মেধা পাচার বন্ধ হওয়া জরুরি

আগের সংবাদ

লড়ে যাও গড়ে যাও লেখ নতুন ইতিহাস...

পরের সংবাদ

যুবাদের সফলতায় বিশ্বজয়ের ইতিহাস

জুবায়ের আহমেদ

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০ , ৭:০১ অপরাহ্ণ

১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) গঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ ৪৮ বছরে এই প্রথম বৈশ্বিক শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। প্রমীলা দল কিংবা জাতীয় দল নয়, দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিলেন আকবর আলীর নেতৃত্বাধীন যুবারা। কিংবদন্তি রাষ্ট্রনায়ক নেলসন ম্যান্ডেলার দেশ সাউথ আফ্রিকার প্রচেফস্ট্রুমে ভারতের মতো শক্তিশালী দল, যারা পঞ্চমবারের মতো শিরোপা জেতার স্বপ্ন নিয়ে ফাইনালে নেমেছে, তাদের ব্যাটে-বলে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব উনিশ দল বাজিমাত করেছে। ভারতের সঙ্গে বারবার বড় ম্যাচগুলোতে পরাজয়ের হতাশা কাটিয়ে বিশ্বকাপের মতো বড় ট্রফি অর্জনের মাধ্যমেই ভারত ভীতি দূর করেছে বাংলাদেশ। যুবাদের বিশ্বজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন সূর্য উদিত হয়েছে।

১৯৮৮ সালে প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ আয়োজন হওয়ার পর দীর্ঘ ১০ বছর পর তথা ১৯৯৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয় আইসিসি যুব বিশ্বকাপ। ১৯৯৮ সালেই প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপে অংশ নেয় বাংলাদেশ। তখন থেকে নিয়মিতই যুব বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশ দলের সেমিফাইনাল খেলাই ছিল সর্বোচ্চ সফলতা। মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মর্তুজা, সৈয়দ রাসেল, আফতাব আহমেদ, নাফিস ইকবাল, শাহাদাত হোসাইন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, সামসুর রহমান, মুশফিকুর রহিম, রুবেল হোসেন, এনামুল হক বিজয়, সৌম্য, সাদমান, নাজমুল হোসাইন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজদের মতো ক্রিকেটাররা যা পারেননি, তাই করে দেখিয়েছেন পারভেজ হোসাইন ইমন, শরিফুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান, আকবর আলীরা।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সব উন্মাদনা ও ভাবনার মাঝেও বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলের বিগত কয়েক বছরের সফলতা ছিল দুর্দান্ত। ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের জয়ের ভালো সম্ভাবনা থাকলেও সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। এবার সাউথ আফ্রিকার মতো কঠিন কন্ডিশনেও সব প্রতিক‚লতাকে পেছনে ফেলে এবং ভারত বাধা অতিক্রম করে দেশকে এনে দিয়েছে বিশ্বকাপ শিরোপা। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে এবং বিশ্ব ক্রিকেটাঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরো মজবুত করতে যুবাদের শিরোপা জয় বেশ কার্যকর ভ‚মিকা রাখবে নিঃসন্দেহে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলে সাকিব-তামিম-মুশফিকদের মতো তারকা ক্রিকেটার থাকলেও দলগত নৈপুণ্য ভালো না হওয়ায় অনিয়মিত সফলতার বৃত্ত ভেঙে এখনো ধারাবাহিক হতে পারেনি বাংলাদেশ জাতীয় দল। ২০০৬ সালকে সফলতায় রাঙিয়ে দিয়েছিলেন শাহরিয়ার নাফিজ-মাশরাফি-আফতাব-আশরাফুলরা। সেখান থেকে নতুন দিনের সূচনার মাধ্যমে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারত ও আফ্রিকাকে হারানোর পর ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হারানোর গৌরব, ২০১২ সালের এশিয়া কাপ ফাইনাল খেলা, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা, ২০১৫ সালে ঘরের মাটিতে ধারাবাহিক সফলতা পাওয়া, ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন ট্রফিতে সেমিফাইনাল খেলা, ২০১৬ ও ২০১৮ সালের এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলা বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম সেরা সফলতা হলেও এক দলবদ্ধ হয়ে পারফর্ম করতে না পারায় বাংলাদেশ দল একজন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান পেলেও বড় মঞ্চে সফলতা পাওয়া সম্ভব হয়নি এখনো।

১৯৯৮ সালের যুব বিশ্বকাপে খেলা যুবাদের মাধ্যমেই জাতীয় দলে নিয়মিত পারফর্ম করা ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ২০০৬ সালের যুব বিশ্বকাপে খেলা সাকিব-তামিম-মুশফিকদের হাত ধরে আজকের বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে যুব দল থেকে উঠে আসা রুবেল হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, এনামুল হক বিজয়দের অনেকেই জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত শুরু করে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারলেও দিনে দিনে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দল বেশ শক্তিশালী দল হিসেবে বিশ্বকাপসহ দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোতে পারফর্ম করেছে। আকবর আলীর নেতৃত্বাধীন দলটিও গত ২ বছরে অসাধারণ পারফর্ম করার ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে বিশ্বজয় করেছে।

মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মাহমুদুল্লাহ, মুশফিক, রুবেলরা পারফর্ম করে বাংলাদেশ দলকে আজকের অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফর্ম আশানুরূপ না হলেও আকবর আলী, শরিফুল, তানজিদ হাসান তামিম, তানজিম হাসান সাকিব, রাকিবুলদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিয়ে গড়ে তুলতে পারলে সাকিব-তামিমদের ক্যারিয়ারের শেষ সময়ে মুস্তাফিজ-সৌম্য-মিরাজ-শান্তদের পাশাপাশি শরিফুল, আকবর আলীদের হাত ধরে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ জিতবে। আকবর আলীদের হাত ধরে বিশ্বজয়ের পর টাইগার সমর্থকদের এখন নতুন স্বপ্ন।

ঢাকা।

[email protected]

এসআর