নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মোবাইল টাওয়ার নির্মাণের অনুমোদন

আগের সংবাদ

মুজিববর্ষে এক লাখ নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে

পরের সংবাদ

মিষ্টিআলু নিয়ে শেকৃবির গবেষণা

এন্টিওক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ‘পার্পল স্টার’ উদ্ভাবন

আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, শেকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০ , ৩:০৭ অপরাহ্ণ

পৃথিবীর উন্নত দেশসমূহের মধ্যে জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে মিষ্টিআলু (সুইট পটেটো)। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই মিষ্টিআলুর বেশ চাহিদা রয়েছে। মিষ্টি আলুর মাধ্যমে একজন ব্যক্তির দৈনন্দিন কার্বোহাইড্রেট চাহিদা পূরণ সক্ষম। বাংলাদেশেও রয়েছে এর বেশ চাহিদা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মিষ্টিআলুর কয়েকটি জাত (তৃপ্তি, কমলাসুন্দরী) মাঠ পর্যায়ে চাষ হচ্ছে। তবে বর্তমান জাতসমূহের আকৃতি আঁকা-বাঁকা এবং পুষ্টিমাণ অনেক কম। এন্টিওক্সিডেন্ট নেই বললেই চলে।

তাই পুষ্টিমান, সুন্দর আকৃতি, এন্টিএক্সিডেন্ট ও উৎপাদনের দিকে লক্ষ্য রেখে মিষ্টিআলুর নতুন একটি জাত বাংলাদেশে সফলভাবে চাষ করতে সক্ষম হয়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একদল গবেষক। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ড জাতটিকে অনিয়ন্ত্রিত জাত হিসেবে নিবন্ধভুক্ত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামানুসারে জাতটির নাম দেয়া হয় (সাউ সুইট পটেটো১) পার্পল স্টার। জাতটির উৎস দেশ হলো মালেশিয়া। এই গবেষণা কাজটি সম্পন্ন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন এবং সহযোগী হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাজারাতুল মুনতাহা এবং রাকিবুজ্জামান মনি।

তথ্যমতে, ২০০৭ সালে জাপান ও মালেশিয়ার প্রায় ১৫-১৬টি মিষ্টিআলুর জাত নিয়ে গবেষণা কাজ শুরু করেন গবেষকদল। প্রায় দীর্ঘদিনের গবেষণার মাধ্যমে তারা সবেচেয়ে সুন্দর আকৃতি ও রং সম্পন্ন, পুষ্টিগুনে ভরপুর ও এন্টিওক্সিডেন্ট সম্পন্ন জাতটি তারা বাছাই করে নেন।

পার্পল স্টার, মিষ্টি আলুর জাত।

অধ্যাপক ড. এ এফ এম জামাল উদ্দিন বলেন, আমাদের দেশের জাতসমূহ সাধারণত প্রতি হেক্টরে ৪০-৪৫ টন ফলন দিয়ে থাকে কিন্তু পার্পল স্টার প্রতি হেক্টরে প্রায় ৫০ টন ফলন দেয়।যার প্রতিটি আলুর ওজন প্রায় ১২০-১৩০ গ্রাম হয়ে থাকে।এতে করে কৃষকের ফলন বৃদ্ধির মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি পাবে।

এছাড়াও তিনি বলেন, আমাদের দেশের জাতসমূহের আবরন ও ভিতরের মাংশল (ফ্লেশ) অংশ সাদা হয়ে থাকে। কিন্তু এই জাতটির আবরন ও মাংশল অংশ দুটিই পার্পল রংয়ের হয়ে থাকে। যা আকর্ষণীয় এবং প্রচুর এন্টিওক্সিডেন্ট সম্পন্ন। তাছাড়া ডাক্তারাও এখন রঙিন শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়ার কথা বলে থাকেন। কারণ এদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছে প্রচুর এন্টিওক্সিডেন্ট। যা আমাদের ক্যান্সারের মতো বিভিন্ন জটিল রোগ থেকে বাঁচতে এবং খাবার হজমে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও এর ফ্লেশ অনেক নরম হওয়ায় খেতে সুস্বাদু হয় এবং এর পাতাও সবজি হিসেবে খাওয়া যায় বলে জানান তিনি।

ক্ষেতে পরীক্ষামূলক চাষ। ছবি: প্রতিনিধি।

চাষপদ্ধতি সম্পর্কে রাকিবুজ্জামান বলেন, এটি দেশীয় আলুর মতোই চাষ করা যায়। আলাদা কোনো নির্দিষ্ট কেয়ারের প্রয়োজন হয় না বলে খুব সহজেই কৃষক এটি চাষ করতে পারবে। কৃষক আলু পানিতে ভিজিয়ে রেখে তার থেকে ছোট ছোট চারা বের হলে তা দিয়ে নতুন গাছ চাষ করতে পারে অথবা গাছের লতার কিছু অংশ কেটে (ভাইন) থেকেও নতুন গাছ পেতে পারে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন করেছি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা এদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে জাতটি মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের হাতে ছড়িয়ে দেব।

এনএম