বিদেশে চিকিৎসার আবেদন খালেদার

আগের সংবাদ

বড়বিল ইউপি চেয়ারম্যান আফজালুল হক রাজু গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

কাজ শুরুর আগেই শেষ প্রকল্পের মেয়াদ!

হাবিবুর রহমান হবি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ , ২:২৫ অপরাহ্ণ

উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে গাইবান্ধাবাসীর তিস্তা সেতু নির্মাণের দাবি বহুদিনের। নানান আন্দোলন সংগ্রামের পর বহু প্রত্যাশিত দ্বিতীয় তিস্তা সেতু নির্মাণের দাবি আলোর মুখ দেখে। সে অনুযায়ী তিস্তা নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৬ সালে সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে গিয়ে সেতুর কাজ শুরুর আগেই পেরিয়ে যায় প্রকল্পের মেয়াদ। গত বছরের ৩০ জুন প্রকল্পটির মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ায় নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাবনা পাঠানো হয়।

এদিকে, দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের তিস্তা বাজার এলাকায় নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণ প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। সেটি এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ফলে নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমতি না মেলায় তিস্তা সেতুর নির্মাণ কাজ এখনো ঝুলে আছে। গত বছরের ৩০ জুলাইয়ে প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার সীমানা দিয়ে বয়ে চলা তিস্তা নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য দাবি ওঠে ২০০১ সালে। সেই সময় থেকে তিস্তা পারের বাসিন্দারা সেতু নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসে। এরপর ২০১৫ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের প্রচেষ্টায় তিস্তা নদীর উপর সেতু নির্মাণে আর্থিক সহায়তা এগিয়ে আসে দাতাদেশ সৌদি আরব। ২০১৬ সালে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু বাস্তবায়নের সকল প্রক্রিয়া শেষ হয়। ওই বছওে সেতু নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীদের গুলিতে লিটন মারা গেলে থেমে যায় সেতু নির্মাণের কার্যক্রম। পরে আওয়ামী লীগের উপজেলা সাধারন সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিস্তা সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়া চলমান রাখেন। এরপর সেতু নির্মাণে সকল প্রক্রিয়া শেষ করেন তিনি। দাতাদেশ সৌদি আরবের প্রতিনিধি দল কয়েক দফায় প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে সেতু নির্মাণে অনুমতি দেয়। সড়ক দূর্ঘটনায় তিনিও মারা গেলে আবারো স্থবিরতা দেখা দেয় সেতু বাস্তবায়নে। পরে উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তিস্তা সেতুর কাজ পূণরায় চালু করেন।

স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর সুত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে দরপত্র আহ্বান করে সেতু বিভাগ। ৩৫৫ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারিত এ সেতুর নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পান চিনের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর শুরু হয় জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া। আর জমি অধিগ্রহণের জন্য ২০১ কোটি ৬৩ লাখ ও ছয় কিলোমিটার নদী শাসনে ৮৭ কোটি ৪৫ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। ৩১ টি স্প্যান সম্বলিত সেতুটির দৈর্ঘ্য হবে ১ হাজার ৪৯০ মিটার। এর প্রস্থ হবে ৯ দশমিক ৬ মিটার। সেতুটির উভয় পাশে ৮২ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এসব সড়ক বর্ধিতকরণে মাটি ভরাটের জন্য ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ সড়কে মাটি ভরাট শেষ হয়েছে। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম অংশে ছয় কিলোমিটার ও গাইবান্ধা অংশে ৭৬ কিলোমিটার রয়েছে। সড়কটির প্রস্থ হবে ২৪ ফুট। এসব কাজের তদারকি করবে স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর। গত বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সৌদি আরব থেকে অনুমোদন পেতে দেরি হওয়ার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

সড়কটি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা, সীচা, পাঁচপীর, ধর্মপুর ও সদর উপজেলার লক্ষীপুর হয়ে সাদুল্যাপুরের ধাপেরহাট এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে মিলিত হবে। ঢাকায় প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে সেতু নির্মাণের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। গত বছরের ৩০ জুন প্রকল্পটির মেয়াদ পেরিয়ে যায়। মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ৩০ জুলাই প্রস্তাব পাঠায় সংশ্লিষ্ট দপ্তর। দাতাদেশ সৌদি আরব প্রকল্পটি অনুমোদন দিতে দেরি করায় প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। নানান জটিলতার পর অনুমতি দিলেও এরই মধ্যে মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে মেয়াদ বৃদ্ধি করার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। প্রস্তাবনাটি প্রায় ছয় মাস ধরে একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

সেতুটি নির্মিত হলে এর সুফল কী হবে তা জানতে চাইলে তিস্তা সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শরিয়ত উল্যা মাস্টার বলেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর এলাকায় তিস্তা সেতু নির্মাণের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। আন্দোলন সংগ্রামের পর আমরা আলোর মুখ দেখেছি। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন পূরণ হবে। এতে উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের মানুষ গাইবান্ধার ভেতর দিয়ে যাতায়াতের সুযোগ পাবে। এতে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব কমবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি হবে।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম শেখকে একাধিকবার মুঠোফোন যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনছুর বলেন, সেতুটির কাজের মেয়াদ ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেখানে সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষে প্লানিং কমিশন অনুমোদন করেছে। এখন প্রস্তাবটি একনেক সভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ডিসি