মাছ ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা

আগের সংবাদ

আনসার আল-ইসলামের পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

মেয়েদের আত্মরক্ষায় ‘সাহস’

সাবিরা নুপুর

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০ , ১:২৩ অপরাহ্ণ

আকলিমা (ছদ্ম নাম) প্রায় প্রতিদিনই স্কুলে বা বাসার বাইরে কোনো জায়গায় যাওয়া আসার পথে প্রায়ই বখাটের দ্বারা ইভটিজিংয়ের শিকার হতো। তখন তাকে চুপচাপ সেখান থেকে চলে যেতে হতো। একপর্যায়ে এমন অবস্থা দাঁড়ালো বাড়ির বাইরে যাওয়াই আকলিমার জন্য বন্ধ হয়ে যেতে লাগল। পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার পথে। বাসায় সমস্যার কথা বলতে সবাই তাকেই দোষারোপ করতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে বাবা-মা সিদ্ধান্ত নিলেন মেয়ের যেহেতু পড়ালেখায় আগ্রহ নেই তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হোক।

প্রতিনিয়তই এমন পরিস্থিতিতে হাজার হাজার মেয়েকে পড়তে হচ্ছে। পরিবারের চাপে বিয়ে করতে বাধ্য হচ্ছে অথবা আত্মহত্যা করছে। অথবা ঘরের কাজে ব্যস্ত আছে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০১৯ সালে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৮৬ জন; ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮৪৬ জন, ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছে ১১৫ জন; নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৪৯ জন শিশু যাদের বেশির ভাগই মেয়ে শিশু।

এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ একটি কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উদ্যোগটির নাম ‘সাহস’। সেটি হচ্ছে মেয়ে শিশুদের আত্মরক্ষার কৌশলের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া। যাতে মেয়েরা যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেদের রক্ষা করতে পারে। এক বছর ধরে প্রায় ২০০ মেয়ে শিশু প্রথম পর্যায়ে কারাতে প্রশিক্ষণ শেষ করে এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। এই কার্যক্রমটি রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রায় ২০০ মেয়ে যেন নতুন একটি জীবন পেয়েছে। তাদের বাড়ির এবং আশপাশের প্রতিবেশীদের ব্যবহার পরিবর্তন হয়েছে। বখাটে ছেলের দল এখন আর পথরোধ করে দাঁড়ানোর সাহস পায় না। আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ মেয়েগুলোকে সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে যা তাদের অতীতে ছিল না। স্কুলে তাদের উপস্থিতির হার বেড়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন দেখার ধরন ও পরিবর্তন হয়েছে। এই মেয়েগুলোকে দমানো যাবে না। তারা এখন তাদের এলাকার সব মেয়ের জন্য রোল মডেল হিসেবে কাজ করছে।

শুধু মেয়েদের আত্মরক্ষার ওপর প্রশিক্ষণ দিলে হবে না। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেদের সচেতন করতে হবে মেয়েদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণ পরিবর্তনে। সাহস কর্মসূচির আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ১৫০ ছেলে শিশুকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে কীভাবে তার ইতিবাচক আচরণ এর মাধ্যমে বাড়িতে, কমিউনিটিতে মেয়ে শিশুর প্রতি সব প্রকার বৈষম্য ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বন্ধে উদ্যোগী হতে পারে। আমরা অভাবনীয় পরিবর্তন দেখেছি প্রশিক্ষিত ছেলেগুলোর মধ্যে। প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ছেলেশিশুরা এখন গৃহস্থলি কাজে অংশগ্রহণ করছে। রাস্তায় মেয়েদের দেখলে এখন আর ইভটিজিং করে না। বন্ধুদের এ বিষয়ে সচেতন করছে। ছেলেশিশুরা এখন বাড়িতে এবং কমিউনিটিতে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বন্ধে জোরালো ভূমিকা রাখছে।

সাহস উদ্যোগের আওতায় অভিভাবক এবং অন্য নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে যাতে করে সবাই যার যার অবস্থান হতে সক্রিয় হয় এবং মেয়ে শিশুর প্রতি সব প্রকার বৈষম্য ও সব প্রকার লিঙ্গভিত্তিক সহিংতা বন্ধে উদ্যোগী হয়। আমরা আশার আলো দেখছি। কিন্তু ওয়ার্ল্ড ভিশন একার পক্ষে মেয়ে শিশুর জন্য একটি সাম্যতাভিত্তিক বাড়ি, কমিউনিটি এবং সমাজ গঠন সম্ভব না। সবাইকে একসঙ্গে আওয়াজ তুলতে হবে। কাজ করতে হবে। নিজেদের ছেলে শিশুদের ছেলেবেলা থেকে সাম্যবাদের শিক্ষা দিতে হবে। মেয়েগুলোকে সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে হবে।

এমএইচ