ফেব্রুয়ারিতে ৭৫ কোটি টাকার চোরাই পণ্য-মাদক জব্দ

আগের সংবাদ

দেশ অবাধ তথ্য প্রবাহের সুবর্ণ সময় পার করছে

পরের সংবাদ

সুতিতেও আধুনিক

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১, ২০২০ , ৩:২৩ অপরাহ্ণ

আমাদের বসবাস এখন ডিজিটাল সময়ে। প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্বের নানা দেশের চলতি ধারার খোঁজ আমরা খুব সহজেই পেয়ে যাচ্ছি। এসব ফ্যাশনের খোঁজখবর যারা রাখেন তারা জানেন, আন্তর্জাতিক ফ্যাশনে যা কিছু নতুন আসে, তার ছাপ এ দেশে পড়ে বেশ কিছুদিন পরে। কিন্তু এ পরিবর্তনের মাঝেও সুতি পোশাকের আবেদন গরমে প্রচুর। আধুনিক তরুণীরা চাইলেই সুতি পোশাক পরতে পারেন ট্রেন্ডিভাবে।

গরমে সুতিকে প্রাধান্য দেয়া যায় ইচ্ছামতো। প্রতিদিন নিত্যনতুন ট্রেন্ড অনুসরণ করে চলেন যারা, সেসব তরুণী আগে থেকে ঠিক করে দেয়া ড্রেস কোড মেনে চলবে, তা কি হয়! শনিবার যদি দেশি সাজের নির্মলতা দিয়ে ছুঁয়ে দেয় তারা তো রোববারে রক-ওয়েস্টার্ন। এমনি করে সপ্তাহভর প্রতিটি দিনই ফ্যাশন নিয়ে খুনসুটি চলে নতুন প্রজন্মের তারুণ্যের। সে খুনসুটির পাল্লায় পড়ে এ অঞ্চলের বহু পুরনো ঘাঘরা হয়ে যায় স্টাইলিশ স্কার্ট। কিংবা ধুতি কাটের বিবর্তনে একঘেয়ে সালোয়ারের কদর বেড়ে যায় রাতারাতি। লং কামিজের আড়ালে সৌন্দর্য অনেকটাই অব্যক্ত থেকে যায় বলে ধুতি বা পালাজো কাট স্যালোয়ারের সঙ্গে শর্ট টপসে। কিংবা কামিজের দৈর্ঘ্যে খানিকটা কম হয়ে জনপ্রিয়তা পায় কুর্তিতে। কিংবা আরো আধুনিকার বসনে স্লিম কাটের শার্ট দেয় স্মার্ট লুক সাথে চিনো কাটের ডেনিম! তবে স্ট্রিট স্টাইলে গরমে সুতির বিকল্প নাই।

অনেকের ধারণা সুতি কাপড়ের পোশাকে ফ্যাশনেবল নয়। আসলে ধারণাটি ভুল। এই কাপড়ের পোশাকের কাটে একটু বৈচিত্র্য আনলেই তা বড় পার্থক্য সৃষ্টি করে। কিশোরী ও তরুণীরা সুতির ঢিলেঢালা প্যাটার্নই বেশ বেছে নিচ্ছে। কামিজ জনপ্রিয়, ঝালর দেয়া স্কার্টও মন্দ লাগে না। তাতে হালকা সুতির কাজ থাকছে, ব্লক থাকছে, স্কিন প্রিন্ট থাকছে। ভারী কাজ না থাকাই ভালো। আজকালের তরুণীরা পছন্দ করছে ছোট হাতার লম্বা কুর্তি, হাতাকাটা কামিজ বা ছোট হাতার শার্ট। সালোয়ারের ক্ষেত্রে ধুতি ও প্যান্ট ধাঁচের সালোয়ারটা বেশ পছন্দ করছে সবাই। পোশাকে হাতাকাটা, ছোট হাতার ম্যাগির সঙ্গে নতুন যোগ হয়েছে ঘটি হাতা।

সুতি পোশাকে।

আরামের কাপড় হিসেবে সুতির চেয়ে কম যায় না লিলেনও। সুতির চেয়েও এটি অনেক বেশি আরামের। সুতির মতো লিলেনের বুনন অতটা ঠাসা হয় না বলে বেশি বাতাস চলাচল করতে পারে। অনেক বেশি জলীয় বাষ্প টেনে শরীরকে আরাম দেয় খাঁটি লিলেন। আসলে দেশীয় বা পাশ্চাত্য পোশাকটার কাটছাঁট যে দেশেরই হোক না কেন, কাপড় হতে হবে পাতলা। ফ্যাশনের সঙ্গে সঙ্গে যেন আরামটাও পুরোপুরি পাওয়া যায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

