ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে আর নয়

আগের সংবাদ

প্যাসিফিকে পাঁচ রজনি

পরের সংবাদ

ডিসি

জলশিশু

রহীম শাহ মূল : চার্লস কিংস্লে

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ , ৬:১৫ অপরাহ্ণ

নাম তার টম। উত্তর ইংল্যান্ডের একটি বড় শহরে বাস করত সে। ওই শহরে প্রচুর চিমনি পরিষ্কার করার কাজ ছিল। টম এতে ভালো আয় করত। ওখানকার মালিকরাও ভালো পয়সা খরচ করত।
টম লিখতে ও পড়তে জানত না। তাছাড়া সে এসব নিয়ে কোনো চিন্তাই করত না। সে কখনো গোসল করেনি। কারণ যেখানে সে থাকতো, সেখানে পানি ছিল না। কেউ তাকে প্রার্থনা করা শেখায়নি। তাই ঈশ্বর সম্পর্কে সে কখনো কিছু শোনেনি।
কখনো কখনো সে খুবই কষ্টে থাকতো, আবার কখনোবা থাকতো বেশ খোশমেজাজে। কালিময় কালো চিমনির ভেতর যখন উঠতে হতো, তখন টম কাঁদত। তার কনুই ও হাঁটুতে কালি লেপ্টে থাকতো, চোখেও কালি পড়ত। তার কাজের মালিক তাকে প্রহার করলে, পর্যাপ্ত খাবার না দিলে সে কাঁদত। এতসব ঘটনা সপ্তাহের প্রতিটি দিনই ঘটত।
কিন্তু টম তার বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করার সময় খুশি থাকতো। তারা পেনি দিয়ে টস খেলত, ব্যাঙলাফ খেলত, ধাবমান ঘোড়ায় ঘুরে পাথর ছোড়া খেলত। পাথর ছোড়ার খেলাটি টম বেশি উপভোগ করত, বিশেষ করে যখন লুকোবার জন্য কোনো দেয়াল থাকতো।
নানা দুর্ভোগের কারণে সে খেলাধুলা খুব উপভোগ করত। তার ওপর নির্যাতন আর প্রতিদিন ক্ষুধার্ত থাকার যন্ত্রণাকে সে ভুলে থাকার চেষ্টা করত। বড় হয়ে সে স্বপ্ন দেখত অবিরাম। স্বপ্ন দেখা তার শখে পরিণত হয়েছে। সে স্বপ্ন দেখত একদিন বড় হবে সে। সে কেবল অভিজ্ঞ চিমনি পরিষ্কারক হওয়ার স্বপ্নই দেখত। এতে করে অনেকের মতো সেও সরকারি ঘরে যেতে পারবে। বসে বসে খাবে, অধীনস্তদের মারবে আর ময়লার ঝুড়ি বা বস্তা নিয়ে যেতে বাধ্য করবে।
এক সময় টম গাধা টানত। গাধার মালিকই ছিল তার ওস্তাদ। গাধার পিঠে বসে থাকত ওস্তাদ আর টম গাধাকে টেনে নিয়ে যেতো। কিন্তু বর্তমানে টম তার ভাগ্য নিয়ে খুবই তৃপ্ত। কারণ এখন তাকে আর গাধা টানতে হয় না। শুধু চিমনিই পরিষ্কার করে।
একদিন এক সুদর্শন ছোট ঘোড়সওয়ার আসল। টম ঘোড়ার পায়ে পাথর ছোড়ার জন্য একটি দেয়ালের পেছনে লুকিয়ে ছিল। কিন্তু সহিস তাকে দেখে ফেলল। স্বাভাবিকভাবে জিগ্যেস করল, ‘চিমনি পরিষ্কারকারী মি. গ্রিমস কোথায় থাকেন?’
টম ছিল একজন অনুগত কর্মচারী। যখনই সে তার ওস্তাদের নাম শুনল, তখন পাথরের টুকরো ফেলে দিল। মন দিয়ে শুনল সহিসের কথা।
