রাস্তায় ইভটিজিং, ছাত্রীর ফোনে ঘটনাস্থলে ইউএনও

আগের সংবাদ

লন্ডন মেয়রকে কাছে পেয়ে আপ্লুত ইরতাবাসী

পরের সংবাদ

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাপস পালের শেষকৃত্য সম্পন্ন

বিনোদন ডেস্ক :

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০ , ৬:১০ অপরাহ্ণ

প্রখ্যাত অভিনেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ তাপস পালকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল বুধবার সকাল থেকেই ভিড় উপচে পড়ে তাঁর বাড়িতে। বেলা ১১টার পর তার দেহ নিয়ে যাওয়া হয় রবীন্দ্র সদনে। সেখানেই শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় জমান সহকর্মী ও অনুরাগীরা। রবীন্দ্র সদনে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী, অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী, ভরত কল, অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়, অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, তৃণমূল নেত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। রবীন্দ্রসদনে প্রয়াত সহকর্মীকে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন তৃণমূল নেতা সুব্রত বক্সীও। পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তিনি। আসেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও। টলিপাড়ার বিভিন্ন মানুষের পাশাপাশি শ্রদ্ধা জানাতে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফুল-মালা দিয়ে তাপস পালকে শেষ শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী ও কন্যা সোহিনীর সঙ্গে কথা বলেন মমতা। তাপস পালের মরদেহের সামনে বেশ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। রবীন্দ্রসদন থেকে বেরনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, ‘কেন্দ্রের একটা এজেন্সির দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে মৃত্যু। মানসিকভাবে নিজে এমন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, নিজে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর আগে হয়তো জানতেও পারল না যে তাঁর অপরাধটা কোথায়? একটা এনটেরটেইনমেন্ট চ্যানেলের ডিরেক্টর হিসেবে মাইনে পেয়েছিলেন। সেইজন্য তাঁকে ১ বছর ১ মাস জেলে রেখে দেওয়া হল। দিনের পর দিন লাঞ্ছনা, গঞ্জনার শিকার হতে হল। বিজেপির চাপে দুর্বিষহ, দুর্দশাগ্রস্ত, আহত, ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় তাপস।”

শুধু তাপস পাল নয়, এদিন প্রিয় অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে সুলতান আহমেদ ও প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর অকালম্ত্যৃুর জন্যেও সিবিআইকে দায়ি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তোপ দাগেন, “বিভিন্ন অভিনেতা-অভিনেত্রী বিভিন্ন কোম্পানিতে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে কাজ করেন। সেই কাজ করতে গিয়ে যদি অকালে মৃত্যু হয়, তাহলে আর কী বলার থাকতে পারে! সুলতান আহমেদের পরিবার সঙ্গে কথা হয়েছিল। ওরা জানায়, সুলতান একটা ফোন পায়, তারপর চিঠি পেল, বাথরুমে গেল, মারা গেল। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে অকালে চলে গেল। এখন প্রায় একবছর ধরে জেলবন্দি হয়ে রয়েছেন শ্রীকান্ত মেহতা। ওর-ও শরীর ভাল নয়। একবার স্ট্রোক হয়ে গিয়েছে।’ প্রিয় তাপসের এভাবে চলে যাওয়া যে তিনি কোনওভাবেই মেনে নিতে পারছেন না, তা স্পষ্ট হয়ে যায় তৃণমূল নেত্রীর কথায়। বলেন, ‘তাপসের তো এখন যাওয়ার কথা নয়। তাপসের মুখের দিকে আমি আজকে তাকাতে পারছি না। একি খেলা চলছে। আমি মর্মাহত, শোকাহত, দুঃখিত। ‘দাদার কীর্তি’, অমর কীর্তি হিসেবে বেঁচে থাকবে।’

১ টার পর তাপস পালের নিথর দেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেওড়াতলা মহাশ্মশানে। সেখানেই পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয় তাপস পালের শেষকৃত্য। উল্লেখ্য, মঙ্গলবার ভোরে মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল তাপস পালের। ওই দিন রাতেই তার দেহ বিমানে মুম্বই থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। সরকারি ব্যবস্থাপনাতেই দেহ পৌঁছয় অভিনেতার গল্ফ ক্লাব রোডের বাড়িতে।

ডিসি