মানানসই বটম

ডেনিমই হয়তো এই সময় আরামের পোশাক, কিন্তু অফিসে তো আর সবসময় ডেনিম পরে যাওয়া যায় না। তাই ভরসা হলো কটন ট্রাউজারস। তবে, ট্রাউজারস মানেই কিন্তু বোরিং নয়। নানা সুতির ফ্যাব্রিক ও কাট নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে ট্রাউজার্সের মতো কেজো পোশাকও দিব্যি ফ্যাশনেবল হতে পারে। শুধু অফিস নয় একটু বুদ্ধি খাটালেই অফিসের পরে কোনো পার্টিতেও এই কটন ট্রাউজারস পরেই নজর কাড়তে পারেন আপনি। সবচেয়ে বড় কথা হলো শুধুমাত্র ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গেই যে এই সুতির ট্রাউজারস পরতে হবে তার কোনো মানে নেই। শর্ট বা লং কুর্তির সঙ্গেও এই প্যান্ট খুব ভালো মানাবে। এখন ট্রাউজারস এর মধ্যে জনপ্রিয় পালাজ্জো, প্রিন্টেট লেগিংস, চুড়িজার সালোয়ার বা হেরাম প্যান্ট। যে কোনো ধরনের ট্রাউজারের ক্ষেত্রে কালো রং তো বেছে নেয়াই যেতে পারে। তবে এই গরমে প্যাস্টেল শেডের সুতির ট্রাউজার্স ফ্যাশনে ইন। আকাশি, গোলাপি, হাঙ্কা সবুজ রঙের কটন ট্রাউজার্স অনেকেই পছন্দ করছেন। তবে যদি চিরাচরিত রংগুলো বেছে নিতে হয় সাদা, বেজ, বাদামি, নেভি ব্লু প্রভৃতি স্বাচ্ছন্দ্যে বেছে নিন। কম বয়েসি যারা তারা বিভিন্ন প্রিন্টেড বা বাটিক প্রিন্টের কটন ট্রাউজার্স ট্রাই করতে পারেন।

নিজেই যখন ডিজাইনার

দর্জির দোকান থেকে নিজের পোশাক বানিয়ে নিতেও লক্ষ্য রাখতে হবে বেশ কিছু বিষয়। গরমের সময়টায় কাপড় কেনা চাই রঙিন দেখে। তবে এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে রঙ বুঝে তার কাটছাঁট, প্যাটার্ন এবং ডিজাইন ঠিক আছে কিনা। রঙের সঙ্গে পরিবর্তন রাখা জরুরি পোশাকের ডিজাইনে। কাপড়ের ধরন, বুনন থেকে শুরু করে প্যাটার্ন সবকিছুই ডিজাইনের অন্তর্ভুক্ত। বানাতে দেয়া পোশাকের ক্ষেত্রে খোঁজ রাখুন কোন কাপড়ে কী রঙ এখনকার ফ্যাশনশৈলী। সর্বশেষ একই কথা, আবহাওয়ার সঙ্গে সুতি একদমই খাপে খাপ। তাই বরাবরের মতো সবার পছন্দের শীর্ষে এই কাপড়ই থাকবে। সুতি কাপড়ের মধ্যে মোম বাটিক, টাইডাই বেশি মানায়। তবে এই ধরনের কাপড়ের পোশাক বানাতে হলে প্যাটার্ন মাথায় রাখা জরুরি। সুতির পোশাক বেশি সুন্দর মাঝারি বা শর্ট লেন্থের। বটম, স্লিভ, নেক কাটিংয়ে ভিন্নতা আনুন। সে ক্ষেত্রে কার্ভ, হাফ সার্কেল, ক্রস, জিগজ্যাগের মতো বটম এন্ডিং মানানসই। গেদার, কোয়াটার কাট অথবা কার্ভ ওপেনিংয়ের মতো ভিন্নতা আসতে পারে হাতায়।

নেক বা গলার নকশা হওয়া চাই শরীরের গড়ন আর নিজের সুবিধামতো। সেমি বোট নেক, অফ নেক-পয়েন্ট, ব্যান্ড কলার সুতির পোশাকে ভিন্নতা আনে এ সময়ে। লম্বা কাটের মধ্যে এ ধরনের কাপড়ে যোগ করতে পারেন অন্যকোনো ডিজাইন। সে ডিজাইন হতে পারে অন্য রঙের কাপড় যোগ করে অথবা এমব্রয়ডারিও করতে পারেন। কাটওয়ার্ক ডিজাইন করতে হলে অবশ্যই কালার কনট্রাস্ট ভালো করে মিলিয়ে নিন। বুননের মান যত ভালো হবে কাপড় দেখতে, পরতে তত ভালো হয়।

এমএইচ