গার্মেন্টসে ফিরুক সুবাতাস

আগের সংবাদ

‘ভোরের কাগজ লাইভ’ হবে জীবন্ত মাধ্যম

পরের সংবাদ

বইমেলার অর্থনীতি

রেজাউল করিম খোকন

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০ , ১০:০৩ অপরাহ্ণ

গত বছর ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় রেকর্ড পরিমাণ বই বিক্রি হয়েছিল। গত বছরের গ্রন্থমেলায় ৮০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। তার আগের বছর ২০১৮-এর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বই বিক্রি হয়েছিল ৭০ কোটি টাকার । ২০১৭ সালে ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। একটি ব্যাপার সহজেই লক্ষণীয় যে, প্রতি বছরই বইমেলায় বই বিক্রির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এখন চলছে বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা।
ভাষার মাসে ফেব্রুয়ারিতে শুধুমাত্র ঢাকায় বাংলা একাডেমি কর্তৃক গ্রন্থমেলার বিশাল আয়োজন এর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বড় বড় শহরেও গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্টল দিয়ে বইয়ের পসরা সাজিয়ে তুলছেন প্রকাশক, বইয়ের ব্যবসায়ীরা। ঢাকার বাইরের গ্রন্থমেলাগুলোতেও বেশ দর্শনার্থী, বইপ্রেমী পাঠকের ভিড় রয়েছে। প্রতি বছরই ফেব্রুয়ারি এলেই নতুন বই প্রকাশের উৎসব শুরু হয়ে যায় এখন। বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা বইমেলাকে সামনে রেখে জনপ্রিয় বিখ্যাত লেখকদের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত নতুন, অল্প পরিচিত লেখকদেরও বই প্রকাশ করেন। একুশের বইমেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাপাখানা অর্থাৎ প্রেসে রমরমা অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কয়েক মাস আগে থেকেই। এখন এটা তুঙ্গে পৌঁছেছে। বই ছাপা সংক্রান্ত নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে বই বিপণনের এক মহাযজ্ঞ চলে প্রতি বছরই। কারণ এই মেলা পাঠক-লেখক-প্রকাশকের চমৎকার এক মিলনমেলা। প্রকাশকরা পাঠকদের হাতে প্রিয় বইটি তুলে দিতে সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা চালান।

আমাদের প্রকাশনা শিল্পে নিয়োজিত রয়েছেন অগণিত সংখ্যক মানুষ। আর এই শিল্পকে চাঙ্গা রাখতে অমর একুশে গ্রন্থমেলা শক্তিশালী ভ‚মিকা রেখে চলেছে প্রতি বছর। অমর একুশের বইমেলার অর্থনীতি নানাভাবে, বিভিন্ন দিকে বিস্তৃত। বইমেলা এলে বই বিপণনের জন্য প্রকাশক, লেখক বিভিন্ন পত্রিকায়, অনলাইনে বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। এভাবেই প্রায় কোটি টাকা খরচ হয়। আজকাল বইমেলার স্টলের পাশাপাশি অনলাইনেও নতুন প্রকাশিত বই বিক্রির চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনলাইনে বই বিক্রির কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হয়েছেন। এই ব্যবসায় তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন। পাশাপাশি পাঠক ঝামেলাবিহীনভাবে ঘরে বসেই তার কাক্সিক্ষত প্রিয় বইটি খুব সহজেই হাতে পেয়ে যাচ্ছেন।

আজকাল জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠিত লেখকদের একাধিক নতুন বই অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে বেস্টসেলার বইগুলো লাখ লাখ টাকার ব্যবসা করে। এর মাধ্যমে লেখক সম্মানী হিসেবে ভালো অঙ্কের অর্থ পান। প্রকাশকও সেই বেস্টসেলার বই বিপণনের মাধ্যমে বেশ ভালো মুনাফা করেন। বই প্রকাশনার ক্ষেত্রে শুধু লেখক প্রকাশকই নন এর সঙ্গে যুক্ত পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতকারী কম্পিউটার কর্মী প্রচ্ছদ শিল্পী সম্পাদনা কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, প্রেসের কর্মী, ডিজাইনার বাঁধাইকারী, ডেলিভারিম্যান প্রমুখ নানাভাবে সম্পৃক্ত হন। ফলে অমর একুশে গ্রন্থমেলার বই প্রকাশ ও বিপণন অর্থনীতিতে মোটামুটি ভালো প্রভাব ফেলছে বলা চলে। এই সময়ে বই প্রকাশনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী প্রকাশকরা সারা বছরের উপার্জন করার চেষ্টা করেন। অনেক নতুন লেখক প্রকাশকের মাধ্যমে তার বইটি প্রকাশের জন্য নিজে থেকেই পুঁজি বিনিয়োগ করে থাকেন। এভাবেও প্রকাশনা শিল্পে বইমেলাকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক বাড়তি আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। অর্থনীতির অন্যান্য খাতের মতো প্রকাশনা শিল্পও অর্থপ্রবাহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে- এটা মানতেই হবে। আশা করা যায়, ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অতীতের চেয়ে বই বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে।

রেজাউল করিম খোকন : লেখক ও ব্যাংকার।

এসআর