স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড

আগের সংবাদ

যুবাদের সফলতায় বিশ্বজয়ের ইতিহাস

পরের সংবাদ

মেধা পাচার বন্ধ হওয়া জরুরি

আনোয়ারুল হক নিজামী

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০ , ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছরই অসংখ্য শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। তাদের মধ্যে অধিকাংশই পড়াশোনা শেষ করে সেখানে চাকরিতে ঢুকে পরবর্তী সময়ে সেখানকার স্থায়ী নাগরিক হয়ে যান। এতে বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থী হারাচ্ছে। একজন মেধাবী দেশে যখন তার যোগ্যতা অনুসারে চাকরি না পান, তখন তিনি হতাশ হবেন- এটাই স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে নিরাপদ, সচ্ছল জীবনযাপনের জন্য তিনি যদি বিদেশে গমন করেন, তবে তাকে দোষ দেয়া যায় না। কাজেই বিদেশে মেধা পাচার রোধে দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষকে মেধাবীদের দেশে যথাযথ মূল্যায়নে এখনই সচেতন হতে হবে। এ দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের যথাযোগ্য মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের দেশের কল্যাণে নিয়োজিত করতে হবে।

উচ্চ শিক্ষালয়গুলোর নিয়ন্ত্রক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সবশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য দিয়ে শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে ব্যয় সামঞ্জস্য করার ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। একজন উচ্চ শিক্ষার্থীর মেডিকেল, বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং, পিএইচডি ও অন্যান্য শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তহবিল ছাড়াও সরকারের রাজস্ব খাত থেকে বড় একটা অংশ ব্যয় করতে হয়। এই শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবন শেষে দেশের কল্যাণে কাজ করবে, এটাই দেশ চায়। অথচ বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করে তারা বিদেশে পাড়ি জামিয়ে ওই দেশের সেবা করছেন। আমাদের গরিব দেশের মানুষের করের টাকায় অর্জন করা মেধা চলে যাচ্ছে অন্য দেশে। কিন্তু কেন চলে যাচ্ছেন মেধাবীরা এই প্রশ্ন সবার। গভীর পর্যবেক্ষণে দেখা যায় বিশ্বায়নের যুগে তাল মেলাতে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছেন ঠিকই। তবে তারা যদি দেশ থেকে চিরতরে হারিয়ে যান! ভেবে দেখুন। হারিয়ে যাচ্ছে। মেধাবীরা যদি দেশ থেকে হারিয়ে যান, এটা মেধা পাচার। দেশের মাটিতে বড় হয়ে, সেখানে উচ্চশিক্ষা নিয়ে, পরে শিক্ষকতাসহ প্রথম সারির বিভিন্ন পেশার কর্মক্ষেত্র ছেড়ে বিদেশে গমন। ভিন দেশের উন্নত গবেষণা ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আরো যোগ্য করেন। অনেকেই পারেন, কেউবা নয়। তবু যেন হাল ছাড়া নয়, থিতু হয়ে পড়ে থেকে সেসব দেশে স্থায়ী হয়ে যান। দেশকে নিয়ে ভাবেন, কেউ দেশের জন্যও কাজ করেন।

উন্নত বিশ্বে শিক্ষা ও গবেষণায় রাজনীতির ভিন্ন ভিন্ন রং নেই। জাতি তৈরির মহান পেশা শিক্ষক হতে হলুদ-বেগুনি, সাদা দল নয়, যোগ্যতা ও গবেষণার মানই মুখ্য। বিশ্ববিদ্যালয় আর বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গবেষকরা দিন-রাত কাজ করেন আবিষ্কারের নেশায়। শিক্ষা ও গবেষণায় অর্জিত ফসল ছড়িয়ে যাচ্ছে সবার কাছে- কৃষি, শিল্পকারখানায় সব জায়গায়। বিদেশের মাটিতে ওদের সঙ্গে মিশে প্রতিযোগিতায় আমরাও পারি। দেশেও সম্ভব। নিজ জায়গায় স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধের খুব দরকার। রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। উন্নয়নশীল দেশের জন্য তুখোড় মেধাবীদের সুবিধা দিয়ে দেশের জন্য কাজে লাগাতে হবে।

মীরসরাই, চট্টগ্রাম।

[email protected]

এসআর