শিশুদের কার্টুন আসক্তি

আগের সংবাদ

মেয়রদের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা

পরের সংবাদ

নারীবান্ধব সমাজ

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১১, ২০২০ , ৮:০৫ অপরাহ্ণ

নারী-পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ জাতীয় উন্নয়নের পূর্বশর্ত। আইনের চোখে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান মর্যাদা ও মানবাধিকার প্রাপ্তি সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ নারী উন্নয়নেও অঙ্গীকারাবদ্ধ। এমনই এক বাস্তবতায় এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারীর অধিকার’। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নারী-পুরুষের সমতার ভিত্তিতে নারীর সব রকম অধিকার নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারীরা নতুন করে জেগে ওঠার স্বপ্ন দেখেন। বাংলাদেশের নারীর মুক্তি সংগ্রামের অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে নারীর করণীয় আছে অনেক। শিশুকাল থেকে আহার, পোশাক-পরিচ্ছদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবায় নর-নারীর যে বৈষম্যের শুরু এর পরিবর্তন দরকার। পরিণত বয়সে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে প্রতিক‚ল পরিবেশে নারীদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার বন্ধ করা জরুরি। শ্রমজীবী নারীর মজুরি বৈষম্য, গণপরিবহনে, কর্মক্ষেত্রে নারীকে যেন বঞ্চনা-লাঞ্ছনার শিকার হতে না হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারীকে অলঙ্কার হিসেবে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। পণ্য বিপণনের বিজ্ঞাপনে নারীর গ্লামারকে উপস্থাপন করা অন্যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারী নির্যাতনকারী অপরাধীরা প্রভাবশালী হওয়ার ফলে আইনি সহায়তা পাওয়া নির্যাতিত-নিপীড়িত নারীর জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে, এ ধারার পরিবর্তন দরকার। বাংলাদেশের সংবিধানে নারীর সমান অধিকারের কথা বলা হলেও পারিবারিক আইনে নারী-পুরুষের বৈষম্য বিদ্যমান থাকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর প্রতি সুবিচার করা হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, সমাজ ও রাষ্ট্র যেন কিছুতেই এ থেকে নারীকে বাঁচাতে পারছে না। অর্থ, বিত্ত আর প্রভাব খাটিয়ে অপরাধী, নির্যাতন-নিপীড়নকারী সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে।
নারী-পুরুষ সমতায় এগিয়ে যাওয়ার বিবেচনায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ২০১৭ সালের গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বের ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭ এবং এশিয়া মহাদেশে প্রথম। নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ এগিয়েছে। তারপরও নারীকে সমাজে উপযুক্ত স্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের এগোতে হবে অনেক পথ। নারীর প্রতি সব ধরনের অমানবিক আচরণ প্রতিরোধে প্রতিটি সচেতন মানুষ, সমাজ এবং রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা অনস্বীকার্য। তাই গৃহকর্মেও নারীর উপযুক্ত মূল্যায়ন জরুরি। যদি গ্রামগঞ্জে নারীরা উৎপাদনশীল সম্পদে পুরুষের সমান সুযোগ পেত তবে কৃষি উৎপাদন আরো ৪ ভাগ বেড়ে যেতে পারত। নিশ্চিত হতে পারত মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা। তাই নারীর উপার্জন করা সম্পত্তি রক্ষা, নারী শিক্ষা এগিয়ে নেয়া ও মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনাসহ নানা বিষয় রেখে নারী উন্নয়ন নীতি-২০১১ বাস্তবায়ন জরুরি। ২০২১ সাল নাগাদ নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক একটি সমৃদ্ধিশালী জাতি গঠনে সরকারের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। তাই নারী নির্যাতন ও নারীর ওপর যে কোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গকে এগিয়ে আসতে হবে নারী-পুরুষ বৈষম্যহীন এক সমাজ প্রতিষ্ঠায়। এ কাজে পুরুষের অংশগ্রহণ বিশেষ জরুরি। নারী নির্যাতন বন্ধের পাশাপাশি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যাগুলোর সমাধান, বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক, নারীবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সাফল্যের লক্ষ্যে পৌঁছতে হবে।

ঢাকা।

[email protected]

এমএইচ