বঙ্গবন্ধুর কাছে আমাদের অনেক ঋণ

আগের সংবাদ

ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদান

পরের সংবাদ

বাংলার ব্যবহার বাড়ানো দরকার

গোপাল অধিকারী

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০ , ৮:০৭ অপরাহ্ণ

ভাষা আন্দোলনের চ‚ড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৫২ সালে। ১৯৫২ সালের জানুয়ারি মাসে খাজা নাজিমুদ্দিন ঢাকায় আসেন। ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে এক জনসভায় বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের ভাষা কী হবে সেটা পূর্ব বাংলার জনগণই নির্ধারণ করবে। কিন্তু উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। এর প্রতিবাদে ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। ৩১ জানুয়ারি গঠিত হয় ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা পরিষদ’। ২১ ফেব্রুয়ারি প্রদেশব্যাপী ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই দিবসের কর্মসূচিকে সফল করতে ৪ ফেব্রুয়ারি হরতাল এবং ১১ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি পতাকা দিবস পালিত হয়। ’৫২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা’ ও ‘বন্দি মুক্তি’র দাবিতে শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন আহম্মদ আমরণ অনশন ধর্মঘট শুরু করেন। সব ন্যায্য অধিকারের দাবিতে বাঙালিরা যখন ঐক্যবদ্ধ তখন ২০ ফেব্রুয়ারি নুরুল আমিনের ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা শহরে ১ মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলায় ৮ ফাল্গুন মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্রনেতা গাজীউল হকের সভাপতিত্বে ছাত্র-জনতা মিছিল বের করে। সেদিন হাতে ছিল প্ল্যাকার্ড। মুখে ছিল স্লোগানে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’। পুলিশ বেষ্টনী ভেদ করে অসংখ্য দলে বিভক্ত হয়ে ছাত্রছাত্রীরা শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে চলতে থাকে পরিষদ ভবনের দিকে। শান্তিপূর্ণ মিছিলটি মেডিকেল কলেজের সামনে এলে পুলিশ সেদিনের সেই মিছিলে গুলিবর্ষণ করে। রাজপথে শহীদ হন জব্বার, শফিউর, রফিক, বরকতসহ নাম না জানা আরো অনেকে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সেদিনের সেই ভাবনা, সেদিনের সেই চেতনা পরবর্তী সব আন্দোলনে জুগিয়েছে প্রেরণা। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট, ১৯৬৬-এর ৬ দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন, সর্বোপরি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয় সবই ভাষা আন্দোলনের ফসল। সেদিন যে বাঙালি জাতীয়তাবোধের সৃষ্টি হয়েছিল তা বাঙালির সব আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। আন্দোলন ছাড়া যে বিজয় হয় না তা ভাষা আন্দোলন থেকে শিখতে পেরেছিল। পাকিস্তানিরা যে পূর্ব বাংলার উন্নতি বা সমৃদ্ধি চায় না তা বোঝা গিয়েছিল ভাষা আন্দোলন থেকে। তাই বলা হয় ভাষা আন্দোলনের মাঝে স্বাধীনতার বীজ লুকায়িত ছিল। বাঙালির অদম্য মনোবল দেখে, বাঙালির ভাষার জন্য আন্দোলন দেখে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
তবে একটি দুঃখের বিষয়, দুঃখের ইতিহাসের সঙ্গে বলতে হয় যে বাংলার জন্য জীবন দিলেন রফিক-শফিকসহ অনেকে অথচ আমরা কিন্তু সেই বাংলাকে কমই মনে রাখছি। আমরা কি বাংলাতে জনপ্রিয় করতে পারতাম না? বাংলাতে করলে কি মুখস্থ হতো না? ভেবে দেখা দরকার। ভেবে দেখা দরকার এই বাংলাকে যারা বিকৃত করছে। কারণ বাংলাকে বিকৃত করলে কষ্ট হবে ভাষাশহীদদের। বাংলা সবার অহঙ্কার। বাংলা সবার অলঙ্কার। ভাষার মাসে তাই ভাষাশহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই। প্রতিটি কাজের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি থাকে, থাকে পটভ‚মি। সেই প্রেরণায় ভাষা আন্দোলনেরও পটভ‚মি ও প্রত্যাশা ছিল। তাই বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা চাই। চাই বাংলার ব্যাপক ব্যবহার। আজকে দেশে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল বেড়ে যাচ্ছে। তারা কি বাংলার ইতিহাস, তারা কি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানবে? প্রশ্ন রাখতে চাই?

লেখক ও সাংবাদিক
[email protected]

এসএইচ