বিজয়ী ট্রাম্পের আরো অনাচারী হওয়ার সম্ভাবনা

আগের সংবাদ

জলশিশু

পরের সংবাদ

ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে আর নয়

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ , ৬:০৬ অপরাহ্ণ

আদালতের নির্দেশের পরও সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি কীভাবে চলছে সে বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আমরা আশা করব, আদালতের নির্দেশ তামিল করে যথাসময়ে এ সংক্রান্ত রিপোর্ট দাখিলে বিআরটিএ ও পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। জানা গেছে, ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ফিটনেসবিহীন প্রায় ৫ লাখ গাড়ি ছিল। ওইদিন আদালত আদেশ দেন, ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়িকে পেট্রলপাম্প থেকে জ্বালানি না দিতে। এ আদেশ অনুসারে বিআরটিএ ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রত্যেক পেট্রলপাম্পকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা এ বিষয়ে ব্যানার লাগিয়েছে এবং ফিটনেসবিহীন গাড়িকে জ্বালানি দিচ্ছে না। এরপরও কি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরেছে। দেশের সবচেয়ে বিশৃঙ্খল খাত হলো পরিবহন খাত। এখানে শৃঙ্খলা ও নিয়মনীতির বালাই তো নেই-ই, উল্টো ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়, যাত্রীদের হয়রানি ও জিম্মি করা, গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে হতাহত করা, গাড়িতে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি করা, এমনকি আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো নৈমিত্তিক বিষয়। গত বছর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ কার্যকর শুরু হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, গাড়ির লাইসেন্স না থাকলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। ভুয়া লাইসেন্সের জন্য শাস্তি আরো বেশি। সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে। ফিটনেসবিহীন গাড়ির জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন ধারায় ট্রাফিক আইন অমান্যের জন্য বাড়ানো হয়েছে শাস্তি ও জরিমানা। দুর্ঘটনার জন্য শাস্তি দেয়া হবে দণ্ডবিধি অনুযায়ী। হত্যা হলে ৩০২ ধারা অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটালে ৩০৪ (বি) ধারা অনুযায়ী তিন বছরের কারাদণ্ড হবে। আমরা মনে করি, এই আইন বাস্তবায়ন করতে হলে মূলে হাত দিতে হবে। বিআরটিএর সেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তুষ্টি বহুদিনের। আছে নানা অভিযোগ। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, রুট পারমিট, ট্যাক্স টোকেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মালিকানা বদলসহ বিভিন্ন কাজে বিআরটিএর শরণাপন্ন হতে হয়। কিন্তু হয়রানি, অনিয়ম ও নানামাত্রিক দুর্নীতির কারণে অনেকে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি ভীতশ্রদ্ধ হন। সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং অদক্ষ ও অবৈধ চালক। বিআরটিএ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখনো এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি। এখানে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম, হয়রানি, ভোগান্তি আর দালালদের তৎপরতা চললেও তা দেখার এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কেউ যেন থেকেও নেই। বিআরটিএতে লাইসেন্স ও ফিটনেসসহ বিভিন্ন সেবায় যে ঘুষ দিতে হয় তা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে তদারকি বাড়াতে হবে, দালাল তাড়াতে হবে, কাউন্টার বাড়াতে হবে, চোখের দেখায় ফিটনেস দেয়া বন্ধ করতে হবে। পরিবহন খাত এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক যোগাযোগ ছাড়াও আন্তর্জাতিক অনেক বিষয় এখন পরিবহনে যুক্ত। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এজন্য সময়ের ধারাবাহিকতায় সড়ক পরিবহন আইনে যে বিষয়গুলো সংযোজিত হয়েছে তার কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি মনে করছি।

ডিসি