অপ্রতিরোধ্য পিতৃতান্ত্রিকতা

আগের সংবাদ

পাপিয়ার ব্যবসার পুঁজি মদ-নারী-পিস্তল!

পরের সংবাদ

ওয়াসার পানি

দাম নয়, গুণগত মান বাড়ুক

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০ , ৮:৫৭ অপরাহ্ণ

ওয়াসার সেবা ও সরবরাহকৃত পানির মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। এর মধ্যেই ওয়াসার পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব গ্রাহকের মনে ক্ষোভের সঞ্চার করবে এটাই স্বাভাবিক। ইতোমধ্যে ঢাকা ওয়াসার পানির দাম বাড়িয়ে প্রায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে বলে চ‚ড়ান্ত হয়েছে। দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে ওয়াসা বলছে, বিকল্প সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ বিলসহ নানা ক্ষেত্রে পানির উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে দাম বাড়ানো ছাড়া কোনো উপায় নেই। এমনিতেই ঢাকা ওয়াসার সরবরাহকৃত পানির মান নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন রয়েছে। রাজধানীবাসীর পানি সরবরাহের একমাত্র প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসার পানির ওপর ন্যূনতম ভরসা করার কোনো উপায় নেই। পানি দুর্গন্ধযুক্ত। পানিতে ময়লা-আবর্জনা-কেঁচো ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। এই নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি, সরকারের নানা উদ্যোগও কম হয়নি। কিন্তু ফলাফল শূন্য। এমন অবস্থায় দাম বাড়ানো কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জানা গেছে, আবাসিক সংযোগে প্রতি ১ হাজার লিটার পানির বর্তমান মূল্য ১১ টাকা ৫৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হচ্ছে ২০ টাকা। আর বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগে প্রতি হাজার লিটার পানির বর্তমান মূল্য ৩৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৬৫ টাকা। অর্থাৎ আবাসিকে প্রতি হাজার লিটার পানির দাম বাড়ছে ৮ টাকা ৪৩ পয়সা এবং বাণিজ্যিক ও শিল্পে পানির দাম বাড়ছে ২৭ টাকা ৯৬ পয়সা। যেটা বর্তমান মূল্যের প্রায় দ্বিগুণ। বর্তমানে ওয়াসার বার্ষিক পানির গড় বিল করা হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা; সেটা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৬২ ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানে বিষাক্ত হয়ে পড়া বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পানি শোধন করতে হিমশিম খাচ্ছে ঢাকা ওয়াসা। এ দুটি নদীর পানিতে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান এতই বেশি যে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার জন্য শোধনের সময় মেশানো হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ক্লোরিন, এলাম (চুন) ও লাইন (ফিটকিরি)। তারপরও দুর্গন্ধ থাকছে পানিতে। অনেক সময় শোধিত পানি থেকে বের হয় ক্লোরিনের গন্ধ। যদিও ওয়াসার দাবি, শোধিত পানিতে সমস্যা নেই। এদিকে বিভিন্ন স্থানের পাইপলাইনে রয়েছে অসংখ্য ফুটো বা লিকেজ। এসব ফুটো দিয়ে বর্জ্য ঢুকছে পাইপলাইনের মধ্যে। একইভাবে বর্জ্য যুক্ত হচ্ছে স্যুয়ারেজ লাইনেও। এ পানি অতিমাত্রায় ফুটানোর পরও পানযোগ্য করতে পারছেন না নগরবাসী। আমরাও মনে করি, পরিচালনা ব্যয়, সিস্টেম লস, লোকসান ঠেকানোর অজুহাতে গ্রাহকের ওপর ওয়াসার পানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ মেনে নেয়া যায় না। এই মুহূর্তে ঢাকা ওয়াসাকে সরবরাহকৃত পানির বিশুদ্ধতা সংরক্ষণে মনোযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যে কোনো মূল্যে বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে। ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি বিশুদ্ধ করার পাশাপাশি নদীদূষণ রোধে টাস্কফোর্স গঠনসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া দরকার। পাশাপাশি ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হোক। গ্রাহকসেবা ও পানির গুণগত মান নিশ্চিতকরণে ওয়াসা মনোযোগী হোক।