ঢাকা-সিটি কলেজের ছাত্রদের মারামারি, আহত ৫

আগের সংবাদ

বিশ্বে ইলিশ আহরণে শীর্ষে বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

ফের চলবে ফেরি

নগরবাড়ীতে আধুনিক নৌবন্দর নির্মাণ শুরু

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ , ৫:৪২ অপরাহ্ণ

উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলায় নৌপথে পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রবেশদ্বার পাবনার নগরবাড়ীতে আধুনিক নৌবন্দর নির্মাণ কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এই নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

৫১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে তিনটি প্যাকেজে আরসিসি (পাকা) জেটি, নদীতীর রক্ষায় অবকাঠামো ও বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এর ফলে এ বন্দর দিয়ে বছরে ৩০ লাখ টন পণ্য নিরাপদে উঠানামা করতে পারবে। বঙ্গবন্ধু সেতুর বিকল্প হিসেবে এ বন্দরের ব্যবহার বাড়বে ও সেতুর উপর চাপ কমবে।

বন্দরের নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের পর পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর থানাধীন হরিনাথপুর এসইএসডিপি মডেল হাই স্কুল মাঠে এক সুধী সমাবেশে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে। আবারও জেগে ওঠবে নগরবাড়ী বন্দর। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হয়েছে বলে এ ঘাট বন্ধ হতে পারে না। মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। তাই সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে। এই ঘাটের আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে এখানকার মানুষেরও জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।

নগরবাড়ীতে আবারো ফেরি চালু করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী পাবনার থেকে ফেরি চালুর নির্দেশনা ইতোমধ্যে দিয়েছেন। কাজীরহাটে ফেরি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আরও একটি ফেরি রুট চালুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

এর আগে পাবনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ ফেরি চালু বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পাবনা ও মানিকগঞ্জের কয়েকজন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বক্তব্য রাখেন।

নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: ভোরের কাগজ।

বিআইডব্লিউটিএ জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সার, সিমেন্ট, বালি, কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্য পাবনার বেড়া উপজেলায় অবস্থিত নগরবাড়ী নৌবন্দরে আসে। সেখান থেকে সড়ক পথে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা পরিবহন করা হয়। একইভাবে উত্তরাঞ্চলের মালামাল এ বন্দর দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ৩৬ একর জমি অধিগ্রহণ, দুটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ, জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামায় মোবাইল হারবার ক্রেন বসানো, পণ্য রাখার গুদাম, শ্রমিকদের বিশ্রামাগার, জাহাজের পাইলটদের জন্য ভবন তৈরিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনা নদীর তীরে গড়ে ওঠা নগরবাড়ী বন্দরে বর্তমানে কোনো অবকাঠামো নেই। নেই পাকা সড়কও। অথচ বন্দরেই রয়েছে কয়েকটি জাহাজ। পণ্য উঠানামায় কর্মরত শ্রমিক মো. আশরাফ আলী বলেন, নদীতে পাড় ভেঙে যায়, তাই বালির বস্তা দিয়ে তা ঠেকানো হচ্ছে। সেখানেই পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়ছে। তিনি বলেন, মাটির রাস্তা হওয়ায় বর্ষাকালে জাহাজে পণ্য উঠাতে বা নামাতে অনেক কষ্ট হয়। মালের বস্তা মাথায় নিয়ে জাহাজে যাওয়ার সময়ে কাদায় পা ডেবে অনেক শ্রমিক আহত হয়েছেন।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন আরও কয়েকজন শ্রমিক। তারা আশা করছেন, বন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ হলে তাদের অনেক কষ্ট লাঘব হবে এবং বন্দরে আসা যাওয়া জাহাজের সংখ্যা বাড়বে।

এ বিষয়ে নগরবাড়ী আনুষঙ্গিক সুবিধাদিসহ নদী বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, ১৯৮৩ সালে নগরবাড়ী বন্দরের কার্যক্রম শুরু হলেও সেখানে সরকারি-বেসরকারিভাবে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা গড়ে ওঠেনি। প্রাকৃতিক পরিবেশে এ বন্দরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমরা এটি আধুনিক বন্দরে পরিণত করতে কাজ করছি। অবকাঠামো নির্মাণের পর বন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠানামা সহজ হবে।

এনএম