এর পরদিন সকালে চিমনি পরিষ্কার করার জন্য স্যার জনের হার্থোভারের বাড়িতে যাওয়ার কথা গ্রিমসের। স্যার জনের মতো একজন বড় ক্রেতা আনার জন্য গ্রিমস টমের ওপর খুশি হলেন। ওইদিন রাতে ভালো ভালো খাবার খেয়েছিলেন। পরদিন ভোর চারটায় তারা দুজন ঘুম থেকে উঠল। তারা যাচ্ছিল একটি বিখ্যাত পরিবারে। তাদের কাজ সন্তোষজনক হলে প্রচুর টাকা রোজগার হওয়ার সম্ভাবনা আছে। টম ভালো ব্যবহার করতে খুবই আগ্রহী। কারণ হার্থোভার পরিবারের আশ্চর্যজনক ঘটনার গল্প শুনেছে সে। কখনও ওই বাড়িটি দেখেনি। স্যার জনকে আগে দেখেছে। ভিন্ন দুটি কারণে স্যার জন তাকে দুবার জেলে পাঠিয়েছিলেন।
সে যাক, স্যার জনের বাড়িটি বিশাল। টম বাড়িটি দেখে চমকে উঠেছে। মনে মনে আন্দাজ করছে, দশ হাজার লোক সহজেই থাকতে পারবে ওই বাড়িতে। ওই বাড়ির পার্কে হরিণ আছে। টম মনে করত ওগুলো দৈত্য এবং ওরা ছোট বাচ্চাদের ধরে ধরে খায়। কয়েক একর জায়গাজুড়ে বাড়ির বাগান। তার ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে স্যামন মাছে ভরা ছোট্ট নদী। মি. গ্রিমস আর তার বন্ধুরা সুযোগ পেলেই জন সাহেবের বাগানবাড়িতে ঢুকে পড়তেন।
কিন্তু প্রভুর প্রতি তাদের বেশ শ্রদ্ধাও ছিল। স্যার জন শুধুমাত্র সৎ সোজাসাপ্টা ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন তাই নয়, তিনি একজন বড় মাপের মানুষও ছিলেন। এ কারণেই মি. গ্রিমস স্যার জন ও লেডি জনকে দেখলেই হ্যাট নামিয়ে অভিবাদন জানাতেন।
পরদিন খুব সকালে, সারা শহর যখন ঘুমিয়ে ছিল, মি. গ্রিমস গাধায় পিঠে করে বেড়াতে বের হলেন। টম মি. গ্রিমসের ব্রাশ ইত্যাদি নিয়ে পেছন পেছন হাঁটছিল। তারা কয়লার খনি এলাকার গ্রামগুলোর কালো আর ধূলিময় রাস্তা দিয়ে চলছিল। রাস্তার পাশে টম ফুলের বাগান দেখতে পেল। পাখিরা গান গেয়ে নতুন দিনকে স্বাগত জানাচ্ছে।
তাদের পাশ?দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল একজন দরিদ্র আইরিশ মহিলা। তার পিঠের ওপরে একটি বোঝা। মহিলার স্বাস্থ্য বেশ ভালো। উজ্জ্বল ধূসর চোখ ও ঘন কালো চুল তার। মি. গ্রিমস তাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তার পেছনে গাধার পিঠে বসতে বললেন।
ওই মহিলা মি. গ্রিমসের দৃষ্টি অথবা কণ্ঠস্বর পছন্দ করেনি। তাই শান্তভাবে বলল, ‘না, ধন্যবাদ। আমি বরং আপনার এই ছোট্ট ছেলেটির সঙ্গে হাঁটি।’
মহিলাটি টমকে যাবতীয় প্রশ্ন করল। সে জানতে চাইল কোথায় টম বাস করে। ওই আইরিশ মহিলার কথাবার্তা, আচার-আচরণ টমের খুবই পছন্দ হলো। সে সাধারণত অন্য কোনো মানুষের সঙ্গ পছন্দ করে না। শেষে মহিলা টমকে জিগ্যেস করল সে প্রার্থনা করে কিনা।
টম উত্তর দিল, ‘প্রার্থনা কী জিনিস আমি জানি না।’
শুনে মহিলার মুখখানা ভারাক্রান্ত হয়ে গেল।
