ঘাসেও ভিটামিন আছে তাহলে কেন ঘাস খাচ্ছি না?

আগের সংবাদ

শেষ হল সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশন

পরের সংবাদ

সংসদে প্রধানমন্ত্রী

টাকা না থাকলে এতো উন্নয়ন কীভাবে হচ্ছে

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০ , ৯:১১ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের ব্যাংকে টাকা নেই-একথা সত্য নয়। টাকা না থাকলে আমরা এতোগুলো উন্নয়নের কাজ কিভাবে করছি। কিভাবে এত ভাতা দিচ্ছি, কিভাবে এত প্রকল্পের কাজ করছি? আমাদের ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রিজার্ভ রয়েছে, যা দিয়ে আমাদের ৬ মাসের খাদ্য কেনা যাবে। তাই আমাদের অর্থ নেই এ কথাটা ঠিক নয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষনের ওপর আলোচনা ও ৬ষ্ঠ অধিবেশনের সমাপনি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গত ৯ জানূয়ারি শুরু হওয়া অধিবেশনটি ২৮কার্যদিবসে মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন। প্রধামন্ত্রী ৩০ মিনিটের বক্তব্যে সংসদের রাষ্ট্রপতির দেয়া ভাষনের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে সরকারেরর উন্নয়ন কর্মকান্ডের সংক্ষিপ্ন পরিসংখ্যান নিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের বিষয়টি আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি জামাত এরশাদ যেই ক্ষমতায় ছিলেন, তারা আমাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছে। হাত কেটে, চোখে তুলে নিয়েছে। আমার জনসভায় গ্রেনেড বিষ্ফোরন ঘটায়। অঅইভি রহমান সহ অনেকেই মারা যান। এখনো অনেকে গ্রেনেডরে স্পিল্টানরের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। এরশাদ সাহেবের আমলেও কম অত্যাচার হয়নি। তবে আমি প্রতি হিংসার রাজনীতি করি না। করো কথায় চলি না। আমি সব সময় মনে করি আমার বাবা দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন দেশের জনগণের উন্নয়নের জন্য, তাদের দুঃখ দুর্দশা দুর করার জন্য। তাই আমি শত দুঃখ বুকে নিয়েও দেশের উন্নয়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি। জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে দেশের, জণগনের কথা ভেবে রাত দিন কাজ করে যাচ্ছি।

ব্যাংকে অর্থ সংকট- বিরোধী দলীয় নেতার এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই আমাদের ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে। টাকা আছে বলেই আমরা অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছি। এ প্রসঙ্গে তিনি ৬৮৫টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। কয়েক কোটি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিচ্ছি। তা ছাড়া অনেক রকম ভাতাও চালু করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্চে এটি আজ কারো কাছে লুকায়িত নেই। এক সময় দেশ জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসের রাজস্ব ছিল। মানুষের জানমালের কোন নিরাপত্তা ছিল না।আমরা অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। এক দশকে আমরা বাংলাদেশর অবস্থার পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, কেউ আমাদের উন্নয়ন না দেখলে তা তাদের দেখার ভুল। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত দেশের মানুষ অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল ভোগ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে মাঝে মধ্যে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। আমরা সেগুলো মোকাবেলায় তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ নিই। যেমন করোনা ভাইরাসের বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি যাতে চীনে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস বাংলাদেশে বিস্তার লাভ করতে না পারে। ডেঙ্গু নিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। মশার ব্যাপারে আমাদের নিজেদের সচেতন খাকতে হবে। নিজেদেরন বাড়িঘর আঙ্গিনা পরিস্কার রাখতে হবে যাতে মশা জম্মাতে না পারে। মশা যদি জম্মাতেই থাকে তাহলে তাতো মুৃখে ডুকবেই। নারী ও শিশু নির্যাতনের ব্যাপারে তিনি বলেন,এদের বিরুদ্ধে জিলো টলারেন্স নীতিতে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। এমন অপরাধের বিরোধী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রমজানে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ে একটা খেলা শুরু হয়। এর কারণ মানুষ প্রয়োজনের তুলনায় একসঙ্গে বেশি কিনে থাকে। আমি আতংকিত না হয়ে রমজানে ব্যবহার্য জিনিস অনেকগুলো এক সাথে না কেনেন।তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে চীন থেকে বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। বিশেষকরেওষধের কাঁচামালসহ অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এসএইচ