চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের উদ্যোক্তা হবার আহ্বান

আগের সংবাদ

‘সুপার মম সুপার ড্যাড'

পরের সংবাদ

পরকীয়ার বিচার!

নিরীহ পরিবারে এসআইয়ের তাণ্ডব, স্তম্ভিত গ্রামবাসী

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০ , ৯:৫২ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০ , ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

নিয়মিত মামলা ছাড়াই পরকীয়ার অভিযোগে এক গৃহবধূকে উদ্ধার করতে গিয়ে উলিপুর থানার এসআই আশরাফ আলী নিরীহ পরিবারে তাণ্ডব চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ কর্মকর্তার এমন আচরণে গ্রামবাসী স্তম্ভিত। অনেকেই ভীত সন্ত্রস্ত।

তবে এসআই আশরাফ পরকীয়া কাণ্ডের ওপর দোষ চাপিয়ে নিজেকে গরীবের ‍উপকারী হিসেবে দাবি করেছেন

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের কাশিয়াগাড়ী গ্রামের হতদরিদ্র তৈয়ব আলীর বাড়িতে। পরদিন শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র পরিবারটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর তৈয়ব আলীর ছেলে শহিদুর রহমান ও একই এলাকার ফরিদা আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া চলে আসছিল। এক পর্যায়ে তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তারা পালিয়ে গিয়ে প্রথমে কুড়িগ্রাম নোটারি পাবলিকে এভিডেভিট ও পরে মুসলিম শরা অনুয়ায়ী বিয়ে করেন। এরপর ফরিদাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন শহিদুর।

এদিকে, ফরিদার বাবা তার মেয়েকে উদ্ধারের জন্য উলিপুর থানায় অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে উলিপুর থানার এস আই আশরাফ আলী কয়েকজন ফোর্সসহ শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ফরিদাকে উদ্ধারের জন্য অভিযোগকারীদের সঙ্গে করে তৈয়ব আলীর বাড়িতে যান। তবে সে সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ না থাকলেও এসআই আশরাফ, পুলিশ ও অভিযোগকারীদের নিয়ে জোর করে তৈয়ব আলীর ঘরের দরজা জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়েন। এরপর নারীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। আলমারিসহ আসবাবপত্র তছনছসহ ব্যাপক ভাঙচুর চালান।

তৈয়ব আলী আরো অভিয়োগ করেন, নারী পুলিশ না থাকলেও তৈয়ব আলী স্ত্রী ছপিয়া বেগম ও জনৈক আছমা বেগমকে চড়থাপ্পর মেরে ঘরে থেকে বের করে দেন। এরপর ফরিদাকে উদ্ধার করে তার বাবার হাতে তুলে দেন। এ ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসী। এলাকায় এখন পুলিশি আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানতে চাইলে এসআই আশরাফ হামলা ভাঙচুরের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, আমি তো গরীব মানুষের উপকার করতে গিয়েছিলাম। এমন একটু তো হতেই পারে, তাতে কি? এরপর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে এসআই আশরাফ বলেন, আর সে যে পরকীয়া করলো সেটা কোনো অপরাধ নয়?

মেয়েকে উদ্ধারের কথা স্বীকার করে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতিবেদককে বলেন, সেখানে যে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে তা আপনার কাছেই প্রথম জানলাম।

এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়