তিনমন্ত্রীর উদ্যোগ কাজুবাদাম রপ্তানির চিন্তা

আগের সংবাদ

মেলায় শামসের পাঁচটি বই

পরের সংবাদ

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০

বৃষ্টিভেজা দিনে থামেনি বিক্রি

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০ , ১০:৩২ অপরাহ্ণ

বিকেল থেকেই ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি। তাতে মেলার কোনো ছন্দপতন হলো না। বরং বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যাকে আরো মনোরম করে তুলল পাঠক লেখকের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। অবশ্য আবহাওয়া অফিস পূর্বাভাস দিয়েছিল। ২৪, ২৫ ও ২৬ তারিখ বৃষ্টি হতে পারে। সেই অনুযায়ী বাংলা একাডেমিও আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছে। সতর্ক সবাই। তবে, বৃষ্টির এই বাগড়া পাঠকদেরকে থামাতে পারেনি। মেলায় প্রচুর লোকের সমাগম হয়েছে। শুধু তাই নয় বিক্রিও ছিল বেশ। ছোট বড় সব স্টল ও প্যাভিলিয়নই ছিল জমজমাট।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে প্রবেশ করে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ স্টল ও প্যাভিলিয়ন প্ল্যাস্টিকের ত্রিপল দিয়ে ঢাকা। পাঠকরা আসলেও তারা সেই সময়ে বই কিনতে পারেননি। এমন অবস্থা চলে প্রায় এক ঘন্টা। তারপর বৃষ্টি কিছুটা কমে আসলে সবাই পসরা সাজাতে শুরু করেন। এর মধ্যেই চলেছে বইয়ের বিক্রি। সন্ধ্যা নাগাদ বৃষ্টি পুরোপুরি থেমে গেলে বইয়ের বিক্রি স্বাভাবিক হয়। মেলাতে এখন যারা আসছেন তারা বেশিরভাগই বইয়ের ক্রেতা। মেলার শুরু থেকেই এবার বিক্রি কম এমনটা শোনা গেলেও এই সময়ে এসে প্রকাশকদের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে।
ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের কর্ণধার আদিত্য অন্তর বলেন, এটা তো স্বাভাবিক কথা প্রতিবছরই মেলায় বৃষ্টি হয়। এ জন্য আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। এবারও তাই করেছি। বৃষ্টির মধ্যেই প্রচুর পাঠকের সমাগম দেখা যাচ্ছে। বইয়ের বিক্রিও ভালো।
জার্নিম্যান বুকস-এর তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যার উৎসবে মঙ্গলবার জার্নিম্যান বুকস প্রকাশিত তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুনের ‘চেরী ফোটার দিন’, বৃষ্টিভেজা স্মৃতির গান’, এবং কবি তারিক সুজাতের বিশিষ্ট শিল্পী রফিকুন্নবী চিত্রিত ‘সুরের পথে একলা হাঁটি’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জার্নিম্যান বুকস এর প্যাভিলিয়নে এ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফের সঞ্চালনায় মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী রফিকুন নবী, ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন, কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত, ক্যাপ্টেন আলমগীর সাত্তার, শিল্পী রোকেয়া সুলতানা, কবি তারিক সুজাত, জার্নিম্যান বুকস এর কর্নধার ও গবেষক নাজনীন হক মিমি, গবেষক চৌধুরী শহীদ কাদের, কবি সাকিরা হক প্রমূখ।
আবুল হাসনাত বলেন, একটা অঙ্গীকার নিয়ে তারিক সুজাত লিখছেন। যেখানে স্বদেশ চেতনা এবং দেশপ্রেম আছে, যা শিল্পগুণে উজ্জল এবং অসাধারণ। তার গ্রন্থটি যেন যৌথ সুরের ছন্দ।
তিনি বলেন, সুরের ধারায় অবগাহন করেই কবি তারিক সুজাতের সাম্প্রতিক কবিতার ভূবনে পথ চলা। কবির সাম্প্রতিক সৃজন উদ্যানে এরই ছাপ। ছোট ছোট পংক্তি কিন্তু বহু অর্থে সূক্ষ্ণ ও ব্যঞ্জনাময়। তারিকের গ্রন্থের অন্তর্নিহিত শক্তিই হচ্ছে সুরের অনুভূতির তীব্র ও প্রবল আলোড়ন।
ক্যাপ্টেন আলমগীর সাত্তার বলেন, তারিক সুজাত নতুন কবিতার ধারা সৃষ্টি করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে যারা লিখছেন তাদের মধ্যে তারিক সুজাত অগ্রগণ্য। তিনি তার কবিতার মধ্য দিয়ে নতুন ধারা নির্মাণ করেছেন।
