বাঙালির প্রতিবাদের প্রতীক বইমেলা

আগের সংবাদ

ফাগুন রঙের ছোঁয়া বইমেলায়

পরের সংবাদ

ফাগুন রঙের ছোঁয়ায় বইমেলা

শরীফা বুলবুল

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ , ৮:৪৩ অপরাহ্ণ

হাতে লাল গোলাপ, মাথায় গাঁদা ফুলের টায়রা, বাসন্তী রঙের শাড়ি পরা তরুণীরা। অপরদিকে হলুদ পাঞ্জাবি পরা ঝাঁকে ঝাঁকে তরুণ। বইমেলার অন্যরকম এক দৃশ্য। ফাগুনের দারুণ আগুনে ছোঁয়া বইমেলা প্রাঙ্গন। শীতের পড়ন্ত বিকেলে এমনই হলুদবরণ সাজে মাতিয়ে রেখেছিল তারা। বসন্তের কোকিল না ডাকলেও তার আগমনী বার্তায় মেলায় লেগেছিল এমনই ফাগুনের রঙ। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মেলা ঘুরে এমনই দৃশ্য দেখা যায়। বাসন্তী রংয়ের শাড়িতে তরুণী ভিড় জমিয়েছিল দলে দলে। ঘুরতে দেখা গেছে অনেক যুগলকেও।

প্রকাশকরা জানালেন, শুক্রবার এমন কাঙ্ক্ষিত দিনের অপেক্ষাতেই ছিলেন লেখক, পাঠক ও প্রকাশকরা। একইসঙ্গে পহেলা বসন্ত, ভ্যালেন্টাইস ডে ও শুক্রবার। সব মিলিয়ে জমে উঠবে মেলা। শুধু তাই নয় এই রেশ অব্যাহত থাকবে মেলার শেষ দিনটি পর্যন্ত।

বাংলা পঞ্জিকার পরিবর্তনের ফলে পয়লা ফাগুন আর ভ্যালেন্টাইনস ডে দুটোই ১৪ ফেব্রুয়ারিতে। তার সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে ছুটির দিন শুক্রবার। সব মিলিয়ে একেবারেই ভিন্নরকম একটি দিন পার করবে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। লোকে লোকারণ্য হবে মেলার মাঠ। শুক্রবার শিশু প্রহরে বইমেলার দুয়ার খুলবে সকাল ১১টায়। দুপুর ১টা পর্যন্ত আবার শিশুপ্রহর। মেলা চলবে টানা রাত ৯টা পর্যন্ত।

মূলমঞ্চের আয়োজন: বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় সুব্রত বড়ুয়া রচিত ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন বড়ুয়া। আলোচনায় অংশ নেন লুৎফর রহমান রিটন এবং মনি হায়দার। লেখকের বক্তব্য দেন সুব্রত বড়ুয়া। সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

প্রাবন্ধিক বলেন, আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শ দর্শন জানা এবং চর্চা করা। নতুন প্রজন্মের নবীন-তরুণদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে যত আগ্রহ সৃষ্টি করা যাবে, তারা ততই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সোনার বাংলা গড়ার পক্ষে এটা হতে পারে অত্যন্ত জরুরি উদ্যোগ। সুব্রত বড়ুয়া রচিত বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা গ্রন্থখানি কিছুটা হলেও আমাদের এগিয়ে দেবে সেই লক্ষ্যে। উক্তি-ভাষ্যে, আলোচনায় বঙ্গবন্ধুকে এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে বিশ্বনেতার মানদণ্ডে।

আলোচকরা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিশাল সমুদ্রের মতো যিনি তার চেতনায় ধারণ করেছেন বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত পরিসরে লেখক সুব্রত বড়ুয়া বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য ও সংগ্রামী জীবনকে ইতিহাস ও তথ্যের ভিত্তিতে তুলে আনার প্রয়াস পেয়েছেন। এককথায় বলা যায় সাবলীল ভাষায় লেখা বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম বিষয়ক এটি এক অনন্য গ্রন্থ।

বসন্তের হাওয়া নিয়ে বইমেলায় তরুণীরা। ছবি: ভোরের কাগজ।

গ্রন্থের লেখক বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবনকথা গ্রন্থটি লেখার পেছনে যে দুটি বিষয় আমার প্রেরণা হয়ে কাজ করেছে তা হলো বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। এ গ্রন্থে আমি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর জীবনকে ইতিহাস, সংগ্রাম ও কর্মের প্রেক্ষাপটে তুলে আনার চেষ্টা করেছি।

বৃহস্পতিবার লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, মৌলি আজাদ, রাসেল আশেকী এবং শোয়েব সর্বনাম।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি মাহবুব সাদিক, শাহজাদী আঞ্জুমান আরা, মুনীর সিরাজ এবং মাসুদ হাসান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মো. শাহাদাৎ হোসেন, অনিমেষ কর এবং তামান্না সারোয়ার নীপা। নৃত্য পরিবেশন করেন সৌন্দর্য প্রিয়দর্শিনী ঝুম্পা-এর পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘জলতরঙ্গ ডান্স কোম্পানী’র নৃত্য শিল্পীবৃন্দ। সংগীত পরিবেশন করেন কণ্ঠশিল্পী দীনাত জাহান মুন্নী, আঞ্জুমান আরা শিমুল, কাজী মুয়ীদ শাহরিয়ার সিরাজ জয়, মোঃ রেজওয়ানুল হক এবং সঞ্জয় কুমার দাস।

এনএম