এরপর টম তাকে জিগ্যেস করল, সে কোথায় থাকে।
উত্তরে মহিলা বলল, সমুদ্রপথে অনেক দূরে।
টম তাকে সমুদ্র সম্পর্কে জিগ্যেস করল।
আইরিশ মহিলা সমুদ্র সম্পর্কে অনেক গল্প করল। শীতে সমুদ্রকে কেমন দেখায়, কেমন করে শীতের রাতে পাথরের ওপর সমুদ্রের পানি উথাল-পাথাল করে, গ্রীষ্মে ছেলেমেয়েরা গোসল করে, খেলা করে, সমুদ্র সৈকতে শুয়ে থাকে, গাঙচিল ওড়াউড়ি করে ইত্যাদি গল্প। যতক্ষণ পর্যন্ত টম সমুদ্র দেখতে যেতো এবং তাতে স্নান করতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ না করল, ততক্ষণ পর্যন্ত সে টমকে সমুদ্রের গল্প বলে গেল। গ্রিমস একটি পাহাড়ের কাছে এসে থামলেন। সেখানে একটি চুনাপাথরের বুক বেয়ে স্বচ্ছ পানির একটি ঝরনা অবিরাম ঝরছে। পাহাড়ের পাদদেশের গড়িয়ে যাওয়া জল ফেনা তুলছে। বাতাসে উড়ছে কুয়াশার মতো জলের ধারা। গ্রিমস গাধার পিঠ থেকে নেমে ঝরনার দিকে অগ্রসর হলেন। টম অবাক হয়ে দেখল, মি. গ্রিমস তার ময়লা মাখানো মাথাটি স্বচ্ছ ঝরনার জলে ডুবিয়ে ধুয়ে নিচ্ছেন। টম ভাবল, সেও যদি ঝরনায় ডুব দিতে পারত তাহলে খুব মজা হতো। যেই ভাবা সেই কাজ। টম দৌড়ে ঝরনায় নামল এবং তার মুখ পরিষ্কার করা শুরু করল।
মি. গ্রিমস খুবই বিরক্ত হয়ে উঠলেন। কারণ আইরিশ মহিলাটি তার চেয়ে টমকে বেশি পছন্দ করেছে। হঠাৎ বলা নেই, কওয়া নেই মি. গ্রিমস টমকে ডেকে তার হাঁটুর ওপর রেখে মারতে শুরু করলেন।
আইরিশ মহিলা চিৎকার করে বললেন, ‘মি. গ্রিমস, আপনার লজ্জা হওয়া উচিত।’
কিন্তু গ্রিমস টমকে মারতে লাগলেন আগের মতো।
‘আমি তোমার এবং ভেনডেল সম্পর্কে সব জানি। এও জানি অলডার মেয়ারে তোমরা কী করেছ!’ মহিলাটি বলল।
গ্রিমসের চেহারা এবার ফ্যাকাশে হয়ে গেল। তিনি টমকে ছেড়ে দিয়ে আইরিশ মহিলার দিকে আসলেন। মহিলা নির্ভীকভাবে তার মুখোমুখি হলেন।
গ্রিমস অভিযোেেগর সুরে বললেন, ‘তুমি আইরিশ মহিলা নও।’
‘আমি কে তা জানার প্রয়োজন তোমার নেই। শুধু জেনে রেখো, তোমার সম্পর্কে সবকিছু আমি জানি এবং তুমি যদি ওই ছেলেটিকে আর আঘাত করো, তাহলে আমি যা জানি সব বলে দেব।’
গ্রিমস বিড়বিড় করতে লাগলেন। কিন্তু ভীষণভাবে ভয় পেয়ে গেলেন। শান্তভাবে গাধার পিঠে উঠে বসলেন।
‘দাঁড়াও!’ আইরিশ মহিলা তাকে বলল, ‘শোনো, আমি যা বলেছি তাই করার চেষ্টা করবে। মনে রাখবে, যে ভালো থাকার চেষ্টা করে সে ভালো থাকে এবং যে বাজে হওয়ার ইচ্ছে করে সে বাজে হয়।’
গ্রিমস মহিলার দিকে এগোতে চাইলেন। কিন্তু মহিলাটি হঠাৎ জাদুর মতো কোথায় উধাও হয়ে গেল। গ্রিমস বা টম কেউ আর মহিলাটিকে দেখল না। ওই এলাকায় আত্মগোপন করার মতো কোনো জায়গাও ছিল না।

