সমৃদ্ধিশালী মাতৃভাষা

আগের সংবাদ

আমানতের বিপরীতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার খবর গুজব

পরের সংবাদ

অর্থনৈতিক উন্নয়নে বায়ো ডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক

হ্যাপী খাতুন

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ , ৯:৪৪ অপরাহ্ণ

মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে বিজ্ঞানীরা তৈরি করে আসছেন নিত্যনতুন জিনিস। আর তারই একটি রূপ হলো প্লাস্টিক। যা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যাপক হারে। আর তাই প্লাস্টিকজাতদ্রব্য বা প্লাস্টিক আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহারকৃত সামগ্রীর তালিকায় অপরিহার্য ভ‚মিকা রাখছে। কিন্তু এর ব্যবহার অপরিহার্য হলেও প্লাস্টিক অপচনশীল পদার্থ। তাই প্লাস্টিক আমাদের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই ক্ষতির কারণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছেন পরিবেশবান্ধন বায়ো-ডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক, যা পরিবেশবান্ধব হয়ে কাজ করে যাবে। আর এই পরিবেশবান্ধন বায়ো-ডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এটি পরিবেশের জন্য টেকসই ও অধিক সাশ্রয়ী।

বায়ো-ডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক হলো বায়ো-প্লাস্টিক সমন্বয়ে তৈরি। যার উৎস হলো নবায়নযোগ্য কাঁচামাল। এই পরিবেশবান্ধন বায়ো-ডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক বর্তমানে বহুল আলোচিত বিষয়। প্লাস্টিক যেখানে হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে অপচনশীল অবস্থায় রয়ে যায়, পাশাপাশি পরিবেশের ক্ষতি করে। কারণ এ পর্যন্ত তৈরি হওয়া সব প্লাস্টিকই কোনো না কোনো আকারে পৃথিবীতে জমা হয়ে রয়েছে। প্লাস্টিক অপচনশীল অর্থাৎ মাইক্রো-অরগানিজমস বা অণুজীবরা একে নষ্ট করতে পারে না। এই কারণে প্লাস্টিক ধ্বংস হতে বা মাটির সঙ্গে মিশে যেতে ৪০০ থেকে ৪৫০ বছর সময় লেগে যায়। যা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

এজন্য বৈপ্লবিক আবিষ্কার প্লাস্টিককেই এখন জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৫০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন টন প্লাস্টিক তৈরি হয়েছে বিশ্বে- যার মধ্যে ৯ শতাংশ রিসাইকেল করা হয়েছে, ১২ শতাংশ পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়েছে। আর বাকি ৭৯ শতাংশ অর্থাৎ ৪ দশমিক ৯ বিলিয়নের মতো প্লাস্টিক পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশই জমা হয়ে আছে। তাই তো বলা হয়ে থাকে যে, এসব প্লাস্টিক যদি এক সঙ্গে জমা করা হয় তবে তা মাউন্ট এভারেস্ট থেকে বড় হবে। এই প্লাস্টিকের বড় একটি অংশ সাগরে মিশে যায়। যা জলজ প্রাণীর খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে, তাদের ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং বিলুপ্তির পথে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্য ২০০২ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করে, যা কখনো কার্যকরী হয়নি।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, কঠোর আইন প্রয়োগ করেও এর উৎপাদন আর ব্যবহার কোনোভাবেই কমিয়ে আনা যাচ্ছে না। বিপরীতে প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সেখানে বায়ো-ডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক বিজ্ঞানীদের এক আশীর্বাদস্বরূপ আবিষ্কার। এই বায়ো-ডিগ্রেডেবল বা জীবাণুবিয়োজ্য প্লাস্টিক জৈবিক ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে অতি সহজে ভেঙে ফেলা সম্ভব। যা মাটি আর পানির সঙ্গে মিশে যায় এবং পরিবেশের জন্য কম ক্ষতি করে। আর এই প্লাস্টিককে নতুন প্রজন্মের প্লাস্টিক বলে বিবেচিত হচ্ছে, যা প্রস্তুত করতে ব্যবহার হতে পারে আলু, ভুট্টা, ট্যাপিওকা, আখ, সয়াপ্রোটিন, ল্যাকটিক এসিড ইত্যাদি।

তাই বলতে পারি, পরিবেশ রক্ষায় বায়ো-ডিগ্রেডেবল প্লাস্টিকের ভ‚মিকা অপরিহার্য। প্লাস্টিকের ব্যবহার যেহেতু অপরিসীম, চলুন আমরা সবাই বায়ো-ডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক ব্যবহার করি। আর পরিবেশকে বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলি। যা আমাদের আগামীর পৃথিবীকে নতুন আলোর পথ দেখাবে। যা পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নের পথ দেখাবে। তাই যতটা সম্ভব বায়ো-ডিগ্রেডেবল প্লাস্টিকের পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

শিক্ষার্থী, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।
[email protected]

এসআর/পিআর