মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি বিবেচনায় নেবেন?

আগের সংবাদ

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রহমত আলীর ইন্তেকাল

পরের সংবাদ

কলকাতায় বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশ

মোস্তাফা জব্বার

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২০ , ১০:১৯ অপরাহ্ণ

ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের স্থপতি, বাংলাদেশের স্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন তারই সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশের জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উন্নতির যে উজ্জ্বল ধারা তৈরি করেছে তা সারা বিশ্বের কাছে অনুসরণীয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ যে দেশটি ২০০৮ সালে ডিজিটাইজেশনের প্রত্যয় ঘোষণা করে।

এক.
একেবারে আকস্মিকভাবেই আমার সচিবালয়ের অফিসে এসে উপস্থিত হলেন পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট পণ্ডিত ব্যক্তি পবিত্র সরকার। এই মানুষটি আমার পরম শ্রদ্ধার। বাংলাদেশে বাংলার মৌলিক কাজ যেমন ব্যাকরণ বা অভিধান প্রণয়নে তিনি বরাবরই অসাধারণ ভ‚মিকা পালন করে আসছেন। আমার সাম্প্রতিক শ্রদ্ধার দিনটি ছিল বাংলা একাডেমি আয়োজিত এক সেমিনারের। ইউনিকোড কনসোর্টিয়ামের উদ্যোগে সেদিন নিউ ব্রাহ্মীলিপি নিয়ে বাংলা ভাষাভাষীদের নিয়ে একটি সেমিনার হয়, যাতে ভারতের পক্ষে পবিত্র সরকারও উপস্থিত ছিলেন। আমি বিস্মিত হইনি এটি দেখে যে, পবিত্র সরকার বাংলাদেশের উত্থাপিত প্রস্তাবকে পূর্ণ সমর্থন করলেন। সম্প্রতি তিনি দৈনিক ভোরের কাগজের এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বইমেলা, এই দেশের লেখকরা ও বাংলাদেশের বাংলা চর্চার ভ‚য়সী প্রশংসা করেছেন।

পূর্বপুরুষের সূত্র ধরে পূর্ববঙ্গেরই মানুষ পবিত্র সরকারের কাছে আমার জানার বিষয় থাকল, স্যার কেন আমাকে খুঁজছেন। তিনি সরাসরি আমাকে কলকাতায় বাংলা ওয়ার্ল্ডওয়াইড আয়োজিত আন্তর্জাতিক বাঙালি সম্মেলনে প্রধান অতিথি হওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন এবং সেই সম্মেলনে প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা প্রচলনে অবদান রাখার জন্য সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্তের কথাও জানালেন। সেই সুবাদেই কলকাতা যাওয়া। মন্ত্রী হিসেবে কলকাতায় এটি আমার দ্বিতীয় সফর। এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ইনফোকমের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। এটি প্রশংসাযোগ্য যে বাংলাদেশের মন্ত্রীকেও কলকাতা নেতাজী সুভাষ বসু বিমানবন্দর থেকেই সম্পূর্ণ পুলিশ প্রটোকল প্রদান করা শুরু হয়। সম্মেলনস্থলের কাছেই হায়াত রিজেন্সি হোটেলে ছিলাম আমরা। বিমানবন্দরের কাছাকাছি এই হোটেলটিতেও অসাধারণ সম্মান পেয়েছি আমরা।

গত ২৩-২৫ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে বাংলা ওয়ার্ল্ডওয়াইডের উদ্যোগে পূর্বাঞ্চলীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বিধাননগর, কলকাতায় তিন দিনব্যাপী প্রথম আন্তর্জাতিক বাঙালি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৩ জানুয়ারি বেলা ১১ ঘটিকায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে আমি প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মেলনটির উদ্বোধন করেছি। প্রথম আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হওয়ার এই অর্জন জাতির জন্য গৌরবের। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সাবেক রাজ্যপাল এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি শ্যামল কুমার সেন। বাংলা ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সভাপতি ও সাবেক প্রধান বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা, সাবেক বিচারপতি, সাবেক মেয়র, বিশিষ্ট চিকিৎসকরা এবং বাংলাদেশ উপহাইকমিশন কলকাতার উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান। তৌফিক হাসান সাহেব বিমানবন্দরেই আমাকে স্বাগত জানাতে এসেছিলেন। সম্মেলনের বিভিন্ন সেমিনারে তিনিও অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের বিজয়ের ভারতীয় পরিবেশক সনোলাইট মাল্টিমিডিয়ার মালিক হায়দার হোসেনও আমাদের সঙ্গে যোগ দেন। আমার একান্ত সচিব খর্শেদ আলম ও ছেলে বিজয় আমার সঙ্গেই ছিল।

