নীরব ঘাতক ডায়াবেটিস

আগের সংবাদ

সৌদিতে বাঙালি নারীর কান্না শুনতে পাচ্ছেন?

পরের সংবাদ

বিদ্যুতের বেশি দাম জনজীবনে বাড়াবে চাপ

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ , ৮:৪০ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ , ১২:০১ অপরাহ্ণ

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে জনজীবনে চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন সর্বস্তরের মানুষ। বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবি ও সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের বিরোধিতার পরেও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই। এর ফলে জিনিসপত্রের দাম আরো বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে জনজীবনে। প্রতিমাসে ভোক্তাদের বাড়তি টাকা গুণতে হবে।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত একেবারেই অযৌক্তিক। এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন ছিলো না। শুরু থেকেই আমরা এর বিরোধিতা করছি। এখন জনগণ ব্যাপক চাপের মুখে পড়বে। জীবনযাত্রার সব ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই সিদ্ধান্তকে সরকারের পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, গত চার বছরে আমাদের উৎপাদন খরচ ২৯.৪০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমেছে। এটা আমাদের পক্ষে চালিয়ে নেয়া অসম্ভব। তাই নতুন করে উৎপাদন খরচ বাড়ানো ঠিক হবে না। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো শিল্পখাতের জন্য ক্ষতিকারক হবে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। লুটপাটের নতুন প্রতিযোগিতা শুরু করা হয়েছে। আমরা এটা মেনে নেবো না।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শাকিল আহম্মেদ বলেন, এই মুহূর্তে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো নিম্ন ও মধ্যবিত্তের স্বার্থবিরোধী। অর্থ খরচ করে এটা অর্থহীন কাজ হয়েছে। সব ক্ষেত্রে জনগণের খরচ ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাবে। পুরো প্রক্রিয়াটিই জনগণের বিরুদ্ধে চলে গেছে। বিভিন্ন সময়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু বিগত বছরগুলোতে জনগণ কি পেয়েছে সেই হিসাব সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। জনগণের প্রতিবাদ ছাড়া সরকারের এই প্রবৃত্তি বন্ধ হবে না। এখন জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে।

চাকরিজীবী কাওসার হোসেন জানান, বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর ফলে জীনবযাত্রার ব্যয় বহুগুণে বেড়ে যাবে- যা একজন চাকরিজীবীর প্রত্যহিক জীবনে নাভিশ্বাস উঠবে।

এদিকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। নেতারা বিদ্যুতের অযৌক্তিক দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে জোটের নেতারা বলেন, সরকারের ভুলনীতি-দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণেই আজ বিদ্যুতের দাম দফায় দফায় বাড়ানো হচ্ছে। জনগণের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। সব ক্ষেত্রে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়বে। নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম, বাড়িভাড়া, গাড়িভাড়া বেড়ে যাবে। জনগণর চরম সংকটে পড়বে।

উল্লেখ্য, পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন- এই তিন ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বিইআরসি। খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের দাম ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, পাইকারিতে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কাওরানবাজারের টিসিবি ভবনের বিইআরসি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই ঘোষণা দেয়। আগামী ১ মার্চ থেকে এই দাম কার্যকর হবে।

বিইআরসির নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানির ৯০ দিনের মধ্যেই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানাতে হয়। তবে ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার এক সপ্তাহ আগে বৃহস্পতিবার বিইআরসি দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।

এমএন

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়