মুজিব শতবর্ষে ফেব্রুয়ারি

আগের সংবাদ

সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহার করতে চায় নেপাল

পরের সংবাদ

কবিতার বই প্রকাশে এগিয়ে বিক্রিতে পিছিয়ে

শরীফা বুলবুল

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০ , ৯:০৫ অপরাহ্ণ

মেলায় প্রতিদিনই আসছে নতুন বই। বরাবরের মতো এতে এগিয়ে রয়েছে কবিতার বই। প্রকাশের ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও বিক্রির ক্ষেত্রে বরাবরের মতোই পিছিয়ে। বরং এগিয়ে আছে গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ। জানা যায়, মেলার ১৬তম দিন পর্যন্ত একাডেমির তথ্যকেন্দ্রে প্রচারের জন্য ২ হাজার ৪৭৫টি নতুন বই জমা পড়েছে। তবে বাস্তবে এ সংখ্যা বেশি বলেই জানা যায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৭২০টি কবিতার বই। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে উপন্যাস ৩৯৯টি এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে গল্পের বই ৩৩৮টি। মননশীল বই হিসেবে পরিচিত প্রবন্ধের বই রয়েছে ১৩৫টি ও গবেষণার বই ৪৭টি।

এসবের বাইরেও প্রবন্ধ, গবেষণার বইয়ের বিক্রিও ভালো বলে জানিয়েছেন প্রকাশকরা। তাদের মতে, হরে দরে বই প্রকাশের হিড়িক পড়লেও মননশীল বইয়ের পাঠকরা তাদের পছন্দের এবং প্রয়োজনীয় বইটা ঠিকই খুঁজে নিতে ভুল করেন না। উত্তরা থেকে আসা সারোয়ার হোসেন বলেন, আমি কবিতা পড়তে ভালোবাসি, বিশেষকরে নতুন লেখকদের। তারা সময়কে কিভাবে ধারণ করছেন কবিতা পড়ে তাদের ভাবনা সম্পর্কে জানা যায়। যেমন এক তরুণ কবির বইয়ের নাম দেখেই চমকে উঠেছি, নাম হচ্ছে ‘দল বেঁধেছি একা’। তরুণরা ছাড়া এমন শব্দ কে লিখতে পারে! কিনলামও। সব সময় চাই নতুন কবিদের বই কিনতে। কিন্তু বেশিরভাগ সময় হতাশও হতে হয়। ভালো লেখকের বই খুঁজতে আমাদের রীতিমতো হয়রানি হতে হয়।

সময় প্রকাশনীর প্রকাশক ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রকাশকরা অনেকসময় স্বজনপ্রিয়তার কারণে বাধ্য হয়ে কবিতার বই প্রকাশ করেন। না করলে অনেক লেখক নিজের উদ্যোগেই বই প্রকাশ করেন। কবিতার বই কিছুটা সহজলভ্য হওয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে। প্রকাশকদের মনোযোগী হতে হবে লেখার মানের ব্যাপারে। মূলমঞ্চের আয়োজন বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ রচিত ৭ই মার্চের ভাষণ কেন বিশ্ব-ঐতিহ্য সম্পদ : বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ সেলিম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ড. এ কে এম শাহনাওয়াজ এবং ড. কুতুব আজাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইতিহাসবিদ, বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন।

আলোচকবৃন্দ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ যেমন উদ্দীপনাময় তেমনি এর ছিল সুনির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির বিজয়। নাতিদীর্ঘ অথচ কালোত্তীর্ণ এ ভাষণ সমগ্র বাঙালি জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। কাব্যিক ব্যাঞ্জনাময় এ ভাষণে মানুষের অধিকার আদায়ের কথা, মানবতার কথা উঠে এসেছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ কেন বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পদ হলো সে বিষয়টি অনুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এ গ্রন্থে।

এদিন কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি মুজিবুল হক কবীর, আয়শা ঝর্না, চঞ্চল আশরাফ এবং মাজুল হাসান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মেহেদী হাসান, তিতাস রোজারিও এবং সিদ্দিকুর রহমান পারভেজ। ছিল সাইমন জাকারিয়ার পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ভাবনগর ফাউন্ডেশন’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন আলম দেওয়ান, মোক্তার হোসেন, রহিমা খাতুন, শারমিন সুলতানা এবং মো. মাহাবুল ইসলাম। লেখক বলছি সোমবার লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি আসলাম সানী, সঞ্জীব পুরোহিত, ফারহানা রহমান এবং আহম্মেদ শরীফ।

নতুন বই
রবিবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১৩৫টি। এরমধ্যে অবসর এনেছে হুমায়ূন আহমেদ রচনাসমগ্র পঞ্চদশ খণ্ড, ঐতিহ্য এনেছে পিয়াস মজিদ সম্পাদিত ‘অগ্রন্থিত গদ্য: সৈয়দ শামসুল হক’, পাঞ্জেরী এনেছে আতিউর রহমানের ‘নাই নাই ভয় হবে হবে জয়’, নাগরী এনেছে আবু হাসান শাহরিয়ারের ‘ও হে সাঁকো, নড়ো’ নাগরীঅনন্যা এনেছে হানিফ সংকেতের রম্যরচনা ‘টনক নড়াতে টনিক’, কথাপ্রকাশ এনেছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ‘ভালো মানুষের জগৎ’, ঐতিহ্য এনেছে গেব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের অশোক দাস গুপ্ত অনূদিত ‘প্রেম নয়, মৃত্যুই অনিবার্য’, চারুলিপি এনেছে নূরুল ইসলাম নাহিদ ও পিয়াস মজিদ সম্পাদিত বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সংকলন ‘জয় বাংলা’, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স এনেছে মোনায়েম সরকারের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’, আবিষ্কার এনেছে এমাজউদ্দীন আহমদের ‘ইসলাম ও উন্নত জীবন ব্যবস্থা’, পুথিনিলয় এনেছে সেলিনা হোসেনের ‘পূর্ণ ছবির মগ্নতা’, চারুলিপি এনেছে সৈয়দ শামসুল হকের ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ’ উল্লেখযোগ্য।

এসএইচ