আর্থিক খাতে স্বস্তি ফেরানো খুবই জরুরি

আগের সংবাদ

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই বছর নিষিদ্ধ ম্যানসিটি

পরের সংবাদ

সুস্থ রাজনীতি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ

মুহাম্মদ রুহুল আমিন

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০ , ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

মুজিববর্ষে সরকারের সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে তার মধ্যে দেশের রাজনীতিকে সুস্থধারায় পরিচালিত করা, গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে সুশাসন নিশ্চিত করা অন্যতম। বিশিষ্টজনদের মতে, সমাজে নানা সংকট বিদ্যমান- যা একটি উন্নত জাতি গঠনের অন্তরায়। মুজিবর্ষে যে অঙ্গীকার নিয়ে জাতি সামনে অগ্রসর হতে চায়, তা বাস্তবায়ন করতে হলে রেষারেষির রাজনীতি দূর করতে হবে। সেই সঙ্গে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি মানুষের হারানো রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে হবে। তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ দিন দিন রাজনীতিবিমুখ হয়ে যাচ্ছে, তাদের রাজনীতিমুখী করতে হবে।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের মতে, একটি দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির জন্য সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। যদি তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হয়, তাহলে চলমান উন্নয়নের সুফল দুর্নীতিবাজ-দুর্বৃত্তরা ভোগদখল করবে। সমাজের মধ্যে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হবে।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মুজিববর্ষ জাতির জীবনে বড় একটি মাইলফলক। এটি কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের একক নয়, জাতীয় উদযাপন।

ক্ষমতাসীন দল বা সরকারের উদ্যোগে হচ্ছে- এটাই স্বাভাবিক। সবার জন্য এই উদযাপনটা সমানভাবে হবে, এমনটাই আশা করব। তিনি বলেন, মুজিববর্ষকে বিভিন্নভাবে উদযাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অন্যতম জায়গা হলো স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা বিচ্যুত না ঘটুক এ জন্য অন্যতম উপাদানগুলো যেসব আছে সেগুলো এখানে সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাওয়া উচিত। সব মানুষের সমান অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা- এগুলো হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতার চেতনার অন্যতম বিষয়, যা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল। এই বিষয়গুলোকে সার্বিকভাবে প্রাধান্য দিতে হবে। মুজিববর্ষ এমনভাবে উদযাপিত হওয়া উচিত, যেগুলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাপকাঠিতে যেন বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকে। এখানে যে অর্থ বা সম্পদ ব্যয় হবে, কর্মসূচিগুলোকে যেভাবে প্রণয়ন করা হবে সেগুলো যেন বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকে। এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা উচিত; যাতে এই উদযাপনটি জাতির পিতাকে স্মরণ করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে সত্যিকার অর্থে সবার স্বতঃস্ফ‚র্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়। কাউকে পেছনে ফেলে না রাখে। টেকসই উন্নয়নই আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য, যা সরকারও চায়। সবাইকে নিয়ে সমান অধিকারে, সমান অবস্থানে থেকে বিশেষ করে সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করে এগিয়ে যেতে হবে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিভিন্নভাবে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, এক ধরনের চাপিয়ে দেয়া উদ্যোগ, খুশিমতো অর্থ বা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। বিতর্ক সৃষ্টি করে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নেয়া বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মহলের ওপর বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এগুলোর ঊর্র্ধ্বে থাকতে হবে। এগুলো মুজিবের আদর্শ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঘাটতির দৃষ্টান্ত। এগুলো পরিহার করে এখনই সময় সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার। সেইসঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং সরকারের সব অঙ্গসংগঠন প্রতিটি ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে দুনীতির বিরুদ্ধে একটা অবস্থান নেবে- সেটাকে মূলধারার অংশ করতে হবে। অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলধারার মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যে অঙ্গীকার বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন এবং তার কন্যা শেখ হাসিনা সেটা বারবার বলে আসছেন। বঙ্গবন্ধু জোরালোভাবেই ৭৫ এ সর্বশেষ স্বাধীনতা দিবসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে একাত্তরের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেই চেতনাটা মুজিববর্ষ উদযাপনের মধ্যে দেখতে চাই। তাহলেই এই উপলক্ষটি অর্থবহ হবে। জাতির পিতার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে।

মুজিববর্ষে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা বর্তমান সরকারের অন্যতম টার্গেট উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান ভোরের কাগজকে বলেন, সংগঠনকে তৃণমূল থেকে শক্তিশালী করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলোকেও শক্তিশালী করা হবে। তিনি বলেন, রাজনীতি সবসময় চ্যালেঞ্জিং। আমরা উন্নয়ন ও গণতন্ত্রেরর পক্ষে। অন্যরা উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের বিপক্ষে। এছাড়া মৌলবাদী অপশক্তি তো আছেই। এই ধরনের একটা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা চ্যালেঞ্জিং। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ দেশপ্রেম, জনগণকে ভালোবাসা। এধরনের টার্গেট করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে যুবসমাজ যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় চালিকাশক্তি ছিল। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে। অনেকেই বলেছিলেন এই দেশের স্বাধীনতা টিকবে না। মুজিবর্ষে আমাদের মূল লক্ষ্য হবে বঙ্গবন্ধু মুজিবের আদর্শ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করা। গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে মানুষকে আরো উদ্বুদ্ধ করা।

ভোট ব্যবস্থার প্রতি অনীহা প্রসঙ্গে এই সিনিয়র রাজনীতিক বলেন, যখন দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, তখন কিছু লোক উন্নয়নে সন্তুষ্ট হয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি উদাসীনতা দেখাচ্ছে। যে কারণে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ উন্নত রাষ্ট্রে ভোটের হার কমে যাচ্ছে। তাছাড়া বাংলাদেশে ভোটের হার কমে যাওয়ার কারণ হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের আইনকানুন জনবান্ধব নয়।

ভোটগ্রহণের সময় সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত যথেষ্ট নয়। উন্নত দেশে গাড়ি রেখে মানুষ পায়ে হেঁটে বা ভ্যানে করে ভোটকেন্দ্রে যেতে চায় না। তাছাড়া ভোটকেন্দ্র ও বুথ আরো বাড়ানো দরকার। কারণ মানুষ দুই-আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে এখন আর যেতে চায় না। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে কীভাবে আগ্রহী করা যায়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। সংগঠনকে শক্তিশালী করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করব। বঙ্গবন্ধু দুর্নীতিমুক্ত যে রাষ্ট্রের কথা ভেবেছেন, সেই রাষ্ট্র উপহার দেয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।

এসআর