নিজের দুটো গ্রন্থ সম্পর্কে মুনতাসীর মামুন বলেন, মনে হলো জীবন পুননির্মাণ করতে হয় বারবার জীবনের বেঁচে থাকার আনন্দের জন্য। তেমনি লেখাও পুননির্মাণ করতে হয়। না, লেখার সংশোধন শুধু নয়। বিভিন্ন প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরা। সেই বোধ থেকেই নির্মিত হলো ‘চেরি ফোটার দিন’ ও ‘ বৃষ্টিভেজা স্মৃতির গান’-এ। দুটো গ্রন্থ সবাইকে খোলা মন নিয়ে পড়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এই ইতিহাসবিদ।
বক্তারা বলেন, মুনতাসীর মামুন ইতিহাসবিদের চোখে তথ্য এবং তত্ত্ব সহকারে মিশিয়ে অসাধারন বর্ননা করেছেন ‘চেরি ফোটার দিন’ ও ‘ বৃষ্টিভেজা স্মৃতির গান’। যা কাব্যিকতায় ভরপুর।
এ ছাড়াও সরকারের মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও সংস্কৃতিক প্রতিমন্ত্রী কে. এম খালিদ লেখক-প্রকাশকদের নিয়ে কন্ঠশিল্পী ফকির আলমগীরসহ আরও কয়েকজনের বেশ কয়েকটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।
মূলমঞ্চের আয়োজন
বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সমীর কুমার বিশ্বাস রচিত ‘বঙ্গবন্ধুর সমবায়-ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ পাঠ করেন সেলিম জাহান। আলোচনায় অংশ নেন রাজু আলাউদ্দিন, তপন বাগচী এবং এ এফ এম হায়াতুল্লাহ। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন সমীর কুমার বিশ্বাস। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী।
আলোচকবৃন্দ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেবল একজন সফল রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, রাষ্ট্রের গঠন ও উন্নয়নমূলক পরিকল্পনায় তাঁর গভীর প্রজ্ঞার পরিচয় আমরা পাই সমবায়-ভাবনার মধ্যে। তাঁর সমবায় প্রকল্পের মূল ছিল কৃষি, গ্রাম এবং জনগণ। এ প্রকল্পের প্রায়োগিক দিকগুলোও ছিল অত্যন্ত নিখুঁত, সুচিন্তিত এবং সময়োপযোগী। গণমুখী ও উৎপাদনমুখী রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধুর সমবায়-ভাবনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
গ্রন্থের লেখক বলেন, মানুষের অধিকার ও সমতায় বিশ্বাসী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলাকে কেবল শ্লোগানে সীমাবদ্ধ রাখেননি, সমবায় ব্যবস্থার মাধ্যমে তিনি সেই সোনার বাংলা গড়ার কাজে অগ্রসর হয়েছেন। আমার এ গ্রন্থটি বঙ্গবন্ধুর সমবায় ভাবনা ও প্রয়োগ সম্পর্কে প্রস্তাবনা মাত্র। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা করার অবকাশ রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে আবুল আহসান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে ৩ বছর বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পান। আর এ অল্প সময়েই তিনি দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সংস্কৃতিসহ সকল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে সমবায়কে তিনি তত্ত্বের পর্যায়েই সীমাবদ্ধ রাখেননি, প্রায়োগিক দিক দিয়েও একে সফল করে তোলার পরিকল্পনা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর কৃষি ও সমবায় ভাবনা বিষয়ক এ গ্রন্থ মহান রাষ্ট্রনায়কের রাষ্ট্রচিন্তা সম্পর্কে আমাদের জানার পরিধি বৃদ্ধি করবে।
কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি সিদ্ধার্থ হক, মিলু শামস, আফরোজা সোমা, মন্দিরা এষ এবং গিরীশ গৈরিক। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল মীর জাহিদুল হাসানের পরিচালনায় এবং মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের পরিবেশনায় নাটক ‘মহাপ্রয়াণের শোক আখ্যান’।
নতুন বই
বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্য অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার বইমেলায় নতুন বই এসেছে ৯১টি। এর মধ্যে কবিতাচর্চা এনেছে হাবীবুল্লাহ সিরাজী ‘মধুময় দুপুর মেখেছি’, দোয়েল প্রকাশনী এনেছে স্বপন কুমার সাহার কবিতাগ্রন্থ ‘মানবতার পঙতিমালা’, দেশ পাবলিকেশন্স এনেছে সীরাজুম মুনিরের ‘নিষিক্ত’, ঐতিহ্য এনেছে আফজাল হোসেনের ‘ইশ^রের ঐশ^র্য দাপট’, মিজান পাবলিশার্স এনেছে আনিসুল হকের ‘সে’, শিশুগ্রন্থকুটি এনেছে জ্যোতির্ময় সেনের ছড়ার বই ‘ভূত নিয়ে খুঁত খুঁত’ প্রভৃতি।

ডিসি
বিষয়: