করোনা ভাইরাসের ছোবলে ঝরে গেছে ২২৩৬ প্রাণ

আগের সংবাদ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

পরের সংবাদ

‘আর কত প্রাণের বিনিময়ে সরবে রাসায়নিক গুদাম’

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০ , ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

আর কত প্রাণ গেলে পুরান ঢাকা থেকে সরবে রাসায়নিক গুদাম- এমন প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী ও চকবাজারের চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ‘চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের এক বছর : এখনো হয়নি রাসায়নিক গুদাম স্থানান্তর ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ প্রশ্ন তোলা হয়। ভয়াবহ ও মর্মান্তিক ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে ৭১ জনের এবং আহত হন আরো অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, নিমতলী-চুড়িহাট্টার মতো বড় বড় দুর্ঘটনার পর সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে দ্রæত রাসায়নিক গুদাম অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়িত হয়নি। যে রাসায়নিক গুদামের মালিকের কারণে চুড়িহাট্টা ট্র্যাজেডি, দীর্ঘ এক বছরেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অবিলম্বে পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম অপসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এদিকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নজরুল হামিদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকারি মহলের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার কারণে চকবাজারের চুড়িহাট্টার মতো মর্মান্তিক ও ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। যার মূল কারণ হচ্ছে সেখানে রাসায়নিকসহ অন্যান্য বিপজ্জনক পদার্থের উপস্থিতি। বড় ধরনের দুর্ঘটনার পর প্রতিবারই বিভিন্ন তদন্ত কমিটি ও সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে দ্রুত রাসায়নিক গুদাম স্থানান্তর হবে মর্মে প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও গত এক বছর তা বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে ৪০টি বেসরকারি ব্যাংক চকবাজারের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ৩০ কোটি টাকা দান করলেও দীর্ঘ এক বছরেও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বণ্টন করা হয়নি। এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট সুলতানা কামাল, নিজেরা করি সংগঠনের সমন্বয়ক খুশী কবির, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ও এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। এ ছাড়া চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে সরকারের কাছে আট দফা দাবি তুলে ধরা হয়। উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো- চকবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অবিলম্বে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরান ঢাকার এবং অন্যান্য আবাসিক এলাকা থেকে সব রাসায়নিক সামগ্রী, দাহ্য ও বিপজ্জনক সামগ্রী অপসারণ করা। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিকের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা।

পুরান ঢাকার রাসায়নিক সামগ্রী ও গুদামের জন্য ভাড়া দেয়া আবাসিক ভবন মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। রাসায়নিক গুদাম ও সামগ্রী নির্ধারিত গুদামে স্থানান্তরের জন্য অবিলম্বে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে রাসায়নিক বিপর্যয়রোধে জাতীয়ভাবে একটি রাসায়নিক নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা এবং রাসায়নিক নিরাপত্তা বিষয়ে নির্দেশিকা তৈরি এবং নীতিমালা প্রণয়ন করা।

ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ পরিবারকে ডিএসসিসির সহায়তা : চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বজন হারানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত ৩১ পরিবারকে সহায়তা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। গতকাল ঢাকা দক্ষিণ নগর ভবনে পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এবং নিহত স্বজনদের চাকরি, পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়।

সহায়তার অংশ হিসেবে এসব পরিবারের মধ্যে থেকে ২১ জনকে চাকরি, দুজনকে দোকান বরাদ্দ এবং চারজনকে দুই লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ডিএসসিসি। এ ছাড়াও উচ্চশিক্ষিত আরো চারজনকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে চাকরি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন। এ সময় সহায়তা পাওয়াদের মাঝে চাকরির নিয়োগপত্র, দোকান বরাদ্দের কাগজ ও অর্থ তুলে দেয়া হয়।

অনষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাঈদ খোকন বলেন, দুর্ঘটনার পর আমরা ৩১টি পরিবার থেকে আবেদন পেয়েছিলাম। তাদের ভেতর থেকে ২১ জনকে আমরা চাকরি দিচ্ছি। অনেকে আছেন যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল। তারা চাকরি করতে চাননি। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ ইমদাদুল হক, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শরীফ আহমেদ ও ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এসআর