পুঠিয়ায় প্রেমিকার ধর্ষণ মামলায় কলেজ ছাত্র কারাগারে

আগের সংবাদ

চট্টগ্রাম সিটির ভোট ২৯ মার্চ

পরের সংবাদ

প্রভাবশালীদের দখলে রাজারহাটের জলমহাল

তৈয়বুর রহমান, কুড়িগ্রাম

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০ , ৫:২৩ অপরাহ্ণ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক সময়ের মাছের অভয়াশ্রম সরকারী খাসজমির ওপর থাকা জলমহালগুলো বিধিবহির্ভূত ভাবে প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে বাধাহীনভাবে ভরাট করে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে পরিনত করছে। কতিপয় সরকারি কর্মকর্তার উদাসিনতায় কারণে উপজেলার অধিকাংশ জলাশয় এখন প্রভাবশালীদের দখলে গেছে। শুধু তাই নয় বিধিবহির্ভূত কার্যক্রমের কারণে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে , এছাড়াও মাছ চাষের জন্য উন্মুক্ত জলাশয় এর পরিমাণ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। এঅবস্থায় এলাকায় আমিষের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে ওই জলমহালগুলোতে মাছ শিকার বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় জেলে পল্লীর প্রকৃত মৎস্যজীবী পরিবারগুলোর জীবিকা নির্বাহের পথ রুদ্ধ হয়েছে। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে অনেক পরিবারে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ৫ শ’ একর জমিতে সরকারি ২০টি জলমহাল ও ৫টি প্লাবনভূমি রয়েছে। এর মধ্যে রাজারহাট সদর ইউনিয়নে বড়গিলা, সরলা, দেউলার বিল, চাকিরপশার ইউনিয়নে চাকিরপশার বিল, ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে চতলার বিল, চতলার কুড়া, নাখেন্দার বিল, কোটেশ্বর বিল, ফতেখাঁ মেঘার দিঘি, পুরাতন হাটখোলা এবং ঘড়িয়ালডাঙ্গা বিল রয়েছে। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে বাদিয়ার ছড়া, মাল্লির ছড়া, উকিলের ছড়া, ছিনাই ইউনিয়নে বুড়িদহ সাতবোন, ফড়িংয়ের ছড়া, কামারের ছড়া, মজুদদারের দিঘি, নাজিম খান ইউনিয়নে যুগিদহ বিল এবং উমর মজিদ ইউনিয়নে মাদারেরকুড়া নামক জলমহাল রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রয়েছে খাস জমির ওপর প্লাবনভূমি ও জলাশয়। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় কাগজ-কলমে মাছ চাষের বিলের জমির পরিমাণের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। অধিকাংশ বিলের জমির বৃহদাংশ এখন প্রভাবশালীদের দখলে। ইতোমধ্যে দেউলা, চতলা, বড়গিলা, ঘড়িয়ালডাঙ্গা, চাকিরপশার, কৈলাশকুটিসহ প্রায় সবগুলো বিলের বৃহৎ অংশই প্রভাবশালীরা জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে দখলে নিয়েছে। একইভাবে ঘড়িয়াডাঙ্গা, সরলা ও বড়গিলা বিল দখল করে দীর্ঘদিন মাছ চাষ করে আসছে প্রভাবশালীরা। অথচ এসব বিল কাগজ-কলমে সরকারি হিসেবে রয়েছে। বিলগুলো দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ার কারণে বিভিন্ন অংশে নাব্যতা হারিয়েছে।
চাকিরপশার বিল ঘুরে দেখা গেছে, বিলের ১শ’৫৪ একর জমির মধ্যে অর্ধেক জমিও জলমহালে নেই। বিলের বিভিন্ন অংশে প্রভাবশালীরা পাড় বেঁধে পুকুর, বাড়িঘর তৈরি এবং মাঝে মাঝে রাস্তা নির্মাণ করায় বিলটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে আছে।

চাকিরপশার বিলের মৎস্যজীবী কমিটির সভাপতি জোগেন চন্দ্র দাস বলেন, আমরা চাঁন্দামারী জেলেপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে ২০১৭ সালে তিন বছরের জন্য ১৯ লাখ ৮৯ হাজার টাকায় চাকিরপশার বিলটি লিজ নেই। চুক্তিপত্র অনুযায়ী ১’শ ৪১ একর জমির ওপর বিল থাকার কথা উল্লেখ করা হলেও সরেজমিন আছে ৬০ একরেরও কম জমি। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় লিজের পুরো টাকা এখন পর্যন্ত পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।

বাদিয়ার ছড়া বিলের মৎস্যজীবী পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শচীন চন্দ্র বলেন, জলমহালের পাশের প্রভাবশালীরা জলাশয়ের বেশরিভাগ অংশ দখলে নিয়েছে। এর আগে উপজেলা প্রশাসন বিল উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

উপজেলার কোটেশ্বর বিলের মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি স্বপন জানান, কাগজ-কলমে ৩২ দশমিক ৯৯ একর জমি থাকার কথা। কিন্তু রয়েছে প্রায় ১১ একর। বাকি জমি প্রভাবশালীরা দখল করে পুকুর ও বাড়িঘর নির্মাণ করেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, প্রায় সবগুলো বিলের বিপুল পরিমাণ জমি বেদখলে গেছে। ভূমি মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে উপজেলার বিলগুলো উদ্ধার হলে মাছ চাষের বিপুল সম্ভবনা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোবায়ের হোসেন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় বিলের জায়গা অবৈধ দখলদারদের তালিকা, সীমানা নিধার্রণের প্রক্রিয়া চলছে। শেষ হলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

ডিসি