বিনিয়োগে ভাটা : কপালে চিন্তার রেখা

আগের সংবাদ

কবিতার বই প্রকাশে এগিয়ে বিক্রিতে পিছিয়ে

পরের সংবাদ

মুজিব শতবর্ষে ফেব্রুয়ারি

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০ , ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

একুশে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভ করে যা এখন পৃথিবীর দেশে দেশে জাতিসমূহের ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্বকে প্রতি বছর তুলে ধরতে সাহায্য করেন। এ বছর আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনে ফেব্রুয়ারিকে কতটা বৈচিত্র্যমণ্ডিত ঐতিহাসিক বিষয় হিসেবে সংযুক্ত করতে পারব, সেইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতিকে দেখার চেষ্টা করব সেটি আমাদের কাছে গুরুত্বের বিষয়।

এ বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বছর পালিত হচ্ছে। বছরব্যাপী নানা আয়োজন, কর্মসূচি, প্রকাশনা, আলোচনা ইত্যাদি চলতে থাকবে। বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। কারণ এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন মূল স্বপ্নদ্রষ্টা, কাণ্ডারি, সংগঠক, নেতা ও চিন্তক। পাকিস্তান সৃষ্টিতে তরুণ শেখ মুজিবের এক ধরনের ইতিবাচক অবস্থান ছিল। কিন্তু তিনি যে ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা চেয়েছিলেন সেটি পাকিস্তান থেকে অর্জিত হওয়ার নয়- এ সত্য তিনি কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরে এসেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। স্বভাবজাত বিচক্ষণ রাজনীতি সচেতন মুজিব পাকিস্তান রাষ্ট্রের শুরু থেকেই পূর্ববাংলার জনগণের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যবোধ রক্ষা করার অবস্থানে নিজেকে যুক্ত করেন, একই সঙ্গে ঘটনাপ্রবাহ ও সমমনা তরুণ প্রবীণদের সঙ্গে যুক্ত হন, সংগঠিত হতে থাকেন। সেখান থেকেই তিনি ১৯৪৮ সালের জানুুয়ারি মাসে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠায় অংশ নেন। এরপর পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় অন্যতম তরুণ নেতা হিসেবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। শেখ মুজিবের এই পথচলা ছিল পূর্ব বাংলার ভাষা, আন্দোলনের উন্মেষ ও বিস্ফোরণকে অবলম্বন করে। তিনি জেলে থেকেও আওয়ামী লীগের মতো নবগঠিত দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচিত হন। আবার শহর, নগর ও বন্দরে গড়ে ওঠা ভাষা আন্দোলনের একজন অনুঘটকে পরিণত হন। ভাষাকেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্ব তরুণ শেখ মুজিব কতটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন সেটি শুধুমাত্র পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামকে গুরুত্ব দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি উত্তর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর নিজ দল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে এর গুরুত্ব তুলে ধরা, বিভ্রান্তবাদীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়া, ১৯৫৩ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠন, একুশ দফা প্রণয়নে মাতৃভাষা বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত করা, পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে বাংলা ভাষার মর্যাদার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়া, পরবর্তী সময়ে ছয় দফার আন্দোলনে স্বায়ত্তশাসন কেন্দ্রিক অধিকারের প্রশ্নে পাকিস্তান রাষ্ট্রে সব ভাষার মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার গুরুত্ব উপলব্ধি করা থেকে বুঝা যায় শেখ মুজিব ভাষা ও সংস্কৃতিকে আধুনিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাণশক্তি হিসেবে দেখেছেন। বিষয়টি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলা ভাষাকে মর্যাদা দেয়া, ভাষা চর্চার সুযোগ বৃদ্ধি করা, এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন বক্তৃতা-বিবৃতিতে মানুষকে মাতৃভাষায় শিক্ষালাভ ও গড়ে তোলার উপলব্ধি রাষ্ট্রের জনক হিসেবে তিনি যথার্থই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। সে কারণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পূর্ব বাংলার জনগণের মাতৃভাষা বাংলা এবং অন্যান্য নৃজাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষার মর্যাদার বিষয়টি বিশেষভাবে স্মরণে রাখার বিষয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের উথাল দিনগুলোতে জেলবন্দি ছিলেন। তিনি এবং আরো কয়েকজন জেলবন্দি রাজবন্দিদের মুক্তি এবং ভাষা আন্দোলনের সমর্থনে