সম্মেলনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, সাহিত্য, নারীকল্যাণ ইত্যাদি বিষয়ের ওপর মোট ৩৩টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় এবং আলোচনায় বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বাংলা ভাষাভাষী মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। আমি টেলিযোগাযোগ, শিক্ষা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিষয়ে মোট ৬টি সেমিনারে অংশগ্রহণ করি।

প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা প্রয়োগের অস্মিরণীয় কাজ করার স্বীকৃতি : আন্তর্জাতিক বাঙালি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল বর্ণাঢ্য। বাংলাদেশের ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে অনুষ্ঠানে আমার অংশগ্রহণ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট পণ্ডিতবর্গের অংশগ্রহণের বাইরে ছিল সারা দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে থেকে আগত বাঙালিরা। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা প্রয়োগের অবিস্মরণীয় কাজ করার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মতো এমন বিষয়ে এমন কাউকে সম্মাননা প্রদান এবং আমাকে এই সম্মাননায় ভ‚ষিত করা। শুরুতে ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতে বাংলা ভাষাকে বিকশিত করার জন্য অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং বাংলা ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সভাপতি, সাবেক প্রধান বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায় সম্মাননা স্মারক আমার হাতে তুলে দেন। কম্পিউটারে বাংলা ভাষা প্রয়োগসহ প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার বিকাশ ঘটানোর জন্য আমাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। বস্তুত আমি আবেগাপ্লুত ছিলাম এ ঘটনাটিতে। তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা প্রয়োগের জন্য আমার সম্মাননা পাওয়াটা সেই পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ নয় আমার কাছে যার চাইতে আমার উদ্ভাবিত বাংলা সফটওয়্যার ব্যবহার করে বাংলা লেখায় যতটা আনন্দ রয়েছে। আমি যখন একুশের বইমেলার দিকে তাকাই এবং যখন ভাবি যে এই মেলায় প্রকাশিত সব বাংলা হরফ আমার হাতে তৈরি তখন আর কোনো সম্মাননা আমার জন্য তত গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে পূর্ববঙ্গের বাঙাল ও জয় বাংলার লোক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে এমন সম্মাননা পাওয়া তো অতি আনন্দের বটেই। আমার পাশে বসা বাংলার পণ্ডিতরা যখন ভারতে বিজয়ের ব্যাপক ব্যবহারের কথা বলছিলেন তখন আনন্দে বুকটা ভরে গিয়েছে। অনুষ্ঠানে আমি বলেছি, ‘বাংলা ভাষার জন্য রক্ত দেয়া জাতি এবং রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনকারী জাতির কাছে বাংলা ভাষা আত্মার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। বাংলাদেশ রাষ্ট্র বাংলা ভাষাকে সারা বিশ্বে প্রতিনিধিত্ব করে বিধায় আমরা আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন। এই ভাষার প্রযুক্তিগত বিকাশে যেমন আমরা তৎপর তেমনি এই ভাষার প্রশ্নে আমরা কারো সঙ্গে কোনো আপস করি না। আমি আমার উদ্ভাবিত প্রযুক্তি বাংলাদেশ ও ভারতসহ সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। আমি মনে করি আমাকে সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ ও বাঙালিকে সম্মানিত করা হয়েছে।’

