রিয়াদে প্রকাশ্যেই ধূমপান করছেন সৌদি নারীরা

আগের সংবাদ

দিনাজপুরে সাবেক পৌর কাউন্সিলর নিহত

পরের সংবাদ

মানব পাচারকাণ্ডে তোলপাড়, সাংসদ পাপুল আবারো কুয়েতে

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০ , ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ

কুয়েতে মানব পাচারকাণ্ড নিয়ে আলোচিত লক্ষীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুল এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। তার নির্বাচনী এলাকার বাইরেও সারাদেশে এনিয়ে চলছে তোলপাড়। ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কুয়েত থেকে পালিয়ে যাওয়ার খবর প্রচারের পর রবিবার রাতে তিনি ফের কুয়েত গেছেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা দাবি করেছেন।

পাপুল মারাফী কুয়েতিয়া গ্রুপ অব কোম্পানিজ, কুয়েত, ওমান ও জর্ডানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানগুলো জনশক্তি রপ্তানিতে যুক্ত। এছাড়া তিনি বেসরকারি খাতের ব্যাংক এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ও এনআরবি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কোম্পানির চেয়ারম্যান। স্বতন্ত্র এই সাংসদ কুয়েত আওয়ামী লীগের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ কমিউনিটি কুয়েতের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বিগত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন।

আরব টাইমসে গত বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের পর আলোচনা শুরু হয় পাপুলকে নিয়ে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানব পাচারের নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে তিন বাংলাদেশির একজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযানের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বাকি দুজন কুয়েত ছেড়ে পালিয়ে যান। চক্রটি ২০ হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে কুয়েতে এনে অন্তত ৫ কোটি কুয়েতি দিনার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা আয় করেছে। ওই চক্রের অন্যতম সদস্য বাংলাদেশের একজন সাংসদ, যিনি নিয়মিতভাবে ঢাকা-কুয়েত আসা-যাওয়া করেন। তিনি কখনো কুয়েতে ৪৮ ঘণ্টার বেশি থাকেন না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মানব পাচারের বিরুদ্ধে কুয়েতের সিআইডির অভিযানের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে এক সপ্তাহ আগে সাংসদ কুয়েত ছেড়ে যান। কুয়েতে তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ মাস ধরে কর্মীদের বেতন দিচ্ছে না।

আল কাবাস প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে আরব টাইমস গত বৃহস্পতিবার আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতে জনশক্তি রপ্তানির জন্য সরকারি কার্যাদেশ পেতে ঘুষ হিসেবে সেখানকার সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাদের পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ি দিয়েছেন ওই সাংসদ। সাংসদ তার সম্পদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে সেখানকার এক নাগরিকের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্বে ব্যবসা শুরু করেছেন।

এ প্রসঙ্গে কথা বলতে সাংসদ কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুলের মোবাইল ফোনে কল করে বন্ধ পাওয়া গেছে। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পরিচয়ে সৈয়দ আমিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তি গতকাল সোমবার রাতে জানান, গণমাধ্যমে পালিয়ে থাকার খবর প্রকাশে সাংসদ বিব্রত হন। উত্থাপিত অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করতে তিনি রবিবার রাতে ফের কুয়েত গেছেন।

এমএইচ