জেলখানায় অনশন শুরু করেন। এই অনশন ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ঢাকা জেলে তিনি এবং মহিউদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজন অনশন শুরু করলে পাকিস্তান সরকার তাদের ফরিদপুর কারাগারে নিয়ে যায়। একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় ছাত্র মিছিলে পুলিশের গুলিতে যখন ঢাকা শহরসহ দেশ উথাল হয়ে উঠছিল তখন শেখ মুজিব, মহিউদ্দিন আহমেদ ফরিদপুরের কারাগারে এই সংবাদ অনশনরত অবস্থায় জানতে পেরেছিলেন। কয়েকদিনের অনশনে শেখ মুজিব যখন মৃত্যুমুখ যাত্রী হওয়ার পর্যায়ে চলে যান তখন পাকিস্তান সরকার মুজিবসহ অনশনকারীদের মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ভাঙা শরীরের কারণে তাকে ফরিদপুরে কিছু সময় অতিবাহিত করতে হয়েছিল। সুস্থ হয়ে ফিরে আসার পর তিনি ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী ধাপকে অগ্রসর করে নেয়ার জন্য রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেন। সেই সময় শহীদ সোহরাওয়ার্দীসহ প্রবীণ নেতাদের দোদুল্যমান অবস্থানকে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করেন এবং ভাষাকেন্দ্রিক জাতীয়তার পক্ষে নিজ দল এবং প্রগতিশীল অন্যান্য দলের সঙ্গে রাজনীতিতে ঐক্য গড়ে তোলার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। বলা চলে পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলন পূর্ব বাংলায় ছাত্রদের পরিচালিত ভাষা আন্দোলনের স্রোতধারা থেকে জাতীয়তাবাদের বৃহত্তর ধারায় যুক্ত করার অন্যতম প্রধান রূপকার ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তান রাষ্ট্র সম্পূর্ণরূপে বাংলা ও বাঙালিকে অস্বীকার করে পূর্বাঞ্চলে যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বোধ প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগ নিয়েছিল সেটি প্রতিহত করা না গেলে পূর্ব বাংলার ভবিষ্যৎ রাজনীতি জটিলতর হওয়া খুবই স্বাভাবিক ছিল। কেননা পাকিস্তান রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী চেয়েছিল মূল ভূখণ্ড থেকে ১২০০ মাইল দূরের পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের পশ্চিম অংশের অবিচ্ছেদ্য সাংস্কৃতিক সত্তায় পরিণত করতে। এজন্যই তারা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে পূর্ব বাংলায় শুরু থেকেই চালিয়ে দিতে চেয়েছিল। স্বয়ং জিন্নাহ সেই মিশন হাতে নিয়ে পূর্ব বাংলায় সফরে এসেছিলেন। তার সেই সফর মোটেও সুখকর হয়নি, প্রতিবাদ উঠেছিল তাঁর সম্মুখেই- যখন পাকিস্তান রাষ্ট্রের বয়স ৬ মাসও অতিক্রম করেনি। কিন্তু জিন্নাহর মৃত্যুর পর অনেকেই ভেবেছিল পাকিস্তানের নেতৃত্ব বাংলা ভাষাকে নিয়ে আর বেশিদূর অগ্রসর হবে না। কিন্তু পাকিস্তান মিশন নিয়েই বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে যাত্রা শুরু করেছিল। সে কারণেই ১৯৫২ সালে আবার বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে, উর্দু প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পূর্ব বাংলায় অবস্থান নিয়েছিল। ছাত্ররা এই অবস্থানকে মোকাবিলা শুরু করে রাজনীতিবিদদের অনেকেই তখন জেলে ছিলেন কিংবা এ নিয়ে বেশি উচ্চবাচ্য করছিলেন না। কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারি নিহত শহীদের রক্ত থেকে যে বিস্ফোরণ সৃষ্টি হয়েছিল সেটি মানুষকে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মাতৃভাষা কেন্দ্রিক চিন্তা-চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার শক্তি জুগিয়েছিল। ঢাকায় ছাত্র হত্যা অন্য শহরগুলোতে প্রতিবাদের ঝড় তোলে। মাতৃভাষার প্রতি মানুষের আবেদন বৃদ্ধি পায়। মানুষ বুঝতে শুরু করে পাকিস্তান রাষ্ট্রে উর্দু ভাষায় তাঁর রুটি রুজি লাভের পথ রুদ্ধ হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতি ১৯৪৭-এর আগে যে অন্ধ মোহ তৈরি হয়েছিল তাতে ছিট ধরতে থাকে। এই বাস্তবতাকে যিনি সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে রাজনীতির বাঁক সূচনা করেছিলেন তিনি তরুণ রাজনীতিবিদ শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর নেতৃত্বে তরুণ উদীয়মান বাঙালি নেতারা প্রবীণ রাজনীতিবিদদের (হক, ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী) এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে সক্ষম হয়। