দুদকের সুপারিশগুলো আমলে নেয়া হোক

আগের সংবাদ

ব্যারিস্টার কাজলের বিরুদ্ধে আবেদন নিষ্পত্তি চেয়ে নোটিস

পরের সংবাদ

ঘোরাঘুরি নয়, এখন লিস্ট ধরে ধরে বই কেনা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ , ৯:১৯ অপরাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ , ৯:২৫ অপরাহ্ণ

দেখতে দেখতেই মাস পেরিয়ে মেলায় যেন কিছুটা বিদায়ের সুর বাজছে। শনিবার পর্দা নামছে বাঙালির শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারক হিসেবে পরিচিত এ মেলার। তাই এখন আর ঘোরাঘুরি নয়, হাতে হাতে শুধু বই আর বই। কেউ কেউ আবার লিস্ট ধরে বই কিনছেন। দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসছে মানুষ। প্রিয় লেখকের বই সংগ্রহ করতে।

কারণ একদিন পরেই মাসব্যাপী মুখর বাংলা একাডেমি ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নামবে নীরবতা। বইপ্রেমীদের ভিড়, আড্ডা আর হাতে হাতে বইয়ের দৃশ্যও দেখা যাবে না। এ মনোরম দৃশ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো ১১ মাস। তাইতো প্রাণের মেলায় চলছে পাঠকের শেষের আবেগ। বৃহস্পতিবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না।

এদিকে আজ মেলার শেষ শুক্রবার ও ছুটির দিন থাকায় মেলার দ্বার খুলবে সকাল ১১টায়। প্রথম প্রহরেই শিশুদের জন্য রয়েছে শিশুপ্রহর। আজ মেলায় বইপ্রেমীদের ঢল নামবে বলে আশাবাদি প্রকাশকরা। তারা এজন্য অতিরিক্ত প্রস্তুতিও নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক প্রকাশক।

উৎস প্রকাশনের প্রকাশক মোস্তফা সেলিম বলেন, এখন মেলার শেষ সময়। যারা আসেন, তারা বই নিয়েই ফিরেন। তাই স্বভাবতই বেচাবিক্রি বেড়েছে। মেলার শেষ সময়ে প্রতিবছরই এমন চিত্র থাকে। ঐতিহ্য প্রকাশনীর বিক্রয় ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, বেচাবিক্রি ভালোই চলছে। শেষ সময়ে মেলায় যারা আসে তারা বই কিনে বেশি। তাই আমাদেরও বেচাবিক্রি ভালো চলছে।

রাজশাহী থেকে মেলায় আসা অনিমেষ রায় বলেন, মেলা তো প্রায় শেষ। তাই পছন্দের লেখকদের বইগুলো সংগ্রহ করতে মেলায় এসেছি। অনেকগুলো পছন্দের বই কিনলাম। আরো কিনবো।

মেলায় হুমায়ুন আজাদকে স্মরণ: বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদের ওপর মৌলবাদী চক্রের সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকী উপলক্ষে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় তাকে স্মরণ করা হয়েছে। বিকেলে লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় মূল বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কবি কাজী রোজী, ছড়াকার আসলাম সানী, আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গনি প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, হুমায়ুন আজাদের হত্যা চেষ্টার বিচার এখন সময়ের দাবী। তার পরিবার এবং সৃজনশীল লেখকরা সকলেই এই বিচারের দাবীতে অঙ্গিকারবদ্ধ। অবিলম্বে হুমায়ুন আজাদের হত্যা চেষ্টার বিচার বাস্তবায়ন এবং তার আদর্শে মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমাজ-রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে আমাদের তাকে স্মরণ করতে হবে।

প্রত্যয়ী মানুষ হতে বইয়ের কোন বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী
ইমরান আকন্দের ‘বিপ্লবী নূর হোসেন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করতে বৃহস্পতিবার বইমেলায় এসেছিলেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। বাংলা একাডেমির পুকুর পাড়ে মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে এ উন্মোচন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তিনি আরও দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। বইগুলো হলো শিবুকান্তি দাসের ‘আমার বঙ্গবন্ধু আমার স্বাধীনতা’ এবং মোহাম্মদ হোসেনের ‘মৃত্তিকা থেকে আকাশ ছুঁয়েছে যে নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’।

বইগুলোর মোড়ক উন্মোচন করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জীবন গড়ার জন্য এবং প্রত্যয়ী মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে বইয়ের বিকল্প নেই। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের হাতে স্মার্ট ফোন না দিয়ে বই তুলে দিন। আমার রাজনীতিতে আসার পেছনেও বেশ কয়েকটি বইয়ের গুরুত্ব রয়েছে।

গ্রন্থমেলায় শান্তনু চৌধুরীর দুটি বই: শান্তনু চৌধুরীর দুটি বই প্রকাশ হয়েছে এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। একটি সাহিত্য জগতে সর্বাধিক পরিচিত তিন ভাই হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও আহসান হাবীবকে নিয়ে বড় মেজ ও ছোট। বইটি প্রকাশ করেছে অন্বেষা প্রকাশন। প্যাভেলিয়ন নম্বর ৩৩। দাম ২৭০ টাকা। অপর বইটি বেশ সময়োপযোগী, উৎস প্রকাশন থেকে প্রকাশ হওয়া বইটির নাম মোবাইল জার্নালিজম। প্যাভেলিয়ন নম্বর ৩২। দাম ২২০ টাকা। দুটি প্রকাশনা সংস্থাই বাংলা একাডেমির পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

নতুন বই: বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১৫৫টি। এর মধ্যে পাঞ্জেরী এনেছে তাপস রায়ের ‘রসিক নজরুল’, বর্ষাদুপুর এনেছে সৈয়দ শামসুল হকের ‘সীমান্তের সিংহাসন’, ভাষাচিত্র এনেছে তুষার আব্দুল্লাহর ‘তারণ্য টি টুয়েন্টি নয় টেস্ট’, চর্চা গ্রন্থপ্রকাশ এনেছে হেলাল হাফিজের ‘এক জনমের জন্মজখম’, অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে আহমদ রফিকের ‘‘পাক-ভারত সমাচার ও বিবিধ প্রসঙ্গ’ প্রভৃতি।

এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়