মডেলের মাধ্যমে টাকা পাচার করেছিলেন, এমন তথ্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। এরপর দুদক ও সিআইডি অর্থ পাচারের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে। সিআইডির ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, দেশেই পাপিয়া দম্পতির যে অবৈধ সম্পত্তি রয়েছে, তাতেও তাদের দীর্ঘ মেয়াদি শাস্তি হতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাল মুদ্রা, ইয়াবা ও নগদ ২ লাখ টাকাসহ পাপিয়া, তার স্বামী সুমন চৌধুরী, সহযোগী সাব্বির ও শেখ তায়্যিবাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে ফার্মগেটের ২ ফ্ল্যাট থেকে নগদ ৫৮ লাখ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, ৭ রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি পিস্তল ও মদ উদ্ধার করা হয়।

এরপর পাপিয়াসহ গ্রেপ্তার অন্যদের নামে বিমানবন্দর থানায় একটি ও শেরে বাংলা নগর থানায় ২টি মামলা দায়ের করা হয়। ৩ মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ডে পাপিয়াসহ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পায় র‌্যাব। এ কারণে তারা এখন র‌্যাব-১ এর হেফাজতে রয়েছে। এর আগে ১৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে।

নকি