খালেদা উঠে দাঁড়াতে-হাঁটতে পারছেন না

আগের সংবাদ

আইডিয়ালে ওড়না পড়া নিষিদ্ধের কোনো ঘটনা ঘটেনি

পরের সংবাদ

মুজিববর্ষকে সামনে রেখে জাবির উন্নয়ন প্রকল্পে গতি সঞ্চার

জাবি প্রতিনিধি:

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০ , ৫:৫৪ অপরাহ্ণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দিতে শুরু হয়েছে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প। এ প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন, প্রভোস্ট কোয়ার্টার, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন, প্রশাসনিক ভবনসহ ২৩ টি নতুন ভবন নির্মিত হবে। মুজিববর্ষকে সামনে রেখেই এসকল কাজের গতি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ২০২০/২১ সালের মধ্যেই সম্পন্ন হবে আবাসিক হল, লাইব্রেরিসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা।

বুয়েটের পরামর্শে দেশের খ্যাতনামা আর্কিটেক দিয়ে নকশা করে নির্মাণ করা হচ্ছে এসকল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সমস্যাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রথম পর্যায়েই শিক্ষার্থীদের হল নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। যেখানে দশতলা বিশিষ্ট তিনটি করে ছাত্র ও ছাত্রী হল নির্মিত হবে। তবে ছাত্র হল নির্মানে স্থান সমস্যায় থমকে থাকলেও ছাত্রীহলের নির্মান কাজ চলছে পুরোদমে। একহাজার আসন বিশিষ্ট তিনটি ছাত্রী হলের বেজমেন্ট কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। যা অল্প দিনের মধ্যেই একতলা নির্মাণ শেষ হবে। ধারণা করা হচ্ছে ডিসেম্বর মাসে এসব হলের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে।

নির্মাণ কাজের স্থানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বপ্রান্তে ১৭, ১৮ ও ১৯ নম্বর ভবনগুলো একত্রে কাজ চলছে, যা ছাত্রীদের তিনটি হলে হিসাবে গড়ে উঠবে। এর মধ্যে ১৮ নং ভবনের এমবিপিএলএটিসি-জেভি’র প্রধান প্রকৌশলি জানান, কাজ হাতে পাবার পর থেকেই আমরা পুরোদমে শুরু করেছি। বর্তমানে এখানে প্রতিনিয়ত ১৫০ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছে। পরিবেশ পরিস্থিতি ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্মাণ শেষ করতে পারবো।

জানা গেছে, হল গুলুতে থাকবে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। যার মধ্যে রয়েছে- প্রতিটি রুমে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট, তিন কক্ষ বিশিষ্ট টিভি রুম, জাকসু প্রতিনিধিদের জন্য এসি কক্ষ, কার পার্কিং, জিমনেসিয়াম, লিফট সহ পুরো ভবনে ফেয়ার ফেস। ধারনা করা হচ্ছে তিনটি ভবন নির্মাণ শেষ হলে তা ছাত্রীদের জন্য মডেল হলে পরিণত হবে। অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকর্তা বলেন, মুজিববর্ষকে সামনে রেখে আমরা দ্রুত গতিতে সুন্দরভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। পুরো কাজ সম্পন্ন হলে সত্যিই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। নতুন হল নির্মাণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা বলেন, নির্মাণ কাজের জন্য সাময়িক অসুবিধা হলেও, শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথমেই হল নির্মানকে সাধুবাদ জানাই। হলগুলো নির্মাণ শেষ হলে সকল আবাসিক সমস্যা দূর হবে, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে তরান্বিত করবে।

উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ১৫০০ কোটি টাকার অর্থিক অনুদান অনুমোদন করা হয়েছে। বড় আর্থিক অনুদান পেয়েই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাতে নিয়েছে মহা পরিকল্পনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের শেষ দিকে উদ্বোধন করা হয় এসব নির্মাণ কাজের। নির্মাণ কাজ উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম তাঁর ভাষণে বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ বরাদ্দের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। শিক্ষা ও গবেষণার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশ্ববিদ্যালয় দেশ-বিদেশে পরিচিতির ক্ষেত্রে বিশেষ মর্যাদা লাভ করবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা নিরসন এবং দেশের উচ্চশিক্ষার চাহিদার বিপরীতে আরও অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করা সম্ভব হবে।

ডিসি