গৃহবধূর শ্লীলতাহানিতে পিটুনি, আত্মরক্ষায় ছিনতাইনাটক!

আগের সংবাদ

নৌযান থেকে মাশুল ও জরিমানার বিধান রেখে বাতিঘর আইন পাস

পরের সংবাদ

বিপজ্জনক বিদেশযাত্রা ও রোহিঙ্গা পাচার

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০ , ৮:২৪ অপরাহ্ণ

বঙ্গোপসাগর দিয়ে অবৈধ বিদেশযাত্রা বা বিদেশে পাঠানোর নামে মানব পাচার বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পাচার হওয়ার পথে অনেকে মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন্সের ছেঁড়াদ্বীপে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের একটি নৌকা ডুবে ১৫ জনের সলিলসমাধি ঘটেছে। কাঠের তৈরি ইঞ্জিনচালিত ছোট আকারের নৌকাটিতে ১৩৮ জন যাত্রী ছিল বলে জানিয়েছে উদ্ধারপ্রাপ্ত লোকজন। যাত্রীদের প্রায় সবাই রোহিঙ্গা এবং তাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। নৌকার ৭২ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। অর্ধশত নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। মিয়ানমারে নির্যাতন এবং বাংলাদেশে দীর্ঘদিন শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপনে রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারগুলো হতাশ হয়ে পড়েছে, ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপজ্জনকভাবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে দুর্দশগ্রস্ত এই জীবন থেকে তারা পালিয়ে বাঁচতে চেয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমাদের সবার বোধোদয় হওয়া উচিত। মানব পাচার আমাদের দেশে একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। প্রধানমন্ত্রী নিজেও পাচার বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে এর কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না, এটাই উদ্বেগের। মানব পাচার একটি জঘন্য অপরাধ। পাচারের সংঘবন্ধ চক্রের বিশ্বজুড়ে বিস্তৃতি রয়েছে এবং ক্রমেই মাত্রা বাড়ছে। বাংলাদেশের জন্যও এটি একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত। প্রতিনিয়ত এ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ব্যাপক হারে মানুষ পাচার হচ্ছে। সত্যিকার পরিস্থিতিটা এই যে, কোনো সরকারই মানুষ পাচারের বিরুদ্ধে নানান পদক্ষেপ নিয়েও পাচার প্রতিরোধে সাফল্য অর্জন করতে পারছে না।

পাচার বিষয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলোর তথ্যমতে- লালমনিরহাট, হিলি, কিরণগঞ্জ, সোনা মসজিদ, রাজশাহীর চরঘাট, খিদিরপুর, সাতক্ষীরা, কলারোয়া, কাকডাঙ্গা, বৈকান্দি, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, চুয়াডাঙ্গা, জীবননগর, জয়পুরহাট, পাঁচবিবি, লালমনিরহাটের বুড়িমারি, পাটগ্রামের সীমান্ত এলাকা ইত্যাদি নারী ও শিশু পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মোটা অঙ্কের বেতনের লোভ দেখিয়ে সমুদ্রপথে মানুষ পাচারের ঘটনা বেশি হচ্ছে। পাচার হওয়ার পথে অনেকে সাগরে দস্যুদের কবলে পড়ে বা নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছে কিংবা আটক হয়ে বিদেশের জেলে বন্দি থাকছে। যারা পাচার হতে পারছে তারা মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডে শ্রমদাসে পরিণত হচ্ছে। জাতিসংঘ ২০০৩ সালে বহুজাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধ বিষয়ক আইন প্রণয়ন করেছে।

এর ফলে মানব পাচারের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্ত ও বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে আমাদেরও উদ্যোগী হতে হবে। অবৈধ বিদেশযাত্রা ও মানব পাচার রোধে প্রথমত সরকারকে আরো বেশি তৎপর হতে হবে। প্রতারক ও পাচার চক্রকে ধরতে গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। সমুদ্রপথে পাচার রুটগুলোতে টহল নজরদারি আরো জোরদার করতে হবে। পাচারের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে অবৈধ বিদেশ গমনের ঝুঁকি ও পাচারের বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ কাজে গণমাধ্যম, এনজিও, সামাজিক সংগঠনগুলোকেও কাজে লাগানো দরকার। আর গুরুত্বপূর্ণ হলো বৈধ পথে ন্যায্য খরচে বিদেশে কাজ নিয়ে যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে হবে এবং এ সম্পর্কে গণমানুষকে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল করতে হবে।

এসআর