আ.লীগ নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে নাটকীয় রদবদল

আগের সংবাদ

টয়লেট পেপার সংকটে পত্রিকার পাতা ফাঁকা

পরের সংবাদ

‘বিশ্বসেরা মা’ হলেন ভারতের এই মমতাময়ী ‘বাবা’

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ৯, ২০২০ , ১০:২০ পূর্বাহ্ণ

আদিত্য তিউয়ারি, ভারতের পুনের বাসিন্দা। ২০১৬ সালে ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত এক শিশুকে দত্তক নেন। এ বছর নারী দিবসে বিশ্বের ‘সেরা মা’ খেতাবে ভ‚ষিত হলেন তিনি। অবাক লাগতে পারে, একজন পুরুষ কিভাবে সেরা মা হলেন। আদিত্য জানান, শুরু থেকেই শিশুটিকে মায়ের মতো আগলে রেখে বড় করছেন তিনি।

২০১৬ সালে ইন্দোরের মিশনারিজ অব চ্যারিটির একটি অনাথ আশ্রমে গিয়েই তার সঙ্গে দেখা হয় ছোট্ট অবিনাশের। তিনি জানতে পারেন, এই রোগের কারণেই ফুটফুটে শিশুটিকে ফেলে গেছে তার বাবা-মা। কিছুদিন পর আবার সেখানে গিয়ে খোঁজ নেন, কোন কোন শিশু দত্তক নেয়া হয়েছে। কিন্তু ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত অবিনাশকে নিতে রাজি হয়নি কেউই। ওই মুহূর্তে শিশুটিকে দত্তক নেয়ার কথা ভেবে ফেলেন

তিনি। পুরো ব্যাপারটা নিজের কাছে সহজ বলে মনে হলেও, পরিবার ও সমাজের কাছে অনেক লড়াই করতে হয় আদিত্যকে। এত কম বয়সে সন্তান দত্তক নেয়ার বিষয়টি মানতে পারেননি তার নিজের মা-বাবাই। অন্যদিকে, আশ্রম থেকে জানানো হয়, বিবাহিত না হলে শিশু দত্তক দেয়া যাবে না।

আদিত্য বেশ ঝামেলায় পড়ে গেলেন তবে তিনি দমে যাননি। পরিবারের সম্মতি না থাকা সত্ত্বেও, বেশ কয়েকমাস পর আবার যান ওই অনাথ আশ্রমে। সেখানে সিস্টারদের কাছে কাকুতি-মিনতি করেন শুধু শিশুটিকে পাওয়ার আশায়। হাল ছাড়েননি আদিত্য। ভারতের মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ও মানেকা গান্ধীর কাছে বিষয়টি জানিয়ে প্রায় এক শ মেইল পাঠান। আদিত্যের মেইল পড়ে অনাথ আশ্রমে যান মানেকা গান্ধী। দেখা করেন বিন্নির সঙ্গে। সব কিছু দেখে মন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন, আদিত্যকে যেন দ্রুত শিশুটিকে দত্তক দেয়া হয়। তারপরও চলেছে টালবাহানা। সরকারি নির্দেশ থাকা সত্তে¡ও শিশুটিকে নিজের কাছে পেতে অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে।

আদিত্য বলেন, ও আমার কাছে ঈশ্বরের সবচেয়ে সেরা উপহার। আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। আমি নিজেকে কখনো তার মা অথবা বাবা হিসেবে দেখি না। আমি সব সময় তার একজন ভালো অভিভাবক হতে চেয়েছি। একই সঙ্গে তার কাছে একজন ভালো মানুষ হতে চেয়েছি। অবিনাশই আমাকে শিখিয়েছে, কীভাবে একজন ভালো অভিভাবক হওয়া যায়। তবে সবচেয়ে ভালো বিষয় হচ্ছে অবিনাশ আমাকে তার অভিভাবক হিসেবে মেনে নিয়েছে। একটি আইটি ফার্মে চাকরি করতেন আদিত্য। অবিনাশকে দত্তক নেয়ার পর তিনি সেই চাকরি ছেড়ে দেন।

এখন তিনি অবিনাশের মতো বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বাবা-মাকে কাউন্সেলিংয়ের কাজ করছেন। এ ধরনের শিশুকে কীভাবে গড়ে তোলা যায় সে বিষয়ে একটি কনফারেন্সে যোগ দিতে জাতিসংঘ থেকে অবিনাশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অবিনাশের কাছে আদিত্যই তার মা, আদিত্যই তার বাবা।

এমএইচ