টেকসই উন্নয়নে প্লাস্টিক বর্জ্যরে পুনর্ব্যবহার

আগের সংবাদ

বীরদের বরণ, উষ্ণ সংবর্ধনা

পরের সংবাদ

উন্নয়ন বনাম জাতিগত উন্নয়ন

মো. আখতার হোসেন আজাদ

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০ , ৬:২৩ অপরাহ্ণ

বিশ্বের মানচিত্রে জন্মলাভের ৪৮ বছর পেরিয়ে পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের প্রহর গুনছে। টানা তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত রয়েছে। তর্ক-বিতর্ক থাকলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে আমরা কম-বেশি উন্নয়ন করেছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে অদৃশ্যমান উন্নয়নে আমাদের প্রবৃদ্ধি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। রাজনৈতিক সহিংসতা, নেতাদের বাগযুদ্ধ, দুর্নীতি, সন্ত্রাসসহ নৈতিকতার প্রশ্নে আমরা আজো উন্নয়ন করতে পারিনি। খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জন হলেও দেশে বিরাট আকারে নিরাপদ খাদ্য সংকট রয়েছে।

সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সেবা পেতে নাগরিকদের হয়রানি যেন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সরকারি চাকরি পেতে গোপন আর্থিক লেনদেন মামুলি বিষয়ে রূপান্তরিত হয়েছে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, বিরোধী শক্তিকে দমন করাকেই প্রধান কাজ হিসেবে বেছে নিয়েছে। উন্নয়ন ও সমস্যার সমাধানকে তৃতীয় বিষয়ে রূপান্তরিত করে সরকার দলীয় নেতাদের বক্তব্যের মূলভাব যেন বিরোধী দল ক্ষমতায় থাকার সময় কী কী অপকর্ম করেছে শুধু সেগুলোই উল্লেখ করা।

অপরপক্ষে বিরোধী দলও সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করাকেই প্রধান কর্ম হিসেবে গ্রহণ করেছে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান উদ্দেশ্য যেন ক্ষমতার গদি দখল করা। আবার সাধারণ শিক্ষার্থীরা ন্যায্য দাবিতে কোনো আন্দোলন করলে সরকারদলীয় ছাত্রসংগঠনের বাধার মুখে পড়তে হবে, এটিই যেন এ দেশের রীতিতে রূপ নিয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহপাঠীর হাতে রক্তাক্ত হয়েছে আরেক সহপাঠী। বুক খালি হয়েছে শত শত বাবা-মায়ের। প্রচলিত নষ্ট রাজনীতির জন্য আমাদের দেশের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন বারবার হোঁচট খাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হানাহানির জন্য অকালে ঝরে যাচ্ছে অসংখ্য মেধাবীর প্রাণ। কেবল কাগজে উন্নয়নের মাধ্যমে জাতিগত উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নৈতিকতা ও সহনশীলতা গুণের উন্নয়নের সংমিশ্রণের মাধ্যমেই আসবে আমাদের কাক্সিক্ষত উন্নয়ন। দেশ এগিয়ে যাবে, বিনির্মাণ হবে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

[email protected]

এসআর