বাচসাসের পরিবার দিবস উদযাপন

আগের সংবাদ

বিপর্যয় থেকে মুক্তির দিকে চেয়ে আছে বিশ্ব

পরের সংবাদ

অগ্নিঝুঁকি থেকে মানুষকে বাঁচাতে হবে

মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০ , ৮:১৮ অপরাহ্ণ

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে প্রায়ই আগুন লাগছে; অগ্নিকাণ্ড ঘটছে বসতবাড়িতে, কেমিক্যাল গুদামে, গার্মেন্টস কারখানায়, বড় বড় শপিং-কমপ্লেক্সে, সাধারণ মার্কেটে, ফ্ল্যাট-বাড়ি এমনকি বস্তিতে। জ্বলে-পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাচ্ছে মানুষ। কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। পথে বসছে হাজারো পরিবার। কত স্বপ্ন পুড়ে ছাই হচ্ছে। গেল বছরে রাজধানীর চকবাজার, ভাসানটেক বস্তি, কেরানীগঞ্জের প্লাস্টিক কারখানা, গাজীপুরের ফ্যান তৈরির কারখানাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৪ হাজার ৭৪টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এসব ঘটনায় দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৫ জন মানুষ। আহত হয়েছেন ৫৮৬ জন। সম্পদের ক্ষতিসাধন হয়েছে ৩৩০ কোটি ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৭৪৪ টাকার।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যানুসারে বর্তমানে সারাদেশে অগ্নিকাণ্ডের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ১ হাজার ১৮৭টি, ঝুঁকিপূর্ণ ৩ হাজার ৫১৮টি স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে শুধু রাজধানীতে রয়েছে ১ হাজার ৬৯টি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২ হাজার ৫৮৩টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা। রাজধানী ঢাকায় এসব বহুতল ভবনের বিভিন্ন তলায় গড়ে উঠেছে অফিস, গার্মেন্টস, শিল্পকারখানা, মার্কেট ও শপিংমল। এর অনেকগুলোরই বৈধ অনুমোদন নেই।

অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রতিটি ভবন বিল্ডিং কোড, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা মেনে নির্মাণের ব্যাপারে কঠোর নজরদারি থাকা দরকার। ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদন ছাড়া কোনো ভবনের কার্যক্রম শুরু হতে দেয়া যাবে না। যে কোনো বহুতল আবাসিক ভবন, ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র, কলকারখানার জন্য উন্নত বৈদ্যুতিক সাজসরঞ্জাম ব্যবহার ও নিয়মিত মেরামত করা, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখা ও ড্রামভর্তি পানি সংরক্ষণ, প্রশস্ত সিঁড়ি ও বিকল্প জরুরি বহির্গমনের পথ রাখা, কর্মকালীন গেট বন্ধ না করা, সিঁড়িঘরে বা যত্রতত্র মালামাল না রেখে আলাদা গুদামে সংরক্ষণ, নিরাপত্তা প্রহরীর জন্য বিশেষ জরুরি টেলিফোন ব্যবস্থাসহ বিদ্যুৎ বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসের টেলিফোন নম্বর শ্রমিকদের অবগত করা, কারখানায় প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করাসহ শ্রমিকদের অগ্নিনির্বাপণের প্রশিক্ষণ প্রদান জরুরি।

স্থাপনা কর্তৃপক্ষের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ত্রুটি ও দুর্বলতার দিকগুলো আমলে আনা আবশ্যক। যে কোনো সরকারি বা বেসরকারি বহুতল ভবন, শপিং কমপ্লেক্স, গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্পকারখানা নির্মাণের পর যেসব সংস্থার ছাড়পত্রের ভিত্তিতে রাজউক ব্যবহারের সনদ দেয়, তার মধ্যে অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ জরুরি। মেগাসিটি ঢাকাকে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করে সেখানে সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ বাহিনী, ভবন মালিক সমিতি, স্বেচ্ছাসেবক দল ও স্থানীয় জনগণকে নিয়ে একটি ইউনিট গঠনের মাধ্যমে অগ্নিনির্বাপণের দায়িত্বে নিয়োজিত করলে সুফল পাওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের আধুনিক মানসম্পন্ন যন্ত্রপাতি সরবরাহসহ জনবল কাঠামো বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটিং ভেহিকেল, টিটিএল ল্যাডার ও জাম্পিং কুশনকে সুচারুরূপে কাজে লাগাতে হবে। দেশের ৩৫৪টি উপজেলায় অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে আরো সক্রিয় করে তুলতে হবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের নেতৃত্বে রাজউক, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ, ওয়াসা ও তিতাসের সমন্বয়ে একটি কমিশন গঠন করে সমন্বিতভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অনেকটাই অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে মানুষকে বাঁচাতে সহায়তা করবে।

প্রকৌশলী, ঢাকা।
[email protected]

এসআর