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক পূর্ব বাংলার জনগণ যুক্তফ্রন্টকে যে গণরায় দিয়েছিল তা পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতি পূর্ব বাংলার জনগণের প্রাথমিক অনাস্থার প্রমাণ বহন করে। সেই রায়কে নস্যাৎ করতে পাকিস্তান সরকার যুক্তফ্রন্টকে নানাভাবে ভাঙার এবং যুক্তফ্রন্ট শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী না করতে ষড়যন্ত্র করে। তারা আংশিক সফলও হয়। কিন্তু পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে শেখ মুজিবসহ পূর্ব বাংলার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও বাংলা ভাষা, পূর্ব বাংলার আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং স্বায়ত্তশাসনের ধারণার বীজ রোপণ করতে থাকেন। এই অবস্থায় পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলাকে পাকিস্তানের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখতে পাচ্ছিল। এই হুমকির মূলে ছিলেন শেখ মুজিবের মতো উদীয়মান, জাতীয়তাবাদী, রাজনৈতিক নেতা। ষাটের দশকে তিনি জাতীয়তাবাদের ভাবাদর্শকে অগ্রসর করার নেতৃত্ব প্রদান করেন। ছয় দফা তার রাজনৈতিক সনদ যা পূর্ব বাংলাকে স্বায়ত্তশাসন থেকে স্বাধীনতার আন্দোলন, সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র গঠনের নতুন ধাপে উন্নীত করে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বঙ্গবন্ধু এই রাষ্ট্রের জনক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। তিনি ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়ে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে যেই আধুনিক চিন্তাধারার প্রয়োগ ঘটান তাতে জাতিরাষ্ট্রের উপাদানসমূহ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়েছিল। এই রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলনীতি হলো জাতীয়তাবাদ। বেশিরভাগ মানুষ বাংলা ভাষাভাষী হলেও ক্ষুদ্র নৃজাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা দুই শতাংশের মতো- যাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি ঐতিহাসিকভাবে চলে এসেছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র এসব নৃজাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি বিরূপ নয় বরং শ্রদ্ধাশীল হওয়ার প্রমাণ রেখেছে। এর কারণ হচ্ছে বাংলাদেশ মাতৃভাষার গুরুত্বকে ১৯৪৭-পরবর্তী সময়ে আন্দোলন, সংগ্রাম ও রক্তদানের মাধ্যমে উপলব্ধি করতে পেরেছিল। সে কারণে বঙ্গবন্ধু ক্ষুদ্র নৃজাতিসত্তার ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল যেমন থেকেছেন এবং ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে ওইসব জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অধিকার অক্ষুণ্ন রাখার পক্ষে রাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার দর্শনে তুলে ধরেন। এছাড়া অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মতাদর্শের দিক থেকে শোষণহীন সমাজ ও গণতন্ত্রের যে ধারণা সংবিধানে যুক্ত করা হয়েছিল তাতে একুশের মূল চেতনার প্রতিফলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ঘটেছিল। এই দর্শন বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র দর্শনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতি নিয়ে যখন আলোচনা, পর্যালোচনা, গবেষণা ও লেখালেখি হচ্ছে তখন অবশ্যই একুশের ইতিহাস, প্রেক্ষাপট, দর্শন ইত্যাদি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার বিষয়। এইসব ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন তরুণ রাজনীতিবিদ শেখ মুজিবুর রহমান কীভাবে যুক্ত ছিলেন, নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, নিজেকে অধিকতর দক্ষ ও যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন সেটি বিশেষভাবে দৃষ্টিতে আনা দরকার। কেননা, বঙ্গবন্ধু এইসব রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের ভেতর থেকে বেড়ে ওঠা রাজনৈতিক নেতাÑ যিনি একুশের চেতনা ও দর্শনকে আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সে কারণেই একুশে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভ করে যা এখন পৃথিবীর দেশে দেশে জাতিসমূহের ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্বকে প্রতি বছর তুলে ধরতে সাহায্য করেন। এ বছর আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনে ফেব্রুয়ারিকে কতটা বৈচিত্র্যমণ্ডিত ঐতিহাসিক বিষয় হিসেবে সংযুক্ত করতে পারব, সেইসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনীতিকে দেখার চেষ্টা করব সেটি আমাদের কাছে গুরুত্বের বিষয়। আশা করি বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বছর পালনকে ফেলে আসা ইতিহাসের এমন উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ভাবনা থেকেই পালিত হবে।

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত), ইতিহাসবিদ ও কলাম লেখক।

নকি