বাবুল চিশতির হাজার কোটি টাকার সম্পদ

আগের সংবাদ

রূপনগর বস্তিতে আগুনের পেছনে কার হাত

পরের সংবাদ

বাংলাদেশ থেকে ভারতমুখী বাস ও বিমান চলাচল বন্ধ

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৩, ২০২০ , ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনের পথে রয়েছে বিশ্ব। দেশে দেশে জারি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। নিজস্ব পদ্ধতিতে সবাই এ ভাইরাস প্রতিরোধ এবং সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে। তবে পাশাপাশি আশাবাদী হওয়ার মতো খবরও মিলছে। চীনের হুবেই প্রদেশে নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দিনপ্রতি আটজনে নেমে এসেছে। বেশ কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও ফের খুলতে শুরু করেছে সেখানে। গতকাল থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরো শিথিল করা হয়েছে। প্রদেশের দুটি শহর ও দুটি কাউন্টির বেশ কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ফের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত দুই মাসে প্রাণঘাতী ভাইরাসের ধাক্কায় প্রাদেশিক রাজধানী উহানে গাড়ি নির্মাণশিল্পসহ উৎপাদন ও অর্থনীতির চাকা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। গত সাতদিনে ভাইরাসটি যখন একদিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে, অন্যদিকে তখন চীনে এর সংক্রমণ ক্রমেই কমছে। এক কোটি লোকের শহর উহানে যান চলাচলের ওপর কয়েক সপ্তাহ ধরে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও শহরটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখার কারণেই এ সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে গত বুধবার নতুন আক্রান্তের সবগুলো ঘটনা শুধু উহানেই ঘটেছে। এদিকে উহানের বাইরে বিদেশফেরত আরো সাত চীনা এতে আক্রান্ত বলে জানা গেছে এদিন। এতে সেখানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১৫ জন। আগের দিন মঙ্গলবার যা ছিল ২৪। সব মিলিয়ে চীনে এতে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৮০ হাজার ৭৯৩ জনে। এদের মধ্যে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৬২ হাজার ৭৯৩ জন, যা মোট সংক্রমণের ৮০ শতাংশ প্রায়। বুধবার ১১ জনের মৃত্যু হওয়ায় চীনের মূল ভূখণ্ডে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৬৯ জনে। এ পর্যন্ত বিশ্বের ১১৮ দেশে এক লাখ ১৮ হাজার ৩৮১ জনের আক্রান্ত হয়েছেন এ ভাইরাসে। এতে চীনসহ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ জনে।
হোটেলধসে মৃত বেড়ে ২৯ : চীনে সম্ভাব্য করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের কোয়ারেন্টাইনে রাখতে ব্যবহৃত একটি আবাসিক হোটেলধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বিবিসি জানায়, ফুজিয়ান প্রদেশের চুয়ানজু শহরের পাঁচতলা ওই হোটেলটিতে ৮০ জনের মতো সম্ভাব্য আক্রান্ত রাখা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ধ্বংসস্ত‚পের নিচে চাপা পড়ে ২৭ জন ও পরে দুজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ইউরোপে করোনা পরিস্থিতি : ইউরোপের দেশগুলোতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সেখানে বিভিন্ন দেশে ২৩ হাজার ৩৩৯ জন এতে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রাণ গেছে ৯৫১ জনের। দেশগুলোর মধ্যে করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা ইতালিতে। দেশটি যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৭ জনে। একদিনে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৩১৪ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০ হাজার ৫৯০ জন। দেশটিতে এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা ১২ হাজার ৪৬২ জন, যা চীনের পর বিশ্বে সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা : এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ইউরোপফেরত বিদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন সেদেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ থেকে আগামী এক মাস এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যেই প্রায় ১৩ শ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৩৮ ছাড়িয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে বিমানব্যবসা এবং পর্যটন খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞ মহলের। জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, চীনের বিরুদ্ধেও এর আগে আমরা এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। এখন ইউরোপের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা এ নিয়ে আর দেরি করতে পারি না। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের পূর্বসতর্কতা নিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) তা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। করোনা ভাইরাসে চীনের বাইরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইতালি দেশজুড়ে ‘লকডাউন’ ঘোষণার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প এসব কথা বলেন। দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা করা ইতালিতে খাবার ও ওষুধের দোকান ছাড়া অন্য সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে ভারতগামী বাস-বিমান চলাচল বন্ধ : করোনার কারণে আজ শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশ থেকে ভারতগামী বাস ও বিমান চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ভারত অভিমুখী সব ফ্লাইট বাতিল করার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশের তিনটি বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা ও নভোএয়ার। বিমান, নভোএয়ার ও ইউএস বাংলা এয়ারলাইনস ভারতে প্রতি সপ্তাহে মোট ৩৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচলের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ভারত ভ্রমণের জন্য নির্দেশনা : গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতীয় হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কূটনৈতিক, অফিশিয়াল, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, কর্মসংস্থান এবং প্রকল্প ভিসা ব্যতীত বিদ্যমান ভিসাগুলো আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এটি আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে বন্দরের বহির্গমন বিভাগে কার্যকর হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বা তার আগে ভারতীয় হাই কমিশন বা ভারতীয় সহকারী হাই কমিশন থেকে জারি করা সব বৈধ ভিসা আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এর ফলে আজ থেকে নতুন কোনো নতুন ভিসা দেয়া হবে না। ওসিআই কার্ডধারীদের ভিসাবিহীন ভ্রমণ সুবিধা ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। কোনো বিদেশি নাগরিক অনিবার্য কারণে ভারতে যেতে চাইলে [email protected] বা  [email protected] এই ঠিকানায় ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশনে যোগাযোগ করতে পারেন। গত ১৫ ফেব্রুয়ারির পর চীন, ইতালি, ইরান, কোরিয়া, ফ্রান্স, স্পেন এবং জার্মানি থেকে এসেছেন অথবা এসব দেশে ভ্রমণ করেছেন এমন ভারতীয় নাগরিকসহ ভারতে আসা সমস্ত ভ্রমণকারীদের কমপক্ষে ১৪ দিনের জন্য আলাদা করে রাখা হবে। এটিও আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে বহির্গমন বন্দরে কার্যকর হবে। স্থল সীমান্তের মধ্য দিয়ে যাতায়াত কেবল শক্তিশালী স্ক্রিনিংয়ের সুবিধাসংবলিত নির্দিষ্ট চেক পোস্টগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকবে। এই নির্দিষ্ট চেকপোস্টগুলো পরে জানানো হবে।

ডিসি