বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

আগের সংবাদ

গরিবের আয়-আয়ু : ঢাকার বায়ু

পরের সংবাদ

পাপিয়ার পাপের অন্তরা কারা?

মীর আব্দুল আলীম

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ , ৬:২০ অপরাহ্ণ

সম্রাট কিংবা পাপিয়া এরা এক পথেরই পথিক। অপরাধ রাজ্যের রাজ-রানী। ওরা অপরাধ করবে। আলোচনায় আসবে। আবার পারও পেয়ে যাবে হয়তো। পাপিয়াদের যারা পাপের পথে সহযোগিতা করে তাদের কিন্তু কখনোই কিছু হয় না। ওরা তো গডফাদার! ওদের অপরাধের পেছনে যারা তারা আড়ালে থাকে সব সময়, এটাই হয়তো নিয়ম। ওয়েস্টিন ছোটখাটো প্রতিষ্ঠান নয়। ফাইভ স্টার মানের হোটেল। এখানে সব কিছু নিয়মে চলে। কাগজপত্র-নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব আছে এখানে। পাপিয়া কী করতেন ওয়েস্টিনসহ রাজধানীর নামিদামি হোটেলে? এমন এক সুন্দরী নারী দিনের পর দিন হোটেলের স্যুট ভাড়া নিচ্ছেন। পুরো বার বুকিং করে নিচ্ছেন কোনোটাই কারো চোখে পড়ল না? আসল কথা হলো নগদি পেলে সবাই চুপ থাকে। ওয়েস্টিনও তাই করেছে। ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ কি জানতেন না পাপিয়া তাদের হোটেল ভাড়া নিয়ে কী কাজ করতেন? আড়াই লাখ টাকায় পুরো বার ভাড়া নিতেন পাপিয়া। সেখানে রাত-দিন চলত নানা অপকর্ম। প্রশ্ন হলো, ভাড়া নেয়া বারে ধনাঢ্য লোকদের কারা আসতেন? একটি ফাইভ স্টার হোটেল কি গ্রাহকদের সুবিধা রক্ষার পরিবর্তে সম্পূর্ণ বার এভাবে ভাড়া দিতে পারে?

অনেক পাপিয়া আর সম্রাট আছে দেশে। ওরা কেবল ধরা পড়ে কোনো সংঘাতে। ভাগাভাগির সমস্যায়। অবৈধ হলেও মহাপ্রতাপশালী পাপিয়া তো দিব্যি কায়-কারবার চালাচ্ছিলেন। কার সঙ্গে স্বার্থের সংঘাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হলো? ওই স্বার্থটা কী? আগে বের করুন। ঢাকাসহ দেশের আর কোন কোন হোটেলে এমন বিশাল কর্মযজ্ঞ চলে তাও বের করতে হবে। পাপিয়াদের জায়গা কিন্তু খালি রয় না কখনো। পাপিয়ার জায়গা এখন দখল করবে কে? এ রকম আর কত পাপি এবং পাপিয়া আছে দেশের হোটেল, গেস্ট হাউস, আন্ডারগ্রাউন্ডে? তাদের বের করার দায়িত্ব যাদের তারা কি দায়িত্ব পালন করবেন।

কথা একটাই, পাপিয়ারা কিন্তু একা পাপ করতে পারে না। অর্থের জন্য কেউ পাপিয়াদের দিয়ে পাপ করায় আবার ভোগের জন্য কেউ পাপিয়াদের পাপের পথে নামায়। পাপিয়া কিন্তু হঠাৎ করে এই পাপিয়া হয়ে উঠেননি? পাপিয়ার এই রঙিন জীবন-কাহিনী এতটা গোপনীয় থাকার কথা নয়। এমনটাও কথা নয় যে, দলের নেতা-মন্ত্রী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা গোয়েন্দারা তার বিষয়ে কিছুই জানতেন না? ‘এত দিন কোথায় ছিলেন?’ পাপিয়ারা আগেও ছিলেন, পরেও আশা করি থাকবেন। যাদের জানার তারা জানতেন। জানতেন বলেই পাপিয়ারা কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফোটেন, কর্মী থেকে বড় নেত্রী হয়ে ওঠেন। দেশ থেকে পাপিয়াদের জন্মদাতা নেতাদের পাপকে রুখে দিন আগে। ওদের মুখোশ উন্মোচন করুন, তাহলে আর একজন পাপিয়াও জন্ম নেবে না। গণমাধ্যমও কিন্তু এ দায় এড়াতে পারে না। শত প্রতিক‚লতা সত্তে¡ও গণমাধ্যমকে এ দায় নিতেই হবে। পাপিয়া পাপ কর্মের সংবাদ তারা কেন প্রকাশ করতে পারেনি। গণমাধ্যম কেন সংবাদ প্রকাশ করেনি বা এসব ক্ষেত্রে কেন সংবাদ প্রকাশ করতে পারে না, অনেক কথা বলা যায়। আজ না হয় না-ই বললাম। ওসব নিয়ে কথা হবে আরেকদিন।
সাংবাদিক ও লেখক।
[email protected]

ডিসি