অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে গোয়েন্দারা

আগের সংবাদ

উহান থেকে ২৩ বাংলাদেশিকে নেওয়া হলো দিল্লিতে

পরের সংবাদ

মামলার তদন্ত ডিবিতে

যেভাবে উচ্ছৃঙ্খল জীবনে পাপিয়া

আসলাম রহমান

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ , ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ

শখের বশেই বছর দুইয়েক আগে উচ্ছৃঙ্খলতা ও বিলাসবহুল জীবনযাপনে জড়িয়ে পড়েন বলে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কৃৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। স্ত্রীর এই উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে সানন্দে সায় দিয়ে সঙ্গী হয়েছিলেন স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন নিজেও। এরপর আর তাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।
গত বছরের আগস্ট মাসে এক সন্ধ্যায় হোটেল ওয়েস্টিনে নাশতা করতে এসে হোটেলের আলো ঝলমলে, বিলাসবহুল জীবন ভালো লেগে যায় পাপিয়ার। এরপর থেকে ওয়েস্টিনের প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট ভাড়া করে সেখানেই বসবাস শুরু করেন।

পাপিয়ার ওই অন্দরমহলে নিয়মিত আনাগোনা ছিল সুন্দরী তরুণীসহ শোবিজের উঠতি বয়সী লাস্যময়ীদের। সেখানে মনোরঞ্জনের জন্য ছুটে যেতেন দেশের বড় ব্যবসায়ীরা। ওই ভিআইপি ব্যবসায়ীদের নামের তালিকার বিষয়ে এখনো মুখ না খুললেও হোটেল ওয়েস্টিনের মালিক ব্যবসায়ী নূর আলীর সঙ্গে সখ্যের কথা পাপিয়া স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর থানার মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে গতকাল বুধবার রাতে মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। স্ত্রী পাপিয়ার বেপরোয়া জীবনে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে স্বামী সুমন চৌধুরী পুলিশকে জানিয়েছে, বিয়ের দীর্ঘদিন পরও মা হতে না পারায় মনোকষ্টে ভুগতেন পাপিয়া। পরে তারা ভারতের আজমীর শরীফে যান। সেখান থেকে আসার পর যমজ ছেলে ও মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন পাপিয়া। দু’বছর আগে নরসিংদীর বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মেয়েশিশুটি মারা যায়। এরপর থেকে পাপিয়া মদ খেয়ে নাচানাচিসহ যখন যা মনে চাইত তাই করত। ধীরে ধীরে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। মেয়ের মৃত্যুশোক যাতে ভুলে থাকে সে জন্য কোনো কিছুতেই বাধা দিতেন না তিনি।

স্বামী সুমন চৌধুরীর বরাত দিয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানায়, ২০১২ সালের অক্টোবরে নরসিংদী শহরের বাসাইল এলাকায় নিজ বাসার সামনে তার স্বামী সুমন চৌধুরীর ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে সামনে গিয়ে দাঁড়ালে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি পাপিয়ার পেটে বিদ্ধ হয়। এ কারণেও স্বামী সুমন চৌধুরী স্ত্রী পাপিয়ার প্রতি অনুরক্ত। তাই স্ত্রীর কোনো কাজেই বাধা দেন না তিনি। তবে পাপিয়া-সুমন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহানুভূতি পেতে এমন গল্প ফাঁদছেন বলে মনে করেন বিমানবন্দর থানার মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আরো জানান, যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় দুই নেত্রী এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এক সাংসদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন পাপিয়া। ওই তিনজনের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার এবং বিভিন্ন অনৈতিক কাজে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করতেন তিনি। ইতোপূর্ব গ্রেপ্তার অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধানের সঙ্গে পাপিয়ার যোগসূত্র রয়েছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান।

জালটাকা সরবরাহ, মাদক ব্যবসা, অনৈতিক কাজ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে পাপিয়া, তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে মতি সুমনসহ চারজনকে গত মঙ্গলবার থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বিমানবন্দর থানার পুলিশ। পাপিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় অর্থ পাচার ও জালটাকা রাখার ঘটনায় একটি মামলা এবং শেরেবাংলা নগর থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা হয়। মামলার অপর দুই আসামি পাপিয়ার সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবা।

বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক ও পাপিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. কায়কোবাদ কাজী ভোরের কাগজকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া এখনো অনেক বিষয় মুখ খুলছে না। যুব মহিলা লীগের শীর্ষস্থানীয় দুই নেত্রী ও ঢাকার একজন সাবেক নারী সাংসদের আশ্রয়-প্রশ্রয় থেকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে পাপিয়া। আয়ের উৎস হিসেবে পাপিয়া কারওয়ান বাজারে ও নরসিংদীতে গাড়ি ব্যবসার কথা বললেও তার বিলাসবহুল জীবনের ব্যয়ের সঙ্গে এর কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। জালটাকার বিষয়ে সে মুখ খোলেনি। এগুলো নাকি তার নয়। তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

ডিসি