ম্যারাথন দৌড় জিতলেন ৬১ বছরের লতা!

আগের সংবাদ

উন্নত চিকিৎসায় সম্মতি দেননি খালেদা জিয়া

পরের সংবাদ

লাকি সেভেনে মুমিনুলের ভাগ্য বদল

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ , ১২:৫৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেটের টেস্ট দলের নেতৃত্ব পাওয়ার পর মুমিনুল হক ব্যাটিংয়ে ঠিক তেমনভাবে নামের প্রতি সুবিচার করে সৌরভ ছড়াতে পারছিলেন না। একের পর এক ব্যর্থতায় হারের মিছিল দীর্ঘায়িত হচ্ছিল বাংলাদেশের। এমন অবস্থায় ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজের জার্সি নম্বরই বদলে ফেলেন মুমিনুল হক সৌরভ। আর তাতেই যেন ভাগ্যও বদলে যায় এ লিটল মাস্টারের। জানা গেছে, স্ত্রীর পছন্দের কারণেই নিজের জার্সি নম্বর ‘০৭’ বেছে নিয়েছেন মুমিনুল।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মিরপুরে ব্যাট হাতে দারুণ এক শতক হাঁকিয়েছেন মুমিনুল, যেটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম। অধিনায়ক হিসেবে পেয়েছেন প্রথম টেস্ট জয়, সেটাও আবার ইনিংস ব্যবধানে। বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে এর আগে জিতেছে মাত্র একটি টেস্ট। কে জানে লাকি নম্বর সেভেনের প্রভাবেই এই জয় কিনা! আগে তার জার্সি নম্বর ছিল ‘৬৮’। মিরপুর টেস্টে দেখা গেল তার জার্সির পেছনে লেখা সৌভাগ্যের নম্বর ‘০৭’।
জার্সি নম্বর পরিবর্তনের কারণ বলতে গিয়ে মুমিনুল জানান স্ত্রীর চাওয়াতেই পুরনো জার্সি নম্বর বদলেছেন তিনি। এখন থেকে নাকি তিনি এই জার্সি নম্বর পরেই খেলবেন। বাংলাদেশ দলের টেস্ট স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক সৌরভ বিয়ে করেছেন মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসিন্দা ফারিহা বাশারকে। গত বছর ১৯ এপ্রিল রাজধানী মিরপুরের পিএসসি কনভেনশন হলে মুমিনুল-ফারিহার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। যদিও ২০১৮ সালের আগস্টে তাদের বাগদান হয়েছিল। ফারিহা, রানা আবুল বাশার ও তাসলিমা ইসলামের দ্বিতীয় মেয়ে। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। এছাড়াও তার আরেকটি পরিচয় হচ্ছে তিনি ক্রিকেটার সৈকত আলির শ্যালিকা। আর মুমিনুল কক্সবাজার শহরের বৈদ্যরঘোনা এলাকার নাজমুল হক ও মালেকা জয়নাবের ছেলে। তার সঙ্গে এখন থেকে ৬/৭ বছর আগে ঘটনা চক্রে পরিচয় হয় এই মেয়ের। তখন হয়তো ক্লাস নাইন বা টেনে পড়তেন ফারিহা। প্রথম দেখাতেই তাকে ভালো লাগে মুমিনুলের।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সন্তান বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের তারকা ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক সৌরভের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ২০১২ সালের মার্চে। এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৪০ টেস্টে ৯ সেঞ্চুরি এবং ১৩ ফিফটিতে ৪০.৮৬ গড়ে দুই হাজার ৮৬০ রান করেছেন তিনি। আর ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ২৮ ম্যাচে করেছেন ৫৫৭ রান। মুমিনুলই দেশের একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি টেস্টের দুই ইনিংসে পরপর সেঞ্চুরি করেছেন।
ওদিকে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেই সুখবর পেয়েছেন মুমিনুল হক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩২ রানের ইনিংস খেলার মধ্য দিয়ে ব্যাটসম্যানদের র‌্যাঙ্কিংয়ে পাঁচ ধাপ এগিয়েছেন বাংলাদেশ দলের টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক। বর্তমানে মুমিনুলের অবস্থান ৩৯তম।
মিরপুর টেস্টে ৬ উইকেট হারিয়ে দলের সংগ্রহ ৫৬০ রান। ব্যক্তিগত ২০৩ রানে ক্রিজে মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের লিড তখন ২৯৫ রান। ঠিক সে সময়েই ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। পরে মুশফিক জানান, ইনিংস ঘোষণার কথা তিনি জানতেন না। তার সামনে ৩০০ করার সুযোগ ছিল। তবে অধিনায়ক মুমিনুল মনে করেন, তার ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল। মুমিনুল বলেন, ‘সেই মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। কারণ বৃষ্টির শঙ্কা ছিল। শেষ বিকেলে বৃষ্টি হয়েছেও। ইনিংস ও ১০৬ রানের ব্যবধানে জয়ই বলে দিচ্ছে আমি ভুল করিনি।’ সংবাদ সম্মেলনে জয় নিয়ে এভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক।
মাঠের ভেতরে অধিনায়কত্ব করতে কতটা কঠোর হতে হয় এমন প্রশ্নের জবাবে হাসি দিয়ে মুমিনুল বলেন, আমার নেতৃত্ব শুরু হয়েছিল বিসিএল, এনসিএল দিয়ে। ওই জায়গায় প্রথম প্রথম নরম ছিলাম। পরে দেখলাম যে স্বভাব বদলাতে হবে। যারা মাঠে থাকে তারা জানে। এখন একটু এগ্রেসিভ থাকতে হয়, সবাইকেই ঝাড়ি মারি।

ডিসি
বিষয়: