বঙ্গবন্ধুকে ছড়িয়ে দিতে হবে বাংলা থেকে বিশ্বে

আগের সংবাদ

ছাত্রলীগের স্লোগান হবে দুর্নীতি করব না,করতেও দিব না

পরের সংবাদ

আলোচনা সভায় শামসুজ্জামান খান

জীবনানন্দ দাশ একালের এক অবাধ বিশ্বাস

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০ , ৯:৩৮ অপরাহ্ণ

কবি জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাস সচেতন কবি। আধুনিক কাব্যকলার বিচিত্র ইজম প্রয়োগ ও শব্দ নিরীক্ষার ক্ষেত্রে ও তার অনন্যতা বিষ্ময়কর। বিশেষতঃ কবিতার উপমা প্রয়োগে জীবননান্দের নৈপুন্য তুলনাহীন। বাংলা সাহিত্যের নির্জন এই নক্ষত্রের জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে আধুনিক বাংলা কবিতা ও জীবনানন্দ দাশ বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে জাদুঘর।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। আলোচক ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আশিস কুমার সরকার এবং কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় জাদুঘরের সাবেক মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. শওকত আলী। কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতা আবৃত্তি করেন বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান খান বলেন, জীবনানন্দ দাশ একালের এক অবাধ বিশ্বাস। তিনি অত্যন্ত নান্দনিকতার সাথে কবিতায়, উপন্যাসে, কাব্যের মাধ্যমে বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন। তাঁর সৃষ্টির গভীরতা ও শিল্পিত কারুকার্য আমাকে বিস্মিত করেছে। বাংলাদেশের রূপসী বাংলার কবি তিনি। তিনি বাংলার বাঙালীদের কালজয়ী স্রষ্টা। কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, আধুনিকতা বৈশিষ্টটি ছিল জীবনানন্দের একান্তই নিজের। তাঁর প্রতিটা চরনের সুগঠিত মাত্রাবিন্যাস কবিতার ভেতরে নিয়ে যায়। তাঁর কবিতার প্রতিটি বর্ণের ভেতরে, প্রতিটি শব্দের ভেতরে খেলা করে তাঁর আধুনিকতার পরশ।

আবুল হাসনাত বলেন, কবি জীবনানন্দ দাশ ছিলেন উজ্জ্বল ব্যতিক্রমি একজন কবি। তাঁর কবিতায়, উপন্যাসে বেকারত্ব নিয়ে কথা লিখেছিলেন। তিনি একুশের কবিতাও লিখেছেন। তবে জীবদ্দশায় নয়, কবি হিসেবে প্রতিভা ছড়িয়ে পরে তাঁর মৃত্যুর পর। আশিস কুমার সরকার বলেন জীবনানন্দ দাশ সবসময় জীবন দেবতার সাধনা করতেন।

মূল প্রবন্ধে ফয়জুল লতিফ চৌধুরী বলেন, তাঁর জনপ্রিয়তা যেন তাঁর মৃত্যুর সাথে সম্পর্কিত ছিল। তিনি যে আমাদের, বিশেষভাবে আমাদেরই, এ সত্যটি তিনি লোকান্তরিত হওয়ার পরই যেন অনবগুণ্ঠিত হতে শুরু করলো। জীবৎকালে যিনি ছিলেন প্রায় অজ্ঞাত, আজ তিনি সর্বহৃদয়সম্বাদী। বস্তুত তিনি আজ কেবল শুধু জনপ্রিয় নন, জীবনানন্দ আজ বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান পুরুষে পরিণত হয়েছেন। মো. শওকত আলী বলেন, জীবনানন্দের সৃষ্টিতে মানুষের হৃদয় ও চেতনার যে গভীর অনুভব প্রকাশ পেয়েছে, বাংলা কবিতায় এর আগে পরিলক্ষিত হয়নি।

এসএইচ