ক্রীড়াঙ্গনের সাফল্যে উজ্জ্বল বাংলাদেশ

আগের সংবাদ

আর্থিক খাতে স্বস্তি ফেরানো খুবই জরুরি

পরের সংবাদ

সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়ে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

সেবিকা দেবনাথ

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০ , ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। দেশকে আরো এগিয়ে নিতে এবং মুজিববর্ষকে কেন্দ্র করে সরকার নানা কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান সামাজিক অবক্ষয় এই অগ্রযাত্রার পথে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। বিশিষ্টজনরা বলছেন, আধুনিক সভ্যতার দৌড়ে হারিয়ে যাচ্ছে প্রচলিত নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধ। ক্রমশই বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। নষ্ট হচ্ছে সামাজিক শৃঙ্খলা। ছিন্ন হচ্ছে সামাজিক সম্পর্ক। অস্থির হয়ে উঠছে সমাজব্যবস্থা। বাড়ছে ধর্ষণ, নৃশংস কায়দায় হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ে মানুষের হৃদয়বৃত্তিতে ঘটছে অনাকাক্সিক্ষত পরিবর্তন- যা দেশের অর্জনগুলোকে ম্লান করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ পর্যায়ের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন জাগায়।

এ প্রসঙ্গে মানবাধিকারকর্মী খুশি কবীর ভোরের কাগজকে বলেন, পারিবারিক-সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে একের পর এক বীভৎস ঘটনার সাক্ষী হয়েছে দেশ। হত্যা, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও আত্মহননের ঘটনা বেড়েই চলছে। প্রকাশ্যে বীভৎস কায়দায় খুন করা হচ্ছে। শিশুদের ওপর করা হচ্ছে ভয়ঙ্কর নির্মমতা। এসব সামাজিক অস্থিরতার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে অবক্ষয়ের শিকার

হচ্ছে যুবসমাজ। এই পরিস্থিতির জন্য সামাজিক অস্থিরতা, মূল্যবোধের অবক্ষয়, বিচারহীনতা ও প্রযুক্তির প্রসারকে দায়ী করে খুশি কবীর বলেন, আমরা মুখে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কথা বলছি। কিন্তু আমার মনে হয় আমরা তা মন থেকে চাই না। বিভিন্ন আইন করা হয়েছে। কিন্তু এর প্রয়োগ নেই। প্রতিটা ধর্মে অনেক ভালো কথা আছে। কিন্তু যারা ধর্মীয় কথাগুলো বলেন, তারা সেই বার্তাটা ঠিকমতো দিচ্ছেন না। তারা নারীদের অধীনস্ত ভাবেই তুলে ধরেন। অসম বিষয়গুলো তুলে ধরেন। যা সমাজে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এ এস এম আতিকুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, সমাজে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় একদিনে হয় না। রাষ্ট্র এককভাবে চেষ্টা করলে হবে না। শিক্ষক-ধর্মীয় নেতা এবং স্থানীয় সরকারের পর্যায়ে যারা আছেন তারা সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যে ভ‚মিকা রাখার কথা ছিল, তা রাখছেন না। যারা দেশকে ভালোবাসি, দেশের উন্নয়ন চাই; তারা নিজেদের অনৈতিক কাজ থেকে দূরে রাখব- মুজিববর্ষে এটাই হোক আমাদের শপথ। তবেই জাতির পিতার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে বলে আমি মনে করি।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পরিচালক (লিগ্যাল এইড) এডভোকেট মাকসুদা আক্তার লাইলী ভোরের কাগজকে বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। কেননা, কেউ যখন দেখে অপরাধ করেও পার পাওয়া যায়, তা দেখে আইন ভাঙতে অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হয়। ফলে সমাজের মধ্যে শৃঙ্খলার যে চেইন তা ব্যাহত হয়।

মনোবিজ্ঞানী আমীর হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, সামাজিক অস্থিরতা ও অবক্ষয় মানুষের মনে এক ধরনের জিঘাংসা ও মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। যা কখনো কাম্য হতে পারে না। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে পারিবারিক বন্ধন জোরদারের বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে নৈতিক শিক্ষা এবং সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে। সন্তান সবসময়ই তার বাবা-মাকে আদর্শ হিসেবে নিয়ে থাকে। অভিভাবকদের সেই আদর্শের জায়গাটি ধরে রাখতে হবে।

এমএইচ