আমি বলেছি, ‘ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের স্থপতি, বাংলাদেশের স্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন তারই সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশের জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উন্নতির যে উজ্জ্বল ধারা তৈরি করেছে তা সারা বিশ্বের কাছে অনুসরণীয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ যে দেশটি ২০০৮ সালে ডিজিটাইজেশনের প্রত্যয় ঘোষণা করে। এরপর ব্রিটেন ২০০৯, ভারত ২০১৪, মালদ্বীপ ২০১৫ ও ২০১৯ সালে পাকিস্তান ডিজিটাইজেশন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ডিজিটাইজেশনের ক্ষেত্রে অনেক দেশই বাংলাদেশকে আদর্শ হিসেবে অনুসরণ করছে। বিশ্ব সভ্যতার অগ্রযাত্রার তিনটি শিল্পবিপ্লব আমরা ধরতে পারিনি, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবটি আমরা ধরব এবং তাতে আমরা সামনের সারিতে থাকব। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৬ কোটি মোবাইল সংযোগ এবং প্রায় ১০ কোটি প্রকৃত মোবাইল ব্যবহারকারী রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আছে ১০ কোটির ওপরে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডইউথ ব্যবহার হয়। বাংলাদেশ এখন দুটি সাবমেরিন ক্যাবল ও অনেক আইটিসি সংযোগে যুক্ত। দেশটি তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। ২০২৩ সালে এই সাবমেরিন ক্যাবল লাইনটি চালু হবে। ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের সব ইউনিয়নে অপটিক্যাল ক্যাবল সংযোগের বিস্তার ঘটবে এবং পরবর্তীতে প্রতিটি গ্রামকে ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সবাই জানেন, বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ উৎক্ষেপণ করেছে ও দেশের সব টিভি চ্যানেল এটি ব্যবহার করছে। ২০২৩ সালের মধ্যে আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ২ উৎক্ষেপণ করব, যার কাজ এখন চলছে। বাংলাদেশে ২০০৮ সালে ১ জিপিবিএস ব্যান্ডইউথের মূল্য ছিল ২৭ হাজার টাকা, এখন এর মূল্য ২৮৫ টাকা। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে, এখন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবায় প্রতিদিন ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দেশে ৬ লাখ ফ্রিলেন্সার কাজ করছে। ৮০টি দেশে বাংলাদেশের সফটওয়্যার রপ্তানি হয়। আমরা এখন ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন করি ও রপ্তানি করি। বাংলাদেশে তৈরি মোবাইল সেট এখন আমেরিকায় ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশ এখন কম্প্রেসারসহ ইলেকট্রনিক পণ্য এমনকি র‌্যাম ও মাদারবোর্ড তৈরি করে। ২০২৩ সালের মধ্যে আমরা ৫জি চালু করব। বাংলাদেশের প্রায় ১০ হাজার ডাকঘরকে ডিজিটাল ডাকঘরে রূপান্তর করা হয়েছে। এসব ডিজিটাল ডাকঘর ও ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে তৃণমূলের জনগণের কাছে সরকারের কয়েকশ ডিজিটাল সেবা সহজে পৌঁছানো হয়। এভাবে প্রায় নয়শ সরকারি সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণের কাছে পৌঁছানো হবে।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমার উপরোক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানের দর্শককুল রীতিমতো চমকিত হন। আমি তাদের স্মরণ করিয়ে দিই যে আমরা একাত্তরের শরণার্থী জাতি নই বরং এখন পাকিস্তানিদের চাইতে বাংলাদেশ সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে। আমি অনুভব করলাম পশ্চিমবঙ্গের মানুষও বাংলাদেশের এই অগ্রগতিতে দারুণভাবে আপ্লুত। অনুষ্ঠানের বক্তারা ছাড়াও সাধারণ অংশগ্রহণকারীরা আমার সঙ্গে কথা বলার সময় কেবল আমার নিজের উদ্ভাবন নিয়ে কথা বলেনি বালাদেশের সামগ্রিক অগ্রগতিতেও আনন্দ প্রকাশ করেছে।

একটি ইন্টারনেটভিত্তিক সংস্থা কর্তৃক এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করাটা কেবল যে প্রথম ও ব্যতিক্রমী ছিল তাই নয়, আমাদের সবার জন্য ছিল একটি নতুন অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ের কাউকে দিয়ে মেলার উদ্বোধন করানো ও আমার মতো কাউকে সম্মাননা প্রদান করার বিষয়টিকে আমি নিজে ব্যতিক্রমী বলেই চিহ্নিত করেছি। মেলায় অন্য যেসব সেমিনারের আয়োজন করা হয় তাতেও একটি বাঙালিত্বের বিশালতার প্রতিফলন ঘটে। এমনকি ভাষার বাইরেও মাটি ও মানুষের জীবনধারার ঐক্য তুলে ধরার চেষ্টাও ছিল সম্মেলনে। পরের পর্বে আমি সেসব সেমিনার নিয়েও কথা বলব। বিশেষ করে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, জাতিসত্তা ও ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে যেসব আলোচনা হয়েছে তার সঙ্গে আমরা মানবসম্পদ তৈরি ও ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনকেও সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরই চা বিরতিতে বসে একটি আন্তঃদেশীয় চমৎকার আড্ডার আয়োজন হয়ে যায়। ভারতে পূর্বাঞ্চলীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মতো ৪-৫টি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আছে। মিলনায়তন, সেমিনার কক্ষ ছাড়াও কেন্দ্রটিতে আছে চমৎকার একটি জাদুঘর। ভারতের সব অঞ্চলের লোকজ সব বাদ্যযন্ত্র দিয়ে সাজানো এই জাদুঘরটি দেখতে পারাটা একটি অসাধারণ অভিজ্ঞতা। কলকাতার দেখার মতো অন্য যে কোনো ঠিকানার চাইতে আমার কাছে এই জাদুঘরটিকে অনন্য মনে হয়েছে। (আগামী পর্বে সমাপ্য)

১৪ জানুয়ারি ২০২০
মোস্তাফা জব্বার : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলাম লেখক।
[email protected]

এসআর