২.
শীঘ্রই তারা স্যার জনের গেটে এসে উপস্থিত হলো। দারোয়ান তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। সে গেট খুলে দিল। দারোয়ান কৌতুকাচ্ছলে গ্রিমসকে সাবধান করে দিল, যেন পার্কে না ঢোকে। টম অবাক হয়ে দেখল, গ্রিমস ও দারোয়ান খুব আমুদে ভঙ্গিতে একে অপরের পিঠ চাপড়ে দিল এবং সারা পথ একসঙ্গে ছিল।
একটি বড় সড়ক ধরে তারা হেঁটে চলল। দুপাশে ছিল গাছের সারি। সড়কটি স্যার জনের বাড়ি পর্যন্ত চলে গেছে। টম এত বড় বড় গাছ আগে কখনও দেখেনি। সে ভাবল, সম্ভবত ওই গাছগুলোর মাথাতেই নীল আকাশটি বসে আছে। সারা পথ ধরে বেশ সুরেলা একটি শব্দ টম শুনতে পেল। টমকে বিমূঢ় করে ফেলল সে শব্দ। অবশেষে সে সাহস সঞ্চয় করে এ সম্পর্কে দারোয়ানকে জিগ্যেস করে বসল।
‘প্লিজ স্যার,’ দারোয়ানের প্রতি তার ভয়ের কারণে খুব মার্জিতভাবে জিগ্যেস করল, ‘এই ভনভন শব্দটি কিসের?’
দারোয়ান তাকে বলল, ‘এটি লাইম ফ্লাওয়ারের মধ্যে মৌমাছির শব্দ।’
‘মৌমাছি কী?’
‘তারা মধু তৈরি করে।’
‘প্লিজ স্যার, মধু কী?’ হতভম্ব বালকটি জিগ্যেস করল।
গ্রিমস রূঢ়ভাবে তাদের কথায় বাধা দিল এবং টমকে তার জিহ্বা সংযত করতে বলল।
এক সময় তারা স্যার জনের বাড়ির কাছে পৌঁছে গেল। টম বিশাল লোহার গেটের ভেতর ফুলের সমারোহের দিকে তাকিয়ে থাকল। ফুলের এই সমারোহ সারা বাড়িটিকে ঘিরে রেখেছে।
সে আগে কখনও এ রকম বৃহৎ অট্টালিকা দেখেনি। সে অবাক হয়ে ভাবতে লাগল, কে এটা বানিয়েছে। এতে কয়টি চিমনি আছে আর এটি তৈরি করতে কতই-বা খরচ হয়েছে?
এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রায় অসম্ভব। বিভিন্ন সময় নব্বই বারে এবং উনিশটি শৈলীতে বাড়িটি নির্মিত হয়েছিল। স্যার জন তার এই অদ্ভুত বাড়িটিকে নিয়ে লোকে কী ভাবল তার বিন্দুমাত্র আমল দেন না। তিনি বাড়িটির যে কোনো অংশ পরিবর্তনের বিরোধী।

