নারীবান্ধব সমাজ

আগের সংবাদ

এখন সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

পরের সংবাদ

মেয়রদের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা

শামীম শিকদার

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১১, ২০২০ , ৮:০৮ অপরাহ্ণ

ঢাকা উত্তরে আতিকুল ইসলাম এবং দক্ষিণে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটের আগে তারা নগরবাসীকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন নতুন এক সচল ঢাকার। বলেছিলেন সব নাগরিক সেবা ৯০ দিনের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে। মেয়রদের এই প্রতিশ্রুতিতে সাড়া দিয়ে নগরবাসী তাদের পক্ষে ভোট দিয়ে তাদের জয়যুক্ত করেছেন। ক্ষমতাসীন সরকারদলীয় হওয়ায় দুই মেয়রের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেশি। অতীতের মেয়ররা নির্বাচনের আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পরবর্তী সময় আর বাস্তবায়ন হয়নি।
প্রত্যাশাগুলো বাস্তবায়নের অপেক্ষায় নগরবাসী। যেখানে ড্রেনের ওপরে রাস্তায় পানি জমবে না, যানজটে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হবে না, বাতাসে থাকবে না ধুলাবালি, মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হবে না নগরবাসী, গণপরিবহনে থাকবে শৃঙ্খলা, সেবা সংস্থাগুলোর থাকবে কার্যকর সমন্বয়, ফুটপাত হবে ব্যবহারের উপযোগী, গড়ে উঠবে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগরবাসী উপহার পাবে মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ। এমন অনেক প্রত্যাশার বাস্তবায়নের অপেক্ষায় ঢাকা নগরবাসী।
বিশে^র দূষিত বায়ুর শহরগুলোর তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে আমাদের ঢাকা। বায়ুদূষণের কারণ হিসেবে ধরা হতো শহরের আশপাশে গড়ে ওঠা ইটভাটার কালো ধোঁয়াকে। পরবর্তী সময় পাঁচ জেলার ৬২ শতাংশের বেশি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। তারপরও শহরের বায়ুদূষণের উন্নতি হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণের জন্য ইটভাটার ধোঁয়া ৫৮ শতাংশ দায়ী হলেও বাকি ৪২ শতাংশ দায়ী নির্মাণ ও মেরামত কাজের সঙ্গে আসা ধুলা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন থেকে বের হওয়া ধোঁয়া।
রাতে কিংবা দিনে সারাক্ষণই মশার কামড়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী। দিনের বেলায়ও কয়েল, স্প্রে বা মশারি টানিয়ে কেউ ঘুমাতে বা বিশ্রাম নিতে পারছে না। স্কুলপড়ুয়া খুদে শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়ছেন অভিভাবকরা। সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে রাজধানীর ১৩৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে প্রায় ৬ বর্গকিলোমিটার জলাশয় রয়েছে। যার মালিক ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা। ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টরা জানান, মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে ডিএনসিসির ২৭০ জন জনবল রয়েছে। নতুন করে আরো ৫৪টি ওয়ার্ডে ১০ জন করে জনবল নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ক্রয় করা হয়েছে নতুন আধুনিক মানের ২৩৮টি ফগার মেশিন, ২০টি মিক্সড ব্লেয়ারসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম। ১০ জনের একটি টিমের সমন্বয়ে ডিএনসিসি নিজ এলাকায় জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে। যেখান থেকে জানা যায়, ডিএনসিসির ৫৪টি ওয়ার্ডের ৫৪০টি স্থানে ৬২০টি কিউলেক্স মশা প্রজননের হটস্পট রয়েছে। চলতি অর্থবছরে বাজেটে ডিএনসিসির মশক নিধন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। তারপরও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতার প্রকাশ দেখা যাচ্ছে।
নানামুখী সমস্যায় ঢাকা নগরের জীবনযাত্রা ক্রমেই বেশি মাত্রায় দুর্ভোগময় হয়ে উঠেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে জটিল সমস্যা হলো যানজট। তা নিয়ে অনেক ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বরং তা আরো বেশি প্রকট আকার ধারণ করছে। কয়েক বছর ধরে সংবাদ মাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ করা হচ্ছে যে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। নাম্বিও নামের একটি গ্লোবাল ডাটা বেইজের সমীক্ষায় ২০১৯ সালে ঢাকা বিশে^র সর্বাধিক যানজটের শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দুই বছর আগে ছিল দ্বিতীয়, ২০১৬ সালে ছিল তৃতীয়। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে ঢাকা শহরের যানজট অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বেড়ে চলছে। ঢাকা মহানগরের মোট সড়কের প্রায় ৫০ শতাংশজুড়ে চলাচল করে ব্যক্তিগত গাড়ি, অথচ এগুলো বহন করে মাত্র ১২ শতাংশ যাত্রী। কিন্তু ৫০ শতাংশ বড় বাসে প্রায় ৮৮ শতাংশ যাত্রী পরিবহন সম্ভব। সড়কের দুই পাশের পার্কিং বন্ধ করা এবং ফুটপাত হাঁটাচলার উপযোগী করার মাধ্যমে তা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
এমন আরো অনেক বড় বড় সমস্যার কারণে ঢাকা হুমকির মুখে। জলাবদ্ধতা, রাস্তা দখল, অপরিকল্পিত ও জরাজীর্ণ বাড়িঘর, চাঁদাবাজি, ফুটপাত দখল, পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, সঠিক নাগরিক সেবা প্রদান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ব্যবস্থা, দুই সিটির জনবল ঘাটতি পূরণ করে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। মেয়ররা সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। পার্ক, খেলার মাঠ ও পাবলিক প্লেস তৈরি করার জন্য ডিএনসিসি মেয়রকে কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে। মেয়রের সদিচ্ছা ও দক্ষতার পাশাপাশি পর্যাপ্ত উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকাকে অনেকটা অগ্রসর করা সম্ভব। উপহার দেয়া সম্ভব নতুন একটি শহর।

কাপাসিয়া, গাজীপুর।
[email protected]

এমএইচ