নলছিটিতে চতুর্থ শ্রেণীর শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা

আগের সংবাদ

তিন বছরের মধ্যে আমরা পেয়াজ রপ্তানীতে সমর্থ হবো

পরের সংবাদ

মানসম্মত বইয়ের খোঁজ

এই বইয়ের ভিড়ে সেই বই নেই

শরীফা বুলবুল

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২০ , ১০:০২ অপরাহ্ণ

মোহিতলাল মজুমদারের ‘পুঁথির প্রতাপ’ পড়ে যারা বইমেলায় আসেন তাদের নিয়েই যত সমস্যা। একসময় জ্ঞানীগুণীরা একটি বা দুটি পুঁথিতে সারা জীবনের সাধনা যে লিপিবদ্ধ করতেন; সে ধারা তো আর নাই। বই মানে যক্ষের ধন- এমনটা ভাবারও নেই কোনো অবকাশ। বরং প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় প্রেস থেকে এখন টপাটপ বই বের হচ্ছে। ‘টাকা দেন, বই নেন’ তত্ত্বে বিশ্বাসী প্রকাশকের সংখ্যাও বাড়ছে হু হু করে। উল্টো দিকে ‘টাকা দিয়ে বই বের করছি, তাতে প্রকাশকের কী!’ এমন ভাবসাব তরুণ লেখকদের মধ্যে বেশি বেশিই। যে কারণে ফেসবুকাররাই হয়ে উঠছেন এক একজন ‘জনপ্রিয়’ লেখক।

ঠিক এমন বাস্তবতায় ‘মানসম্মত’ বইয়ের জন্য যাদের হাহাকার তাদের জন্য কিছুই করার থাকছে না আমপ্রকাশকদের। বাণিজ্য ঠিকঠাকমতো হলে ‘দায়বদ্ধতা’ নিয়ে ভাবারই বা প্রয়োজন কি? এমন মনোভাব অনেক প্রকাশকের। তবে উচ্চাবিলাসী বইপ্রেমীদের ব্যাপার-স্যাপার খানিকটা অন্যরকম বৈকি। মেলায় হাজার হাজার বইয়ের ভিড়ে তারা ‘মানসম্মত’ বই খুঁজে হয়রান হয়ে যাচ্ছেন। শেষমেশ হাল ছেড়ে দিয়ে চিরায়ত বইয়ের দিকেই ঝুঁকছেন।

আর অন্যদিকে, মানসম্মত বইয়ের সংকট আর কদরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিবছরই বাড়ছে ‘পুঁথির প্রতাপ’। শিক্ষার্থীদের কাঁধে কাঁধে যে হারে বইয়ের ওজন বাড়ছে একই হারে মেলায় স্তূপীকৃত হয়ে উঠছে হরেক রকমের ‘বইপণ্য’। শুধু কি তাই? মেলার পরিসর যেমন প্রতিবছর রেকর্ড ভাঙছে একই হারে রেকর্ড ভাঙছে অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও।

লেখকের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বেড়ে পাঠকের সংখ্যাই কমিয়ে দিচ্ছে। যদিও বেশি বই প্রকাশ আর বেশি বেশি লেখক সৃষ্টির কারণে কেউ কেউ অতি উল্লাসিত কিংবা ভীষণ আশাবাদী হয়ে উঠছেন। তাদের সাফ কথা, প্রকাশনা শিল্প তড়তড় করে শিখরে উঠছে আর লেখকদের ‘বাম্পার ফলন’ হচ্ছে। তৃপ্তির ঢেকুর তুলে অনেকে আবার দিবানিদ্রায় যাচ্ছেন।

তবে বিপরীত চিত্রটাও কিন্তু রয়েছে। প্রতিবছরই অমর একুশে গ্রন্থমেলা শেষে মানসম্মত বই নিয়ে জিকির ওঠে যেন। ভালোমানের বই প্রকাশে কাঠোর তাগিদও দেয়া হয়। কোয়ান্টিটি নয়, বরং কোয়ালিটি- এমন মূল্যবান উপদেশ বিতরণ করা হয় সমাপনীর দিনে বাংলা একাডেমিসহ জ্ঞানীগুণীদের পক্ষ থেকে। তবে সারাবছর উপদেশবাণী নীরবেই কাঁদে বিপরীতে দুষ্টুচক্র আর বাণিজ্যিক থাবায় বেরুতেই থাকে হাজার হাজার মানহীন বই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিমেষ দত্ত বলেন, বইমেলা উপলক্ষে প্রতিবছর এই যে হাজার হাজার বই প্রকাশিত হচ্ছে, তার যেমন ভালো দিক আছে, তেমনি মন্দ দিকও কম নয়। ভালোর চেয়ে মন্দের পাল্লাই ভারী। মন্দ বলতে মানসম্মত বইয়ের কথাই বলছি। তাড়াহুড়ো করে বই প্রকাশ করতে গিয়ে মানটাই রক্ষা করা যাচ্ছে না। তার চেয়ে চিরায়ত বই-ই তো ভালো।

আরেক শিক্ষার্থী ইউল্যাবের তানভির শাহিদ বলেন, বাংলাদেশে সবকিছু যেন ব্যবসাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। প্রতিটি প্রকাশনীর ভালোমানের বইয়ের জন্য স্বচ্ছ পরিকল্পনা আর জবাবদিহিমূলক নিজস্ব সম্পাদনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রকাশনীর মান নিশ্চিতভাবেই হতে হবে সেবাকেন্দ্রিক।

তবে আত্মতৃপ্তির আভাস দিয়ে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি প্রকাশক ফরিদ আহমেদ বলেন, সত্যিকথা বলতে বইমেলা এখন উৎসবে পরিণত হয়েছে। তাই যারাই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত তারা সবাই চান একটি করে বই প্রকাশ হোক। হয়তো তখনও সেই লেখকের পাণ্ডুলিপিটি ছাপার জন্য তৈরি নয়। কিন্তু বইটি ঠিকই দেখা যায় প্রকাশ হচ্ছে। আর এ কারণেই বই প্রকাশের সংখ্যা বাড়ছে।

তবে ফরিদ আহমেদের দাবি, বেশি বই প্রকাশ হচ্ছে বলেই অনেক সময় ভালো বই চাপা পড়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর মেলায় যে মানসম্মত কিছু বই প্রকাশ হয় তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

এনএম