রহস্যজনক কারণে ঝুলে আছে ত্বকী হত্যা তদন্ত

আগের সংবাদ

আজো রাতে বাড়ি ফিরে ভাবি সারাদিন কী করলাম?

পরের সংবাদ

বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে বেকায়দায় আ.লীগ

প্রীতম দাশ, চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৪, ২০২০ , ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-চসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। এখনো নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে প্রায় সব কটিতে সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের সমর্থন পাওয়া প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিজেদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন বরাবরে অভিযোগও দাখিল করছেন একে অপরের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থন পাওয়াদের বিপরীতে নির্বাচনে থাকা বিদ্রোহী প্রার্থীরাও নিজেদের দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দাবি করছে।

প্রার্থী নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে গত ১১ মার্চ আওয়ামী লীগের চসিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও সদস্য সচিব আ জ ম নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত দলীয় সমর্থন পাওয়া প্রার্থীদের তালিকা গণমাধ্যম, সাংগঠনিক ইউনিটসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়। এতে সাধারণ ওয়ার্ডে ৪১ জন এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডেও ১৪ জন ছাড়া আওয়ামী লীগের দলীয় কোনো প্রার্থী নেই বলে জানানো হয়। উল্লিখিত ৫৫ জন ছাড়া অন্য কেউ আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী পরিচয় দিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার দায়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চসিক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।

গতকাল শুক্রবার বিকালে নগরীর ২৮নং পাঠানটুলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পাওয়া কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর আবদুল কাদেরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ৫ জন আহত হয়েছেন। এর আগে গত ১১ মার্চ বুধবার রাতে নগরীর ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সমর্থন পাওয়া প্রার্থী আব্দুর সবুর লিটন এবং বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর এরশাদউল্লাহর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে সাতজন আহত হন। পুলিশ জানায়, পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। রাতেই ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে চসিক নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী উৎসাহের পাশাপাশি বাড়ছে উত্তাপও। জমজমাট প্রচারণায় নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পদচারণায় মুখর ছিল সিটি করপোরেশন এলাকা। প্রতিটি এলাকা পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে। চসিক নির্বাচনে মেয়র পদে সাতজন প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগের রেজাউল করিম এবং বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেনের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।

অন্যদিকে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ আসছে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে। রাতের আঁধারে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, মাইক ব্যবহারের নীতি না মানাসহ অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কার্যালয়ে। নির্বাচন কার্যালয়ে আসা এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা।

চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান ভোরের কাগজকে বলেন, কোথাও কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ব্যবস্থা নেবেন। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের আচরণবিধি মনিটরিং করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আগামী ২৯ মার্চ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) অনুষ্ঠিতব্য চসিক নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৫২ জন। নির্বাচনে মোট ৭ জন মেয়র, ১৬১ জন সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ৫৬ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নকি