সময়ে শেষ হচ্ছেনা কাজ, জন অসন্তোষ

আগের সংবাদ

উন্নয়ন বনাম জাতিগত উন্নয়ন

পরের সংবাদ

টেকসই উন্নয়নে প্লাস্টিক বর্জ্যরে পুনর্ব্যবহার

নাজমুন্নাহার নিপা

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০ , ৬:১৭ অপরাহ্ণ

পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে প্লাস্টিক। সাধারণত উদ্ভিদকুল, জলজ প্রাণী, দ্বীপ অঞ্চলের প্রাণীরা প্লাস্টিক বর্জ্যরে জন্য মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এসব প্রাণীর বাসস্থান, খাদ্য সংগ্রহের স্থান এবং উদ্ভিদের খাদ্য গ্রহণের পথে বাধার সৃষ্টি করে প্লাস্টিক বর্জ্য। প্লাস্টিক বর্জ্যরে কারণেই মাটির জৈব উপাদানের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে এবং স্বাভাবিক পুষ্টি উপাদান উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে জলজ পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী খাবার হিসেবে ভয়ানক প্লাস্টিক গ্রহণ করছে, যার ফলে জলজ বাস্তুসংস্থানের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষও। গবেষণায় দেখা গেছে, থাইরয়েডের হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণের জন্য এই প্লাস্টিক দূষণ বিশেষভাবে দায়ী।

আমরা সবাই জানি, গ্রিনহাউস প্রক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যে কারণে হিমালয়ের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নিচে অবস্থানরত দেশগুলোর প্রায় অনেক অঞ্চলেই সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধিজনিত প্রভাব বাড়বে। আমরা সাধারণত যে প্লাস্টিক বোতলগুলো ব্যবহার করে থাকি সেগুলোর মূল উপাদান পলিইথিলিন। একটি গবেষণায় দেখা যায়, এক আউন্স পরিমাণ পলিইথিলিন প্রস্তুত করলেই প্রায় ৫ আউন্স পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুতে নির্গত হয়। এর মানে দাঁড়ায়- আমরা যতটুকু প্লাস্টিক দ্রব্য তৈরি করছি তার থেকে বেশি পরিমাণ দূষিত পদার্থ বায়ুতে নির্গমন করছি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিকের চাহিদা বেড়েই চলছে এবং বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। যা টেকসই উন্নয়নে বাধাদান করছে।

প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে নানা সময়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেও পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয় এর ব্যবহার ও নিষিদ্ধ উৎপাদন। কারণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে প্লাস্টিকের ব্যবহার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জনজীবনে প্লাস্টিক ছাড়া আমরা এক মুহূর্ত কল্পনা করতে পারি না। আর ব্যবহার শেষে প্লাস্টিকটির জায়গা হয় রাস্তায় না হয় ড্রেনে, যা পরিণত হয় বর্জ্য।ে তাই আমাদের প্রাধান্য দেয়া উচিত এর পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ, পুনর্ব্যবহারের ওপর। একটি প্লাস্টিক বহুবার ব্যবহারের কোনো প্রক্রিয়া গ্রহণের নমুনা দৃশ্যমান হচ্ছে না। আমাদের জীবন ধারায় প্লাস্টিকের ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলছে, যার সিংহভাগই পচনশীল নয়। সাধারণ জনগণও পুনর্ব্যবহার নিয়ে সচেতন নয়, কারণ প্লাস্টিক এখন সহজলভ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে প্লাস্টিকের ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনাও জরুরি।

পুনর্ব্যবহার করা কেবল পরিবেশেরই উপকার করে না, এটি অর্থনীতি ও সামাজিক অবস্থায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বলা হয়ে থাকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ সব রোগের আধার, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন থাকলে মানুষের রোগবালাই হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। পুনর্ব্যবহার অন্যান্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চেয়ে অত্যন্ত টেকসই বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ যোগ্যতা অর্জন করেছে যা মাটি, পানি ও বায়ুদূষণের রোধকল্পে অনেকাংশে ভ‚মিকা রাখে। তাই প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে এবং সাধারণ মানুষ যেন এগিয়ে আসে সে জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্লাস্টিক বর্জ্যরে ক্ষতিকর দিক থেকে রক্ষা পেতে পুনর্ব্যবহার আবশ্যক এবং সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই নিশ্চিত হবে টেকসই উন্নয়ন।

শিক্ষার্থী
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

এসআর