বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশ

আগের সংবাদ

জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন শুরু হচ্ছে শুক্রবার

পরের সংবাদ

পিকআপ চাপায় হাত হারানোর পথে ট্রাফিক সার্জেন্ট

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ৪, ২০২০ , ৮:০৬ অপরাহ্ণ

সুব্রত কুমার গাইন (৩০) দুবছর আগে মানব সেবার ব্রত নিয়ে যোগ দেন বাংলাদেশ পুলিশে। পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তি হওয়ায় সংসারের দ্বায়িত্ব ছিল তারই কাধে। বৃদ্ধ মা-বাবার একমাত্র সন্তান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পূর্ব বিভাগের সার্জেন্ট সুব্রতর দিন মোটামুটি ভালই যাচ্ছিল। তবে গত শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) একটি দূর্ঘটনা তার জীবন এলামেলো করে দেয়। যে সড়ক শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে ছড়ি ঘোরাতেন তিনি সেই রাস্তায় বেপরোয়া একটি পিকআপের চাপায় এখন একটি হাত হারানোর মতো অবস্থা তার। রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে এখন চিকিৎসাধীন তিনি। তবে ঘাতক পিকআপ ও তার চালককে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।

আহত সুব্রত ভোরের কাগজকে জানান, শুক্রবার ভোরের মালিবাগ শান্তি বাগের বাসা থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেল করে টিটিপাড়া মোড়ে ডিউটিতে যাচ্ছিলেন তিনি। মৌচাক-মগবাজার উড়াল সড়ক যে মুখটি রাজারবাগের দিকে নেমে গেছে সেখানে আসার পরই পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি বেপরোয়া পিকআপভ্যান তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে পড়ে যান তিনি। পুলিশ দেখে আর না থামিয়ে সজোরে টান দিয়ে দিয়ে চলে গেলে, পিকআপ ভ্যানটি পেছনের চাকায় পিষ্ট হয় সুব্রতার ডান হাত। কব্জি থেকে ভেঙ্গে যায় ডান হাতের আঙুলের জন্টেগুলো। এর মধ্যেই আশপাশের লোকজন ও পুলিশ খবর পেয়ে তাকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তার অস্ত্রাপচার শেষে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালটির ২ নাম্বার ওয়ার্ডের ১৮ নাম্বার বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তবে সুব্রতর পরিবারের দাবি, পঙ্গু হাসপাতালে তার হাতের অস্ত্রাপচার সঠিকভাবে হয়নি। চিকিৎসকরা বলছেন তার ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলী ও তর্জনীর টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মরে গেছে। দ্বিতীয় দফায় তাকে দ্রুত আবারো অস্ত্রপচার করতে হবে। নতুবা হাত হারাতে হতে পারে তাকে। একটি ভাল হাসপাতালে অস্ত্রপচার করাতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন যা নেই তাদের।

খুলনা ডুমুরিয়ার বাসিন্দা হেমন্ত কুমার গাইন ও শীতা রানী গাইনের একমাত্র সন্তান সুব্রত। তার ওপরই সংসারের দ্বায়িত্ব। মাত্র দু বছর চাকরিতে প্রবেকশ করেছে, এখন তার হাতের কিছু হলো পরিবারসহ তার কি হবে এ নিয়ে স্বজনরা শংকিত বলেও জানান। তবে পূর্ব বিভাগের সবুজবাগ জোনের এসি আশরাফি তানজিনা জানান, সুব্রতর চিকিৎসার জন্য সর্বাত্ম সহায়তা করছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। তার চিকিৎসার জন্য যা প্রয়োজনীয় তাই করা হচ্ছে। এছাড়াও পিকআপ ও চালককে আটকের চেষ্টা করছেন তারা।