অনন্য এক বসন্তজাতক

আগের সংবাদ

আমাদের শিক্ষক অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

পরের সংবাদ

বিদ্যালয়ে জাল সনদে চাকরি, তথ্য ফাঁস

তৈয়বুর রহমান, কুড়িগ্রাম

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ , ৭:৩৩ অপরাহ্ণ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও চিলমারী উপজেলায় শিক্ষা বিভাগের চোখকে ফাঁকি দিয়ে দুই ব্যক্তি জাল সনদের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করে আসছেন। তারা বেতনভাতাও উত্তোলন করছেন। এই বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির কাছে অভিযোগ করলেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে।

সোনাহাট দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন তার স্ত্রী শাহিদা বেগমকে প্রভাব খাটিয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন ২০১১সালে।

অভিযোগে জানা যায়, শাহিদা বেগম ১৯৯০ সালে বলদিয়া দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাশ করেন। বন্ধ হয়ে যাওয়া দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (অনার্স) এবং বিএড সনদ নেন। শিক্ষক নিবন্ধন জাল সনদ সংগ্রহ করে সহকারি শিক্ষকের পদে স্বামীর সহায়তায় নিয়োগ পান। নিয়োগ পেলেও সনদ জাল হওয়ায় সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এমপিও ভূক্তির সুপারিশ করেননি। পরে কৌশলে শিক্ষা কর্মকতার্র স্বাক্ষর জাল করে ২০১২ সালে শাহিদা বেগমকে এমপিও ভুক্ত করান তার স্বামী প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন।

বিদ্যালয়ের সভাপতি আকতার হোসেন জানান, শাহিদা বেগমের নিবন্ধন যাচাইয়ের জন্য গত ২৪ ডিসেম্বর এনটিআরসিএ বরাবর একটি আবেদন করেন তিনি। এরই প্রেক্ষিতে তদন্ত হয়। পত্রে আরো বলা হয়েছে, জাল ও ভুয়া সনদধারী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে মামলা দায়ের করে অত্র অফিসকে জানাতে বলা হয়েছে।

এই বিষয়ে নাম প্রকাশ্যে কমিটির একাধিক সদস্য জানান, প্রায় দুই মাস হলো মামলা করার চিঠি সভাপতি পেয়েছে। কিন্তু মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করছেন তিনি। নিয়ম বর্হিভূতভাবে আলমগীর হোসেনও প্রধান শিক্ষকের পদটিতে নিয়োগ পান। বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ করে বিপুল অর্থের মালিকও হয়েছেন তিনি। বিদ্যালয় সংলগ্ন রাজকীয় একটি বাড়ি বানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।


প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেনের রাজকীয় বাড়ি

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক শাহিদা বেগম বলেন, আমার সনদ জাল হলে এমপিও ভুক্তি হয় কিভাবে? তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সেটি তার জানা নেই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন উদ্ধুত্তপূর্ণ আচরণ করে বলেন, যারা অভিযোগ করেছে তারাই ভালো জানেন। আপনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমি কিছুই বলতে পারবো না।

অপরদিকে চিলমারী উপজেলায় থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে জাল সনদ দিয়ে চাকুরি নেবার অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরেও কোন সুরহা পাননি অভিযোগকারী।

অভিযোগে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর উক্ত বিদ্যালয়ে সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে চাকুরি নেন আঞ্জুমান আরা। চাকুরিতে যোগদানের পর ২০১৬ সালে ১১২৮৩৬৭ ইনডেক্স নম্বরে এমপিও ভুক্ত হবার পর থেকে নিয়মিত বেতনভাতা উত্তোলন করে আসছেন। তিনি ২০০২ সালের এসএসসি পাশ করলেও ২০১২ সালে খুলনা থেকে ডিপ্লোমা ইন লাইব্রেরী এন্ড ইনফরমেশন সায়েন্সের সনদটি জমা দেন।

অভিযোগকারী আইয়ুব আলী বলেন, আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি সহকারি গ্রন্থাগারিক আঞ্জুমান আরা তার চাকুরিতে প্রদানকৃত সনদ গুলোর মধ্যে ইন্সটিটিউট অব ইডুকেশন লাইব্রেরী এন্ড ম্যানেজমেন্ট (আইইএলএম) সনদটি জাল। কেননা এই সনদে নাম ঠিক থাকলেও পিতা ও ঠিকানা ভিন্ন। ডিপ্লোমার সনদ অনুযায়ী দেখা যায়, মোছা. আঞ্জুমান আরা। পিতা-আহাম্মদ আলী, ঠিকানা খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায়। আঞ্জুমান আরা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির প্রভাব খাটিয়ে এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে, নিয়োগ বোর্ড কমিটিকে ম্যানেজ করে চাকুরির নেন।

বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী গ্রন্থাগারিক আঞ্জুমান আরার সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তৈয়ব আলী জানান,বিষয়টি আমার জানা নেই। কেননা আমার যোগদানের পূর্বে আঞ্জুমান আরা সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। আমার কাছে কেউ কোন অভিযোগ করেননি।

জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুল আলম বলেন, জাল সনদ দিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার চাকুরি চলে যাবে। মামলাও হবে।

এসআর