দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়নি

আগের সংবাদ

ফাগুনের আগেই বসন্তের দিন

পরের সংবাদ

বিকল্প বাজারের সন্ধান

করোনার ধাক্কা ডুমুরিয়ার কাঁকড়া-কুঁচে শিল্পে

ডুমুরিয়া (খুলনা) থেকে শেখ মাহতাব হোসেন

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২০ , ১:১৮ অপরাহ্ণ

করোনা ভাইরাসে চীনে রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন ডুমুরিয়ার কয়েক হাজার কাঁকড়া ও কুঁচে চাষীসহ সংশ্লিষ্ট শিল্পে জড়িত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। উৎপাদনের এ ভরা মৌসুমে রপ্তানি বন্ধ থাকায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। প্রতিবছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কাঁকড়ার চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় সারা বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চাষীরা খামারে কাঁকড়া মজুদ করে রাখেন। তবে চলতি বছরে চাহিদার মৌসুমে আকস্মিকভাবে চীনে করোনা ভাইরাস মহামারী রূপ নেয়ায় চীনের সঙ্গে আমদানি রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ। এতে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে দেশের সম্ভাবনাময় কাঁকড়া ও কুঁচেশিল্প। অর্থকষ্টে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে চাষী ও শ্রমিকদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনা ভাইরাস আক্রমনের ফলে গত ২৫ জানুয়ারি থেকে চীনে কাঁকড়া ও কুঁচে রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। শুধু তাই নয়, ডুমুরিয়ার কুঁচে ও কাঁকড়া ব্যবসায়ীদের ঢাকার রপ্তানিকারকদের কাছে আটকে গেছে কয়েক কোটি টাকা। একদিকে ব্যবসা বন্ধ, অন্যদিকে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পাওনা টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে বিপাকে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট ডিপো মালিকরা। অন্যদিকে মজুদ করা কাঁকড়া-কুঁচে বিক্রি করতে না পারায় নষ্ট হতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে অতি দ্রুত চীনের বিকল্প আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি করতে না পারলে চরম বিপর্যয় নেমে আসবে সম্ভাবনাময় কাঁকড়া ও কুঁচে শিল্পে।

ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের উৎপাদিত কুঁচে ও কাঁকড়ার ৯০ শতাংশ রপ্তানি হয় চীন। বাকি ১০ শতাংশ রপ্তানি হয় ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে। আর উৎপাদিত কাঁকড়া ও কুঁচের সিংহভাগ উৎপাদন হয় সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলায়। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে গত ২৫ জানুয়ারি থেকে চীনে রপ্তানি বন্ধ থাকায় আহরিত কুঁচে ও কাঁকড়া মরে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এদিকে ব্যবসা বন্ধ থাকায় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের পাওনা দিতে না পারছেন না আড়ৎদাররা। সর্বপরি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম খাত কাঁকড়া ও কুঁচে রপ্তানি করতে না পারায় সরকারও রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে।

ডুমুরিয়ার কাঁকড়া ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ মোল্লা বলেন, চীনে কাঁকড়া ও কুঁচে রপ্তানি না হলে পুঁজি হারিয়ে বেকার হবে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার মানুষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন ছাড়া অন্য দেশে বাংলাদেশি কাঁকড়া ও কুঁচের নতুন বাজার সৃষ্টি জন্য সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

এব্যাপারে পাইকগাছা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলাতে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়, তার অধিকাংশ ঘেরেই কাঁকড়া পাওয়া যায়। তাছাড়া প্রায় দুইশ হেক্টর জমিতে আলাদাভাবে কাঁকড়ার চাষ হয়। তবে দিন দিন কাঁকড়া চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

আবু বকর সিদ্দিক আরো জানান, চলতি মৌসুমে ডুমুরিয়া উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন কাঁকড়া উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ করোনা ভাইরাসের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁকড়া রপ্তানি হচ্ছেনা বলেও চাষীরা জানাচ্ছেন। চীনের বাইরে বিকল্প বাজার তৈরিতে সরকার কোনো পরিকল্পনা করছে কিনা এ ব্যাপারে জানান, এটা মূলত সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করেন। সেটা সরকারের ব্যাপার। তবে এই মুহূর্তে তাদের কাছে কোনো খবর নেই।

এনএম