চীনে করোনা ছড়িয়েছে মার্কিন সেনারা!

আগের সংবাদ

ডিন পদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

পরের সংবাদ

করোনার থাবায় শঙ্কিত বিশ্বনেতারা

ইয়াহহিয়া নকিব ও সোহেল রানা

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৩, ২০২০ , ৬:০১ অপরাহ্ণ

করোনাভাইরাসের থাবায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বিশ্বের খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ ও জনপ্রিয় তারকারা। জনসম্পৃক্ততার কারণে তাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ ও তারকারা আক্রান্ত হয়েছেন। কেউ কেউ অবস্থান করছেন কোয়ারেন্টাইনে। এমনকি রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদের ব্যক্তিদের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ উৎকণ্ঠ ছড়িয়ে পড়েছে দেশে দেশে।

এদিকে, করোনার উৎকণ্ঠায় থমকে গেছে গোটা বিশ্ব। স্তব্ধ হয়ে গেছে বিশ্বায়নের গতি। বন্ধ হয়ে গেছে জল-স্থল-আকাশপথের বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশ্বঅর্থনীতির চাকাও গেছে থেমে। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে গোটা পৃথিবী। এমন অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে শঙ্কিত বিশ্বনেতারা। একটুখানি অসতর্ক হলেই ছোবল দিতে পারে করোনা।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এখন গোটা পৃথিবীর জন্য হুমকি। করোনার প্রাদুর্ভাবকে ইতোমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করেছে। বিশ্বের অন্তত ১২৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি। প্রাণ কেড়ে নিয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে প্রায় দেড় লাখে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে বড় শঙ্কার বিষয় আক্রান্তের তালিকায় বেশি দেখা যাচ্ছে বিশ্বের খ্যাতনামা রাজনীতিবিদদের। পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন শোবিজ ও ক্রীড়া বিশ্বের সেলিব্রেটিরাও। আবার যারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের মধ্যেও বেশি দেখা যাচ্ছে রাজনীতিবিদদের।

প্রাপ্ত খবরে দেখা গেছে, ইরানে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিরা। দেশটির অন্তত ২০ জন সংসদ সদস্য (এমপি) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যুও হয়েছে। ইরানের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রধান ইসমাইল নাজারকেও রাখা হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতারাও আক্রান্ত হয়েছেন। তারা চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। ফ্রান্স, ব্রিটেন, ইতালি ও স্পেনের বহু সিনিয়র রাজনীতিবিদ আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাদাইন ডোরিস, ফ্রান্সের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী ফ্রাঙ্ক রেইস্টার, স্পেনের জনপ্রিয় ভক্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জেভিয়ার ওতেগা স্মিথ ও পার্লামেন্টের উপ-প্রধান নেতাদের শরীরের করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

মূলত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের মাধ্যমেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাদাইন ডোরিস। শুধু দুজনেই নন, তাদের কাছ থেকেই আক্রান্ত হয়েছেন প্রথম সারির কয়েকজন নেতা। এ ঘটনার আগে প্রথম করোনা আক্রান্ত হন মঙ্গোলিয়ার রাজনীতিবিদরা। চীন সফর শেষে মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট খলতমা বাতুলগা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সগবাটার করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তারা ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে গেছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন সফরকারী কর্মকর্তারাও।

করোনার কারণে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তবে এবার আক্রান্ত হলেন তার স্ত্রী সোফি জর্জ। সর্বশেষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডাটন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলভিস প্রিসলিকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য অষ্ট্রেলিয়ায় গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন হলিউডের খ্যাতিমান অভিনেতা টম হ্যাংকস ও তার স্ত্রী রিটা উইলসন। হলিউডের সেলিব্রেটি এই দম্পতি রয়েছেন কুইন্সল্যান্ডে।

চীনের বাইরে করোনার থাবায় লণ্ডভণ্ড অবস্থা মূলত ইতালিতে। চীনের পরেই এ দেশটিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত ও প্রাণ হারিয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ইতালিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা নিকোলা জিনগারেত্তি।

প্রশ্ন উঠেছে কেন রাজনীতিবিদরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন করোনাভাইরাসে? অনেকেই এমন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন। কারো কারো মতে, রাজনীতিবিদ আর নেতারা বেশিসংখ্যক মানুষের সংস্পর্শে আসেন। তাছাড়া তারা মানুষকে সঙ্গে নিয়েই কাজ করেন।

ব্রিটেনের প্রখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের শিক্ষক ফ্রাঙ্কোশ ব্যালোক্সের মতে, করোনাভাইরাস সমাজের প্রথমসারির মানুষের মধ্যে রাজনীতিবিদদের ওপরই সবচেয়ে বেশি থাবা বসিয়েছে। এর কারণ তারা বেশি সংখ্যক মানুষের সংস্পর্শে আসছেন। সে কারণেই তারা আক্রান্ত হচ্ছেন।

এমএন