টম এবং গ্রিমস সদর দরজা দিয়ে ভেতরে যায়নি। তারা পেছনের পথ দিয়ে ঢুকেছে। টম তত্ত¡াবধায়ক মহিলার পুষ্পশোভিত গাউন দেখে এতই অভিভ‚ত হয়েছে যে সে তাকে বাড়ির বেগম বলে ভেবে নিয়েছে। ওই মহিলা গ্রিমসকে দেখিয়ে দিচ্ছিল কী কী করতে হবে। গ্রিমস টমকে নিম্নস্বরে মনে করিয়ে দিচ্ছিল, ‘তুমি একজন নিকৃষ্ট প্রাণী, সাবধান!’
তারপর মহিলাটি একটি বড় ঘরে নিয়ে গেল তাদের। ওই ঘরটি বাদামি কাগজ দিয়ে মোড়ানো। আসবাবপত্রের ওপর নজর রাখছিল একজন গৃহপরিচারিকা। গ্রিমস টমকে থাপ্পড় মেরে তার কাজে পাঠিয়ে দিল।
টম চিমনির পর চিমনি পরিষ্কার করতে লাগল। এভাবে তার চোখ ব্যথা করতে লাগল। পায়ে খিল ধরে গেল। হার্থোভারের চিমনিগুলো ছিল বড়। একটির সঙ্গে অন্যটি সংযুক্ত। তাই টম চিমনির ভেতরে তার দিক হারিয়ে ফেলল। সে গোলকধাঁধায় পড়ল।
সে একটি ভুল চিমনিতে এসে পড়ল। সে খুব সুন্দরভাবে সাজানো একটি ঘরে এসে উপস্থিত হলো। ঘরটি সাদা রঙ দিয়ে সাজানো হয়েছে। এবং অন্য রঙের ফুলতোলা একটি কার্পেট মেঝের শোভা বাড়িয়ে রেখেছে। ঘোড়া, কুকুর এবং মানুষের ছবি দেয়ালে ঝোলানো। তারপর চোখ পড়ল একটি ওয়াশিং স্ট্যান্ডের ওপর। ওখানে বেসিন, সাবান, ব্রাশ এবং তোয়ালে সুসজ্জিত ছিল। টম আশ্চর্য হয়ে গেল। তার চোখ কপালে উঠল। সে ভাবল, পরিষ্কার থাকতে এতগুলো জিনিসের দরকার হলে নিশ্চয়ই সে একটা সাংঘাতিক নোংরা মহিলা হবে।
সে বিছানার দিকে তাকাল। একটি মেয়ে বিছানায় শুয়ে ছিল। সে একটি ধবধবে সাদা বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল। তাকে দেখতে এত সুন্দর লাগছিল যে টম তাকিয়েই থাকল তো তাকিয়েই থাকল।
সে টমের বয়সী বা তার চেয়ে বছরখানেকের বড় হবে। কিন্তু টম তা ভাবল না। সে তার মুক্তার মতো সাদা ত্বক এবং বালিশের ওপর ছড়ানো সোনালি চুলের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকল। সে ভাবল, প্রত্যেক মানুষ কি ধুয়েমুছে পরিচ্ছন্ন হলে এ রকম হয়?
হঠাৎ সে দেখল, একটি কুৎসিৎ ছোট কালোমুখো ছেলে লাল চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। এটি ছিল আয়নায় প্রতিফলিত তার নিজের চেহারা। টম জীবনে প্রথমবার আবিষ্কার করল যে সে নোংরা। এই দৃশ্য এবং ভাবনা তাকে লজ্জায় ফেলল। প্রায় কেঁদে ফেলার অবস্থা তার। সে আবার চিমনি পরিষ্কার করায় মন দিল। উনুনের চারপাশে লোহার ঘেরায় আঘাত করল। লোহার ঘেরাটি পড়ে গেল সশব্দে এবং সারা বাড়িতে প্রতিধ্বনি হলো।
ছোট্ট মেয়েটি বিছানায় লাফ দিয়ে উঠল। সে কালিঝুলিমাখা চিমনি পরিষ্কার করার ছেলেটিকে দেখে ভয়ে চিৎকার করে উঠল।
(চলবে)